বাংলা ট্রিবিউন
ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধে ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ

ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধে ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ

ভেজাল জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধে অভিযান জোরদার করতে জেলার ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগের সভায় জ্বালানি সচিব নুরুল আলম এ নির্দেশনা দেন। সভা সূত্রে জানা যায়, দেশে ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধ ও তেল সরবরাহে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে৷ যে সব জেলায় মোবাইল কোর্ট কম হচ্ছে সে সব জেলার ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন সচিব। সভায় জানানো হয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছ থেকে এখন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রতিবেদন জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। আবার অনেক জেলা থেকে অভিযানের হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ ও পেট্রোলিয়াম আইন-২০১০ অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। সবশেষ হিসেব অনুযায়ী গত নভেম্বরে মোট ১৬ জেলা থেকে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪২ হাজার, যশোরে ১৪ হাজার, খাগড়াছড়িতে ৩ হাজার, ময়মনসিংহে ৪১ হাজার, গাজীপুরে ১০ হাজার, বগুড়ায় ২০ হাজার এবং ঝালকাঠিতে ৬ হাজার টাকা জরিমানার হিসেব পাওয়া গেছে। সভায় সচিবকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে দেশে ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধ ও তেল সরবরাহে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যত্রতত্র অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ ও মানসম্মত জ্বালানি তেল সঠিক পরিমাপে বিক্রি বা বিপণন নিশ্চিত করতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গত ১৯ নভেম্বর জ্বালানি বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেউ মাপে কম দিচ্ছেন, কেউ মেশাচ্ছেন ভেজাল। মোবাইল কোর্ট জরিমানা করলেও তাতে গ্রাহকের উপকার হচ্ছে না। ভেজাল বা ওজনে কম দিয়ে পাম্প মালিক যে পরিমাণ লাভ করছে সে তুলনায় জরিমানা সামান্য বলেই এমনটা হচ্ছে। সূত্র বলছে, পেট্রোল পাম্পগুলোর বড় চুরি ওজনে কম দেওয়া। ডিজিটাল মেশিনে গ্রাহক এটা ধরতেও পারেন না। অনেক পাম্প মালিক আবার গ্যাসক্ষেত্র থেকে কম দামে কনডেনসেট কিনে তেলের মধ্যে মিশিয়ে বিক্রি করছে। এতে দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে গ্রাহকের। প্রথমত, তিনি তেল পাচ্ছেন কম। দ্বিতীয়ত, ভেজালের কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। তেলের পরিমাপ ঠিক রাখার জন্য ক্যালিব্রেশন করা হয়। এটি এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে শুরুতে আদর্শমান যাচাই করে নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক পাম্পে ক্যালিব্রেশনেও সমস্যা রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। এটি আরও জোরদার করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য বিপণন কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নির্দেশনা দেওয়া হয় সভায়।
Published on: 2024-01-10 05:07:21.261794 +0100 CET

------------ Previous News ------------