বাংলা ট্রিবিউন
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা পায় পেট্রোবাংলা

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা পায় পেট্রোবাংলা

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সার কারখানার কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার গ্যাস বিল বকেয়া পড়েছে। বছর শেষে গত ডিসেম্বর মাসে পেট্রোবাংলার তরফ থেকে জ্বালানি বিভাগকে এ তথ্য জানানো হয়। পেট্রোবাংলা জ্বালানি বিভাগকে জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে আট হাজার কোটি টাকা এবং সার কারখানার কাছে দুই হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, গত বছর অক্টোবরের দিকে পিডিবির তরফ থেকে কিছু গ্যাস বিল দেওয়া হয়েছিল। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল পিডিবি। কিন্তু পিডিবি তাদের সেই কথা আর রাখেনি। জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, পিডিবির বাইরেও বেসরকারি আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। যেগুলোতেও গ্যাস বিতরণ কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করে। কিন্তু তারাও যেহেতু পিডিবির কাছ থেকে বিল পাচ্ছে না, তাই আমাদের টাকা দিতে পারছে না। কিন্তু আমাদের বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করে দিতে হচ্ছে। সেটাও বিবেচনা করতে হবে। জ্বালানি বিভাগের ডিসেম্বর মাসের মাসিক কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, বৈঠকে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) জানান, পিডিবির কাছে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে পিডিবি ২৮৩ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছে। এর বাইরে দুটি আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিশোধ করেছে ৪১ কোটি টাকা। তিনি জানান, সার কারখানাগুলোর কাছে দুই হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। ওই বৈঠকে জানানো হয়, সার কারখানা থেকে বলা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে তারা গ্যাস বিল পরিশোধ করতে পারবে। পেট্রোবাংলার সরবরাহ করা গ্যাসের অন্তত ৬০ ভাগই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেক দিন ধরেই বিল দিতে পারছিল না পিডিবি। অন্যদিকে ইউরিয়া সার কারখানাগুলো গ্রিড থেকেই শতভাগ গ্যাস সরবরাহ নেয়। পেট্রোবাংলা যেহেতু বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে, এজন্য সংকট দিন দিন বাড়ছে। এলএনজি আমদানি করে সরকার কম দামে ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস বিক্রি করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বকেয়া পড়ায় এলএনজি আমদানি ব্যয় মেটাতে পারছে না পেট্রোবাংলা। এর আগে গত অক্টোবরে পিডিবির সব মিলিয়ে দুই হাজার ৭১ কোটি টাকা বকেয়া ছিল। এর মধ্যে পিডিবি ৮৭১ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এর বাইরে আরও এক হাজার ২০০ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেখানে পিডিবি ২৮৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। পিডিবির বাইরেও সরকারি বেসরকারি কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার করে। তারা পৃথকভাবে পেট্রোবাংলার কোম্পানিগুলোকে বিল পরিশোধ করে। সেখানেও বিপুল পরিমাণ বকেয়া পড়েছে বলে জানা গেছে। জ্বালানি সচিব নুরুল আলমের গত ৪ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত ডিসেম্বর মাসের কার্যপত্রে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অপারেশন-১) এবং যুগ্ম সচিব (অপারেশন-২)-কে বিদ্যুৎ এবং সার কারখানার বিল পরিশোধে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Published on: 2024-01-17 17:06:07.663788 +0100 CET

------------ Previous News ------------