বাংলা ট্রিবিউন
একুশের চেতনায় আজ শুরু বইমেলা

একুশের চেতনায় আজ শুরু বইমেলা

মাতৃভাষাকে রক্ষা ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজপথে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য প্রাণ দেন তারা। সেই থেকে বাংলা ভাষা ও ভাষাশহীদদের স্মরণে প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারিতে হয় অমর একুশে বইমেলা। আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মাসব্যাপী এই মেলা শুরু হবে বিকাল ৩টায়। বাংলা একাডেমির মূল মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব খলিল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘Collected Works of Sheikh Mujibur Rahman: Volume-2’ সহ কয়েকটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন। এ সময় তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩ প্রদান করবেন। *বইমেলার সময়সূচি* সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। *বইমেলায় অংশ নিচ্ছে ৬৩৫ প্রতিষ্ঠান* এবারের বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন থাকবে। *বইমেলার বিন্যাস অক্ষুণ্ন, থাকছে আটটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথ* এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির-গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে আটটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। *খাবারের স্টলের জায়গায় পরিবর্তন* খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে বিন্যস্ত করা হয়েছে। খাবারের স্টলগুলোকে এবার এমনভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে, যেন এলোমেলোভাবে খাবারের স্টল বইমেলায় আগত পাঠকের মনোযোগ বিঘ্নিত না করে। এ ছাড়া মেলায় খাবারের স্টলের পাশেই থাকছে নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবা। এবার মুক্ত মঞ্চ, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট গেট-সংলগ্ন জায়গাসহ তিন জায়গায় থাকবে ওয়াশরুমের ব্যবস্থা। *শিশু চত্বর কালী মন্দিরের পাশে* গত বছরের মতো শিশু চত্বর মন্দির গেটে প্রবেশের ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে, যেন শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে। *লিটলম্যাগের জায়গা পরিবর্তন* এবার লিটল ম্যাগাজিন চতুর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ১৭০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। *শিশু প্রহর* প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত 'শিশুপ্রহর' থাকবে। অমর একুশে পালনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। *রয়েছে বেশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা* বইমেলার প্রবেশ ও বাহির পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা নিয়ে বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, বইমেলা একটি অসাম্প্রদায়িক আয়োজন। এ আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর উপস্থিতি আমরা অতীতে লক্ষ করেছি। তাই এবারও জোরালোভাবে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ লোকের সমাগম হয়ে থাকে, এই মিলনমেলার নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনবিরোধী যেকোনও কাজকে প্রতিহত করা হবে। *লেখক-প্রকাশকদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ* এবারের বইমেলা নিয়ে বেশ আশাবাদী লেখক ও প্রকাশকরা। তাদের প্রত্যাশা, এবারের বইমেলা আগের বইমেলাগুলোর চেয়ে আরও বেশি লোকসমাগম ও জমজমাট হবে। মেট্রোরেলের কারণে এবারের বইমেলা আরও দূরদূরান্ত থেকেও সহজে লোকজন আসতে পারবে। সব মিলিয়ে পাঠক-লেখক-প্রকাশকদের নিয়ে সময়ের সেরা বইমেলা হতে যাচ্ছে এটি। তরুণ লেখক আহমদ সাদ বলেন, বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। বইপ্রেমীরা এই মাসের জন্যই অপেক্ষা করে। মেলায় লেখক-পাঠকদের মাঝে একধরনের বিশেষ সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। এবার মেলায় আমার নতুন কোনও বই নেই। কিন্তু মেলায় আসবো, ঘুরবো, বই কিনবো। তবে এবার মেট্রোরেলের কারণে লোকসমাগম ভালোই হবে আশা করছি। গ্রন্থরাজ্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী রাজিব দত্ত বলেন, আমাদের স্টলের কাজ শেষ। এখন স্টল সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি আগামীকাল দুপুরের মধ্যে বই ওঠানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্ততি নিয়েই বইমেলা শুরু করবো। এবারের বইমেলা নিয়ে প্রত্যাশা যেকোনও বারের চেয়েও বেশি। উল্লেখ্য, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এর চরম প্রতিবাদ শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ কয়েকজন। ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালালে তারা শহীদ হন।
Published on: 2024-01-31 19:04:30.686235 +0100 CET

------------ Previous News ------------