বাংলা ট্রিবিউন
রাত পোহালেই ভোট

রাত পোহালেই ভোট

সব জল্পনা-কল্পনা, শঙ্কা আর গুজবের অবসান ঘটিয়ে মাঠে গড়ালো ভোট। রাত পোহালেই দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর বর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোট বর্জনকারী এ দলগুলো ভোটের আগের দিন থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালেরও ডাক দিয়েছে। ভোটের আগে ট্রেন, বাসসহ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সেখানে গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছতামূলক নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি ও সমমনাদের ভোটবর্জনের প্রসঙ্গ টেনে  সিইসি বলেছেন, কোনও একটা বিরোধী পক্ষ ভোট বর্জনের পাশাপাশি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। এতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে উঠিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছুটা সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আশা করি, বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের অংশগ্রহণে ও ভোটারদের আগমনে নির্বাচন উঠে আসবে। বিএনপি-জামায়াতের গুজব ও প্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রে এসে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ভোটের আয়োজনের বিপরীতে বিএনপিসহ নির্বাচন বর্জনকারী দল নির্বাচন যাতে সফলভাবে সম্পন্ন না হয়, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিএনপি শনিবার (৬ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে। পাশাপাশি জনগণকে ভোট কেন্দ্রে না যেতে তারা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির সমমনা দলগুলো হরতালের পাশাপাশি তাদের সব কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানিয়েছে। নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিলেও দলীয় প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে। ২২৫টির মতো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্রদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন জেলা- উপজেলা পর্যায়ের পদধারী, রয়েছেন বর্তমান সংসদের এমপি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনি ভোটের মাঠের নিয়ন্ত্রণ এখন আয়োজক সাংবিধানিক সংস্থা নির্বাচন কমিশনের হাতে। ইসির নির্দেশে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সারা দেশ। এই মুহূর্তে মাঠ এখন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দখলে। শনিবার সারা দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার বাদে বাকি সব নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এসব নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্র প্রস্তুত করছেন। ভোটকেন্দ্রেই তারা রাতে অবস্থান করবেন। ভোরে সেখান থেকে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে গিয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করবেন। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন সকাল বেলা ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হচ্ছে। দুর্গম কিছু কেন্দ্র বাদে সব কেন্দ্রের ব্যালট পেপারই রবিবার সকালে বিরতণ করা হবে। দুর্গম দুই হাজার ৯৭১টি কেন্দ্রের ব্যালট পেপার শনিবারই বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে রবিবার ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। নওগাঁ-২ আসনের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যু হলে বিধি অনুযায়ী আসনটির ভোট স্থগিত করেছে ইসি। *মোট প্রার্থী ১৯৬৯ জন* এবারের নির্বাচনে দেশের ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৮টি দল অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। দলটির প্রার্থীর সংখ্যা ২৬৫ জন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির ২৬৪ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৬ জনসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ২৮টি রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থী সংখ্যা এক হাজার ৫৩৪ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আরও ৪৩৭ জন। ফলে এবারের নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৯ জনে। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী এক হাজার ১৮৭১ জন। ৯৬ জন নারী প্রার্থী, হিজড়া ২ জন ও ৭৯ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে অন্যদলগুলোর মধ্যে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, জাকের পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, তৃণমূল বিএনপি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি, গণতন্ত্রী ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল) প্রার্থী দিয়েছে। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল এ নির্বাচন বয়কট করেছে। *গণপরিবহনে শিথিলতা* বরাবরই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ইসির অনুমোদন ছাড়া সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এবার তা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। এবার ভোটের দিন সড়ক পথে ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক বাদে সব ধরনের যান চলাচল করতে পারবে। অর্থাৎ অতীতে ভোটের দিনে সিএনজি, অটো রিকশা, প্রাইভেট কার ও বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এবার সেটা থাকছে না। এদিকে নৌযানের মধ্যে এবার লঞ্চ ও ইঞ্জিন বোট চলতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টি রুটে চলাচলকারী নৌযান চলতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য মোটরসাইকেল চলাচলে আগের মতো চার দিনের জন্যই নিষেধাজ্ঞা থাকছে। ‍শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্য রাত (রাত ১২) থেকে সোমবার (৮ জানুয়ারি) মধ্য রাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকছে। অবশ্য নির্বাচনি এলাকায় ইসির অনুমোদিত মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যান চলাচল করতে পারবে। *ব্যালট যাবে ভোট দিন সকালে* এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ২৪টি কেন্দ্র রয়েছে। ভোট কক্ষ দুই লাখ ৬০ হাজার ৮৫৮টি। এর মধ্যে দুর্গম ২ হাজার ৯৭১ কেন্দ্রে শনিবার (৫ জানুয়ারি) ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের দিন (৭ জানুয়ারি) সকালে বাকি ৩৯ হাজার ৫৩ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার যাবে। এসব কেন্দ্রে ব্যালট সকালে গেলেও আগের দিন (শনিবার) প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করে রাখবেন। ব্যালট পেপার পরিবহন ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ভোটগ্রহণের দিন ভোরে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন। ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপার পরিবহনের বিষয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। *আইনশৃঙ্খলা বাহিনী* নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর  সাড়ে ৭ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৮৮ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, তাদের এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৭ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে থেকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি ৯৪ হাজার ৭৬৭ জন ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ৪২ হাজার ২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১০ হাজারের কিছু বেশি। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে দুই জন পুলিশ, ১২ জন আনসারসহ ১৪-১৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ জন পুলিশসহ ১৬-১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকাসহ ৮টি মহানগরীর কেন্দ্রগুলোতে তিন জন পুলিশসহ ১৫ জন এবং মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ জন পুলিশসহ ১৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ৬২টি জেলায় ৩৮ হাজার ১৫৪ জন সেনা সদস্য ও দুটি জেলার সম্পূর্ণসহ ১৯টি জেলার আংশিক এলাকায় দুই হাজার ৮২৭ জন নৌ বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি দায়িত্ব পালন করবেন ৪৪ হাজার ৯১২ জন (১১৫১ প্লাটুন), কোস্টকার্ড দুই হাজার ৩৫৫ জন (৭০ প্লাটুন)। র‌্যাবের থাকছে ৫ হাজার ৫৬০ জন  (৬০০ টিম ও ৯৫টি রিজার্ভ টিম)। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত লাইসেন্সধারীরাও আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবেন না। *বিচারিক কর্মকর্তা* নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই হাজার ৭৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) থেকে মাঠে নেমেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা। তারা ভোটের আগে-পরে পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে সারা দেশে ৩০০ আসনের জন্য ৩০০টি নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। তারা বিভিন্ন অপরাধে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের রেকর্ড সংখ্যক শোকজ, তলব ও জরিমানা করেন। এছাড়া এসব কমিটির সুপারিশে নিয়মিত আদালতে অন্তত অর্ধশতাধিক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। *১৯২ বিদেশি পর্যবেক্ষক* নির্বাচন দেখার জন্য যে বিদেশিরা আবেদন জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ১৯২ জন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদের মধ্যে ১২৬ জন পর্যবেক্ষক আর ৭৬ জন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মী রয়েছেন।  ৩৪টি দেশ ও  চারটি বিদেশি সংস্থার পক্ষ থেকে ভোট পর্যবেক্ষণ করবে। ১২৬ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে ১২৬ জন আসছে স্বউদ্যোগে এবং এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে এসেছেন ৩২ জন। বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশনার ও তাদের প্রতিনিধি আসছেন ১৮ জন। *দেশীয় পর্যবেক্ষক ২০৭৭৩ জন* নির্বাচন কমিশনে বর্তমানে ৯৬টি নিবন্ধিত দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টি এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে। এসব সংস্থার মোট ২০ হাজার ৭৭৩ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। এই হিসাবে দেশের মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকে দেশীয় পর্যবেক্ষক থাকছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ৫১৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৮৪টি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। *আচরণবিধি লঙ্ঘনে ব্যবস্থা* তফসিল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন বিচারিক হাকিমদের সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধানী টিম গঠন করেছে। ওই কমিটির মাধ্যমে প্রার্থী, সমর্থক ও নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ৭২০টি শোকজ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৪টির ক্ষেত্রে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এর আলোকে আচরণবিধি লঙ্ঘনে ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনের প্রার্থিতা বাতিল (আদালতে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন) করা হয়েছে। এক হাজার ৫১ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। মোট জরিমানা করা হয়েছে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৩০০ টাকা। *২২ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন* নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ২২ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন করেছে কমিশন। এই মনিটরিং সেলের নেতৃত্ব দেবেন আইডিএ প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মনিটরিং সেল শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা পরিচালনা করা হবে। শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেলের প্রধান আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমের সভাপতিত্বে সেলের প্রাক-পরিকল্পনা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। *২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার নির্বাচন* দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ নির্বাচনে আসনপ্রতি ৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশাল এ বাজেটের বেশিরভাগ অর্থই ভোটের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে ব্যয় হবে। জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এবারের নির্বাচনে মোট ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৫ লাখ ৯২ হাজার ১৬৯ জন পুরুষ, ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার ১৪০ জন নারী এবং ৮৪৮ জন হিজড়া। *স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ* এবার ইসির তৈরি অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটাররা তাদের কেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। গুগল ম্যাপের লোকেশনও জানা যাচ্ছে এই অ্যাপের মাধ্যমে। এ লক্ষ্যে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে ইসি। স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপে ভোটকেন্দ্রের তথ্যসহ নির্বাচনি ফলাফল জানা, ফলাফল বিশ্লেষণ, ভোটগ্রহণে তথ্য জানার ‍সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটার তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম তারিখ দিয়ে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে জানতে পারছেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক ভোটার তার ভোটার নম্বর, ভোটিং ক্রমিক নম্বর কেন্দ্রের নাম ও কেন্দ্রের ঠিকানা জানতে পারছেন। একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ছবি (ভবনের ছবি) ভোটকেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান ম্যাপসহ দেখা যাবে। গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর থেকে এই অ্যাপটি মোবাইলে ডাউনলোড করা যাবে।
Published on: 2024-01-06 19:07:36.057262 +0100 CET

------------ Previous News ------------