বাংলা ট্রিবিউন
আ.লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে দুবারের এমপি

আ.লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে দুবারের এমপি

জোটের স্বার্থে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরপরও সেখানে আওয়ামী লীগের তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এ অবস্থায় লাঙ্গলের প্রার্থী নুরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে এই তিন প্রার্থীর লড়াই হবে—এমনটি বলছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ভোটাররা। তবে জাপা প্রার্থী নুরুল ইসলাম বলছেন, মানুষ প্রতীক দেখে আমাকে ভোট দেবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তৃতীয় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হবো আমি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ছোট করে দেখছি না। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া-৩ আসনে বিভিন্ন দলের ছয় জন এবং স্বতন্ত্র পাঁচ প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন—জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আফরিনা পারভীন (একতারা), তৃণমূল বিএনপির আবদুল মোত্তালেব (সোনালি আঁশ), জাসদের আবদুল মালেক সরকার (মশাল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের তাজ উদ্দীন মন্ডল (ডাব), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম সরদার (নোঙ্গর), স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা অজয় কুমার সরকার (কাঁচি), স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী (ট্রাক), স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ নেতা ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ (ঈগল), স্বতন্ত্র আফজাল হোসেন (ফুলকপি) ও স্বতন্ত্র নজরুল ইসলাম (কেটলি)। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজুকে এই আসনে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে আসন সমন্বয়ের স্বার্থে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। এই আসনে বিভিন্ন দলের ছয় জন এবং স্বতন্ত্র পাঁচ প্রার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের তিন জন। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার পরও নৌকার মাঝি থেকে বঞ্চিত হওয়া সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর ছেলে খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী রয়েছেন। অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আওয়ামী লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীই মাঠে বেশি সক্রিয় বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাঙ্গল মার্কার নুরুল ইসলাম তালুকদার দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নানা কারণে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার প্রতি বিরাগ। এবার তারা জাপা প্রার্থী থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সুযোগ নিচ্ছেন তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অজয় কুমার সরকার, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী এবং বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ। ভোটাররা জানিয়েছেন, দুবার দলের বাইরে এমপি প্রার্থী থাকায় এবার আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নেন। এজন্য তিনি শুধু উপজেলা নয়, তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করেন। আসনের দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভীত মজবুত করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে নৌকার টিকিটও নেন। শেষ পর্যন্ত দলের স্বার্থে তাকে সরে যেতে হয়। সঙ্গত কারণে তার বিপুল জনসমর্থন লাঙ্গলে না গিয়ে ছেলে খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদীর ট্রাক মার্কায় যাবেন। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী অজয় কুমার সরকারও বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। দুই উপজেলার সনাতনধর্মীরা তার পক্ষে থাকবেন বলে জানা গেছে। আবার ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজও পিছিয়ে নেই। সবকিছু বিবেচনায় এবার জাপা প্রার্থী নুরুল ইসলাম তালুকদারের জয় পাওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘কার পক্ষে ভোট করবো, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। দলীয় সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি জানানো হবে।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে ভোটের মাঠে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে নৌকার প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই আসনে আমি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তারপরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে ভোটের মাঠে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তারপরও জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
Published on: 2023-12-25 05:50:08.690706 +0100 CET

------------ Previous News ------------