বাংলা ট্রিবিউন
থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে বারবিকিউ তৈরির উপকরণ বিক্রির ধুম

থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে বারবিকিউ তৈরির উপকরণ বিক্রির ধুম

খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারে বছরের শেষ রাত ও নতুন বছরের প্রথম প্রহর অর্থাৎ, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্‌যাপন ঘিরে রাজধানীতে চাহিদা বেড়েছে বারবিকিউ বা ঝলসানো খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, পণ্য ও সরঞ্জামের। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও। দুই দিনের ব্যবধানে বড় মাছ, মুরগি, গরু, মসলা সবকিছুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০-৬০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত ২৫-৩০ টাকা। দেশি ও সোনালি জাতের মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। হাঁসের দাম বেড়েছে এক থেকে দেড় শ টাকা। গরুর মাংসের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। মসলার দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫০-১০০ টাকা। পুরান ঢাকার নয়াবাজার, বংশাল, কলতাবাজার, রায়সাহেব বাজার, সূত্রাপুর, সদরঘাট এলাকার মাছ, মাংস ও মসলা বিক্রির দোকানগুলোতে সরজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। ইংরেজি নববর্ষের আয়োজন ঘিরে মুরগি ও গরুর মাংসের পাশাপাশি বড় মাছ কেনার আগ্রহ আছে ক্রেতাদের। কদর রয়েছে চিংড়ি ও সামুদ্রিক মাছের। দুই থেকে তিন হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে বড় আকারের কোরাল ও অন্যান্য মাছের জন্য। দাম উঠানামা করছে গরুর মাংসের কেজিতে। ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান শেষ হলেই ৬০০ টাকার গরুর মাংস হয়ে যায় ৬৫০ টাকা। ইলিশের চাহিদাও বাড়তির দিকে। রায়সাহেব বাজারের মাংসের দোকানি আব্দুল কাদের (৫৫) জানান, বিভিন্ন উৎসবে আমাদের দোকানে মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। পহেলা জানুয়ারি উপলক্ষে এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও দাম কেন বেশি রাখা হচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে এই বিক্রেতা বলেন, আমাদের পাইকারি একটু বেশি দরে কেনা হচ্ছে। তাই খুচরা বিক্রির দাম বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম বেড়ে কেজি প্রতি ১৯০ টাকা হয়েছে। রায়সাহেব বাজারে থার্টি-ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে হাঁস কিনতে আসা সজিব (২৩) নামে একজন ক্রেতা বলেন, এমনিতেই শীতের কারণে হাঁসের দাম বেড়েছে। এখন সামনে নতুন বছর। সেটাকে সেলিব্রেট করতেও অনেকে হাঁস কিনছেন। আমরাও এসেছি হাঁস কিনতে। চারদিন আগে যে হাঁস কিনেছি ৬০০ টাকা দিয়ে, সেরকম হাঁস এখন ৭০০-৮৫০ টাকা। প্রতি হাঁসে এক থেকে দেড় শ টাকা দাম বেড়েছে। তার উপর দেশি হাঁস বলে ফার্মের হাঁস বিক্রি হচ্ছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা আরিয়ান (১৮) বলেন, থার্টি-ফাস্ট নাইটে স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করে। সেখানে হাঁস-মুরগি-গরু থেকে শুরু করে বড় সামুদ্রিক মাছসহ নানান আইটেম থাকে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এসময়ে এসবকিছুর দাম বেড়ে যায়। তবে দাম বাড়ার বিষয়টা আমরা বন্ধুবান্ধবেরা গুরুত্ব দিচ্ছি না— কারণ এমন পার্টি করতে গেলে দামের কথা চিন্তা করা উচিত না। দেশি ও সোনালি জাতের মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। এদিকে বাজারভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয় শ থেকে সাত শ টাকা দরে। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা দরে। চাহিদা রয়েছে খাসির মাংসেরও। এছাড়া বারবিকিউ তৈরির মসলার চাহিদা বেড়েছে বলে জানান মসলা ব্যবসায়ীরা। চকবাজারের মসলা ব্যবসায়ী আল আমিন (৩২) বলেন, আজ (শনিবার) সারাদিন বারবিকিউ মসলা বিক্রি বেড়েছে। একই সাথে চিলি সস ও টমেটো সসের বিক্রিও ভালো। থার্টি-ফাস্ট নাইটে মানুষ বারবিকিউ পার্টি করছে বলে চাহিদা বেড়েছে। বারবিকিউ তৈরির চুলার চাহিদাও বেড়েছে পুরান ঢাকায়। নবাবপুর রোডের বেশকিছু দোকান ঘুরে দেখা যায়, বারবিকিউ চুলা বিক্রির ধুম পড়েছে। নবাবপুর রোডের হার্ডওয়্যারের দোকানি বারবিকিউ চুলা বিক্রেতা রহমান (৪৫) জানান, বারবিকিউ তৈরির চুলা প্রতিদিন দুই-একটা করে বিক্রি হতো। তবে বিভিন্ন বড় উৎসবের সময় এই চুলা বেশ ভালো বিক্রি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। থার্টি-ফাস্ট নাইট ঘিরে বারবিকিউ চুলা বিক্রি অনেক বেড়েছে। গত দুই-তিন দিন ধরে বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক চল্লিশ-পঞ্চাশটা করে বারবিকিউর চুলা বিক্রি হচ্ছে। ছবি: প্রতিবেদক
Published on: 2023-12-31 13:19:50.043885 +0100 CET

------------ Previous News ------------