বাংলা ট্রিবিউন
নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসছে কবে

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসছে কবে

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আমদানির বিষয়টি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর চুক্তি করার জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে  (পিডিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিষয়টি নিয়ে এত দিন তেমন আলোচনা না হলেও নতুন সরকার গঠনের পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পিডিবি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সমন্বয়ের জন্য পিডিবির চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের দফতর সরাসরি বিষয়টি নিয়ে নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে চুক্তি সইয়ের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে চুক্তি সইয়ের জন্য বাংলাদেশের একটি টিম নেপালে যাবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পিডিবি নেপালের সঙ্গে কথা বলছে। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের জন্য এত দিন অপেক্ষা করা হচ্ছিল, এখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সভায় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, নেপাল থেকে ভারত হয়ে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। আরও ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টির অগ্রগতিও দৃশ্যমান। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি কমিটি করে দেওয়া হবে। এ কমিটি নেপালের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করবে। এর আগে নেপাল ও বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ২৫ বছরের চুক্তি সই হবে। শুধু রফতানি নয়, নেপাল শীতকালে বাংলাদেশ থেকে বিদ্যুৎ নিতে আগ্রহী। শীতের সময় নেপালে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে, অন্যদিকে বাংলাদেশে চাহিদা কম থাকে। এ কারণে বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে বছরে ব্যয় হবে ১৩০ কোটি টাকা। এই বিদ্যুৎ আসতে ভেড়ামারার এইচভিডিসি সাব-স্টেশন ব্যবহার করা হবে। ভেড়ামারার এইচভিডিসি সাব-স্টেশনের ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে এ সাব-স্টেশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে। সাব-স্টেশনটির অব্যবহৃত ক্ষমতা ব্যবহার করে নেপাল থেকে ভারতের সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব। ভারত থেকে এখন দুটি লাইন দিয়ে বাংলাদেশের মোট আমদানি ক্ষমতা ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। ভেড়ামারা এবং কুমিল্লা দিয়ে এখন বিদ্যুৎ আসে বাংলাদেশে। নেপাল দ্বিতীয় দেশ যেখান থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি করবে। প্রসঙ্গত, ভারত থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে যে বিদ্যুৎ আমদানি করছে, প্রতি ইউনিটের দাম ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮ টাকা। নেপাল থেকে আনা বিদ্যুতের দামও তার কাছাকাছি থাকতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়। এদিকে গত বছরের জুন মাসে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল ভারত সফর করেন। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে একটি চুক্তি সই হয় নেপালের। ওই চুক্তি অনুযায়ী নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসবে ভারতের সঞ্চালন লাইন দিয়ে।
Published on: 2024-01-31 16:27:42.241857 +0100 CET

------------ Previous News ------------