বাংলা ট্রিবিউন
সিলেট-৩ আসনে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, লড়াই হবে ‘নৌকা-ট্রাকে’

সিলেট-৩ আসনে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, লড়াই হবে ‘নৌকা-ট্রাকে’

নির্বাচনের দিন যত কাছে আসছে, উত্তাপ ততই বাড়ছে। প্রার্থীদের কথার লড়াইয়ের পাশাপাশি কর্মী ও সমর্থকদের বিষোদগারের কারণে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। সিলেট-৩ আসনও এর ব্যতিক্রম নয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের দুই নেতার মধ্যে ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ জানুয়ারি। ভোটের বাকি আছে মাত্র ৫ দিন। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনে নেই বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো। অধিকাংশ আসনেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অধিকাংশই একই দল অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতা। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন তারা। সেই অর্থে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। কিন্তু এরপরও ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে বিভিন্নভাবে শাসানো, হুমকি-ধমকি দেওয়া, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সিলেট-৩ আসনেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে নির্বাচনি উত্তাপ ছাড়ানোর পাশাপাশি ক্রমশই বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ—এ তিনটি উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩ আসন। এ আসনে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৬ জন প্রার্থী। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যেই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকও। এ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক মার্কা নিয়ে লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। এদিকে, আওয়ামী লীগের দুই নেতার মধ্যে ভোটের লড়াই ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। শীতকে উপেক্ষা করে প্রার্থীরা গণসংযোগে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামের পথ। হাটবাজারের আলোচনায় ৭ জানুয়ারির নির্বাচন। প্রার্থীদের ভালো-মন্দ ও বিগত দিনের কাজ নিয়ে চলছে নানান হিসাব-নিকাশ। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাবেক এমপি শফি চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত সিলেটের সম্ভ্রান্ত এক পরিবারের সন্তান ডা. দুলাল। দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসক সংগঠন বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে সব সময় সক্রিয় থেকে তিনি দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জবাসীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস, এবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে একজন যোগ্য মানবতার সেবক পাবে জনগণ। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালকে ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ডা. দুলালের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সাবেক এমপি শফি চৌধুরীর অনুসারীরা। এ ছাড়া হাবিববিরোধী আওয়ামী লীগ বলয়ের নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে কাজ করছেন ডা. দুলালের পক্ষে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের এই নেতাকে নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা ভোটারদের। এদিকে, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারার অভিযোগ করেছেন ডা. দুলাল। হাবিব ও তার কর্মী-সমর্থকরা সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসার জন্যও প্ররোচিত করার অভিযোগ করেছেন দুলাল। এতে করে সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ। সিসিকের ৬টি ওয়ার্ড, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এখানে সিসিকের ৮টি ওয়ার্ড ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫১টি। এর মধ্যে সিসিকের ওয়ার্ডগুলোতে রয়েছে ১৬টি ভোটকেন্দ্র, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় রয়েছে ৬৩টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ৩৬টি ও বালাগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে আরও ৩৬টি ভোট কেন্দ্র। একই সঙ্গে এখানে ভোট কক্ষ রয়েছে ৮৭৬টি। এর মধ্যে সিসিকের ৮টি ওয়ার্ডে রয়েছে ৭৮টি স্থায়ী ও ৫টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র। এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমায় ৩৫৮টি স্থায়ী ও ১৬টি অস্থায়ী, ফেঞ্চুগঞ্জে রয়েছে ১৭০টি স্থায়ী ও ২৯টি অস্থায়ী এবং বালাগঞ্জে রয়েছে ১৮৫টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র। এ আসনে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৪২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ২৬৯ জন। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটার রয়েছেন। আসনটিতে জাতীয় পার্টিরও ভোটব্যাংক থাকায় আতিকুর রহমান আতিককেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মেনে মাঠে নামতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের হাবিবকে। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনোয়ার হোসেন আফরোজ, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের শেখ জাহেদুর রহমান (মাসুম), আপিলে বৈধতা পাওয়া ইসলামী ঐক্যজোটের (আইওজে) মো. মইনুল ইসলাম। প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে তারা ফ্যাক্টর নন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
Published on: 2024-01-02 03:07:47.455878 +0100 CET

------------ Previous News ------------