বাংলা ট্রিবিউন
সারা দেশে ১০০টি টিএসসি স্থাপন প্রকল্প শেষের পথে

সারা দেশে ১০০টি টিএসসি স্থাপন প্রকল্প শেষের পথে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশের ১০০টি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৪ সালে। নানা জটিলতায় বিগত ১০ বছরে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা যায়নি। তবে যেসব টিএসসির ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যে, এমন ৮৬টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা যাবে। ২০২৫ সালে সব প্রতিষ্ঠানে চলবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি স্কুল ও কলেজ স্থাপনে ন্যূনতম ১ দশমিক ৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভৌত ও নির্মাণ সম্পাদন, প্রতিটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৪টি ট্রেড, ল্যাব ও ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা ও সরবরাহ, ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬ হাজার ৪০০টি স্থায়ী পদ সৃষ্টি এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন পদে ৪০০টি জনবলের জন্য পদ সৃষ্টিতে সহায়তা করা। ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে (টিএসসি) এসএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করবে। ইতোমধ্যে ৮৬টি টিএসসিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুমোদন হয়। প্রস্তাবনা  (ডিপিপি) অনুসারে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ছিল জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি সংশোধিত (১ম) প্রকল্প অনুমোদিত হয় এবং বাস্তবায়নকাল আড়াই বছর (৩০ মাস) বাড়িয়ে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া বিশেষ সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের মেয়াদকাল দুই বছর সময় বৃদ্ধি করে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। ডিপিপিতে সংশোধনের কারণে সময় ব্যয় হয়েছে বেশি। মূল ডিপিপিতে ১০০টি টিএসসির জন্য মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ বিশেষ সংশোধিত ডিপিতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার সময় ২০২০ ও ২০২১ সালে নির্মাণকাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এছাড়া টিএসসিগুলোতে জায়গা সম্প্রসারণ করা হলে বেশি সময় লেগে যায়। তারপরও ১০০ টিএসসি স্থাপন প্রকল্পের কাজ গ্রহণযোগ্যে সময়ে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণ শেষ হওয়া টিএসসিগুলোর ভবন উদ্বোধন করেছেন। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ। চাকরি প্রত্যাশীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে শ্রম বাজারে দক্ষ মানবসম্পদ সরবরাহকারী হিসেবে অবদান রাখার বিবেচনায় টিএসসিগুলো স্থাপনে প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার টার্গেট নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের অভিমত—এই সময়ের মধ্যে পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব নয়। সামান্য কিছু কাজ বাকি থেকে যাবে। জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে সময় ব্যয় হয়েছে। কাজ শেষ পর্যায়ে প্রকল্প মেয়াদে শেষ হবে। ৮৬টির শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে।’ সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. জমিউল আখতার খন্দকার বলেন, ’৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে।’
Published on: 2024-01-16 08:51:34.952232 +0100 CET

------------ Previous News ------------