বাংলা ট্রিবিউন
দায়িত্ব পেয়ে যা বললেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

দায়িত্ব পেয়ে যা বললেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী, পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। আজ শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা গণমাধ্যমকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। *বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান* বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে সব চাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত প্রতিহত করা। *তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত* শপথ নেওয়ার পর বঙ্গভবন থেকে বের হবার পরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, দেশের জন্য তাকে যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি তা পালনের চেষ্টা করবেন। *মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী* *আবদুর রহমান* তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রহমান বলেন, 'দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মন্ত্রিত্ব একটা স্বীকৃতি। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। এতে আমার আরও বেশি দায়িত্ব ও কর্তব্য বাড়ল। আমার জীবনকে উৎসর্গ করলেও এই ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না।' তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন সেই দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই আমার বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রিসভার চ্যালেঞ্জ হবে আমাদের ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন করা। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব আমাদের এই পররাষ্ট্রনীতি আমার অবলম্বন করে যাবো।' *ডাক* *-* *টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ* *-* *প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক* ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রতিক্রিয়ায় জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই অল্প বয়সে আমাকে তিনবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যেন সেই বিশ্বাস ও আস্থা ধরে রাখতে পারি। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট গভর্নমেন্ট— এই ৪ মূলনীতি নিয়ে কাজ করে ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করবো। তথ্যপ্রযুক্তিতে রফতানি আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আমরা কাজ করবো। *পরিবেশ* *,* *বন ও জলবায়ু পরিবর্তন* *মন্ত্রী* *সাবের হোসেন চৌধুরী* গণমাধ্যমের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন টেকসই উন্নয়নের কথা বলি তখন বন, পরিবেশ, জলবায়ু এই বিষয়টাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। সুতরাং এই বিষয়টা আমরা কতটুকু রাখতে পারছি সেটার ওপর নির্ভর করবে আমাদের প্রকৃত প্রবৃত্তিটা কী হয়। আন্তর্জাতিকভাবে যদি বলেন, পৃথিবীর নানা তহবিল গঠন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং এই ক্ষতির জন্য আমরা মোটেও দায়ী না। এখন সে তহবিল থেকে আমরা কী পরিমাণ অর্থ আদায় করবো এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবেশ, জলবায়ু ও বনের বিষয়গুলো বিবেচনা না করে কখনোই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না, এটা হচ্ছে মূল। আর আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের যে তহবিল সেটা থেকে বাংলাদেশের জন্য ন্যায্য যে হিস্যা আছে সেটা আমরা কীভাবে আদায় করতে পারি।’ *নৌপরিবহনমন্ত্রী* ** *খালিদ মাহমুদ চৌধুরী* আগের বারও মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবারও মন্ত্রী হয়েছেন— কেমন লাগছে জানতে চাইলে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি পুনরায় আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি চেষ্টা করবো এ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোর। এটি পুরোপুরি দায়িত্ব পালনের বিষয়, বিষয়টা ঠিক এনজয়ের না। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখ-ভাল করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন এ ইশতেহার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকে, সেটা দেখা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। জনগণ ৭ জানুয়ারি যে ইশতেহারের প্রতি মেন্ডেট দিয়েছে সেটি বাস্তবায়নই প্রাধান্য পাবে। *কৃষিমন্ত্রী* ** *আব্দুস শহীদ* কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রী আব্দুস শহীদ বলেন, মন্ত্রী হিসেবে বৃহত্তর ক্ষেত্রে দেশসেবার সুযোগ পাবো। এখন মন্ত্রিসভায় সারা দেশে কাজ করার সুযোগ পাবো। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই আমার মন্ত্রিত্ব চালাবো। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল কাজকর্ম যেন স্মার্টলি করা যায় এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সঠিক পথ তৈরি করে দেওয়াটাই মূল চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রিসভার প্রধান প্রধানমন্ত্রী। তিনি যেভাবে পরামর্শ দেবেন, তার সিদ্ধান্তগুলো উপস্থাপন করলে সেগুলো আলোচনার করে সমর্থন জানানোর দায়িত্ব আমাদের।' *শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল* নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, আগের সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবো। বৃহস্পতিবার বনানীর বাসায় বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী নওফেল বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। *প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান* *মন্ত্রী* *শফিকুর রহমান চৌধুরী* প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনে যা অর্জন তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার জন্য। এখন মন্ত্রণালয় দিয়েছেন, তার জন্য আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসাবে এবং শেখ হাসিনার সৈনিক হিসাবে বাঁচতে চাই। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে সচেষ্ট থাকবো। *স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন* শপথ নেওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘সুযোগটা আমার জন্য আশ্চর্যজনক। সুতরাং খুবই নার্ভাস অবস্থায় আছি।’ তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে কীভাবে কী করবো, তা ঠিক করার আগে আমাকে মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে। তারপর আমি জানাতে পারবো, কীভাবে কী কাজ সামনের দিনগুলোতে করবো।’
Published on: 2024-01-11 18:32:43.371234 +0100 CET

------------ Previous News ------------