বাংলা ট্রিবিউন
২২ বছরেও শেষ হয়নি মডেল তিন্নি হত্যার বিচার, অপেক্ষায় পরিবার

২২ বছরেও শেষ হয়নি মডেল তিন্নি হত্যার বিচার, অপেক্ষায় পরিবার

ঢাকার কেরানীগঞ্জ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে আলোচিত মডেল তিন্নির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন কেরানীগঞ্জ থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সফি উদ্দিন। মামলাটি দায়েরের প্রায় ২২ বছর পার হলেও এখনও বিচার শেষ হয়নি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, খুব শিগগিরই মামলাটির বিচারকার্য শেষ হবে এবং ভিকটিম ন্যায় বিচার পাবেন। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ ধার্য রয়েছে। নিহত মডেল তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুব করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলাটি একবার রায়ের পর্যায়ে চলে এসেছিল। কিন্তু এ মামলায় আমার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। ওই সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে চলে আসে। এখন শুনেছি যুক্তিতর্কে এসেছে। তিন্নির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার দুই মেয়ের মধ্যে একটা তো মারা গেছে, অন্যটা কাছে নেই। এই ঘটনার পর থেকে সকলেই আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আমি এখন খুব একা, বড়ই একা। আমার বেঁচে থেকে আর কী লাভ! আমি জানি আমার মেয়ে হত্যার বিচার হবে না। আল্লাহর কাছে বিচার ছেড়ে দিয়েছি, তিনি এর সঠিক বিচার করবেন। আসামি অনেক প্রভাবশালী। তাকে দেশের বাহিরে পাঠাতে রাষ্ট্রও সহায়তা করেছে। এখনও মাঝে মধ্যে দেশে আসে, আবার চলেও যায়। অনেকে দেখেই না দেখার ভান করে। সবাই মুখ খুলতে ভয় পায়, অদৃশ্য এক অপশক্তির ভয়ে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ মামলার আসামির সাজা হলেও লাভ কী? তাকে তো আর কেউ ধরবে না। সাজাও কার্যকর হবে না। মেয়ে হারানো কষ্ট, আমার কষ্ট হয়েই থেকে যাবে। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে হয়তো এই পৃথিবীতে আসামির বিচার হবে না, তবে ঠিকই আল্লাহর কাঠগড়ায় একদিন তার বিচার হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মিজানুর রহমান সজল বলেন, ঠিকমতো সাক্ষী আদালতে না আসায় মামলাটির বিচারকার্য শেষ হতে কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া রায়ের পর্যায়ে এসেও নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আরও বিলম্বিত হয়। সব মিলিয়ে মামলাটি প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। আশা করি খুব শিগগিরই এই মামলার রায় ঘোষণা হবে। তিনি আরও বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামির সর্বোচ্চ সাজাও দাবি করেন এই পাবলিক প্রসিকিউটর। সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর ভোলা নাথ দত্ত বলেন, আলোচিত মডেল তিন্নি হত্যা মামলায় রায় ঘোষণার জন্য ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখ ঠিক ছিল। কিন্তু সেদিন মামলার গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষী তিন্নির বাবা ও চাচা সাক্ষ্য দিতে চাইলে আদালত রায় মুলতবি করে সাক্ষ্যগ্রহণে চলে যান। তিন্নির বাবা ও চাচাসহ অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি এখন যুক্তিতর্ক পর্যায়ে চলে এসেছে। আশা করি, এই মামলায় খুব শিগগিরই যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করবেন আদালত। এদিকে পলাতক আসামি (অভি) পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মডেল তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরানীগঞ্জ থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সফি উদ্দিন। পরে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক সুজাউল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম মোস্তফা, এএসপি আরমান আলী, এএসপি কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ এবং এএসপি মোজাম্মেল হক। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর সাবেক ছাত্রনেতা ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে মামলার আসামি শুরু থেকে পলাতক রয়েছে। ২০১০ সালের ১৪ জুলাই অভির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। চার্জশিটভুক্ত ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
Published on: 2024-01-26 07:06:39.4652 +0100 CET

------------ Previous News ------------