বাংলা ট্রিবিউন
২৯ বছর আগে ঢাকায় তাপমাত্রা নেমেছিল ৬.৫ ডিগ্রিতে

২৯ বছর আগে ঢাকায় তাপমাত্রা নেমেছিল ৬.৫ ডিগ্রিতে

দেশের ২৬টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শীতের প্রকোপ দেখা দিয়েছে রাজধানী ঢাকাতেও। আজ মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার আকাশ বেশ রৌদ্রজ্জ্বল দেখা গেলেও এদিন তাপমাত্রার পারদ নেমেছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। ঢাকায় সূর্যের দেখা মিললেও দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলই এখনও কুয়াশায় আচ্ছন্ন। তবে ঢাকাসহ সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবুল কালাম মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আজ ঢাকা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে; যা গতকাল সোমবার (২২ জানুয়ারি) রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৌসুমের সর্বনিম্ন রেকর্ড হলেও এটিই ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নয়, এর আগে ১৯৯৫ সালের ৩ জানুয়ারি তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে। এদিকে ২০২১ সালে ১ ফেব্রুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রিতে। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এতে কিছু এলাকার শৈত্যপ্রবাহ কমে আসতে পারে।’ তবে ২৬ তারিখ থেকে তাপমাত্রা আবারও কমে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি। এছাড়া ১০ ডিগ্রির নিচে থাকা অঞ্চলগুলো হচ্ছে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ১; কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও ফরিদপুরে ৭ দশমিক ৫; রাজশাহী ও গোপালগঞ্জে ৭ দশমিক ৮; পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮; মাদারীপুরে ৮ দশমিক ৩; বরিশাল, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৮ দশমিক ৪; নীলফামারীর ডিমলা ও টাঙ্গাইলে ৮ দশমিক ৫; যশোর, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৮ দশমিক ৬; কুষ্টিয়ার কুমারখালী, নওগাঁর বদলগাছী ও বগুড়ায় ৯, সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ২; খুলনা ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৯ দশমিক ৪; ভোলা ও সাতক্ষীরায় ৯ দশমিক ৫; রংপুরে ৯ দশমিক ৬ এবং কুমিল্লায় ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি হলে সেখানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মাঝে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং চার ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে হলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে চুয়াডাঙ্গাসহ ৭ অঞ্চলে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, বাকিগুলোতে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌলভীবাজার, বরিশাল, ভোলা ও কুমিল্লা জেলাসহ ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু জায়গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে অব্যাহত থাকতে পারে এবং কিছু জায়গায় হতে কমে আসতে পারে। ঢাকা এবং ঢাকার আশেপাশের অঞ্চলের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, একই সাথে এ সময় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। এছাড়া কখনও কখনও উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার শীতের কনকনে বাতাস বেগে প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এই শৈত্যপ্রবাহ কি এই মৌসুমের শেষ, নাকি আরও হতে পারে, জানতে চাইলে আবহাওয়া আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এটি একেবারে নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’ জানা যায়, গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছিল ২০১৮ সালে। সে বছরের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ইতিহাসে রেকর্ড। সে সময় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল। সে হিসাবে এবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহ না হলেও শীতের অনুভূতি অনেক বেশি। আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কমে যাওয়া। এটি যত কমে আসবে তত শীতের অনুভূতি বাড়বে।’
Published on: 2024-01-23 08:19:23.048229 +0100 CET

------------ Previous News ------------