বাংলা ট্রিবিউন
মিছিলে পরিচয়, প্রেম-ভালোবাসায় প্রণয় অসীম-অপুর

মিছিলে পরিচয়, প্রেম-ভালোবাসায় প্রণয় অসীম-অপুর

ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় রাজপথের মিছিলে প্রথম পরিচয়। সেই থেকে প্রণয়ের জন্য প্রেমের ফ্রেমে আবদ্ধ হওয়া। অল্পদিনেই একে অপরকে জানা-শোনা হয়ে যায়। ভালোবাসা গড়ায় মধুর সংসার জীবনে। এখন পুরোদমে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন তারা। সুখী এই দম্পতি হলেন— আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও যুব মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এই রাজনীতিক জুগল কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। প্রেমে পড়ার সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অসীম কুমার উকিল, অপু উকিল ছিলেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তারা জানান, ছাত্রলীগের রাজনীতি করার সুবাদে মিছিলে প্রথম পরিচয় হয়। তারপর পর্যায়ক্রমে প্রেম, ভালোবাসায় জড়ানো এবং সবশেষ গাঁটছড়া বাঁধা। অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেখলাম— বছর শেষে জাতীয় সম্মেলন হবে, ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেবো। তখন সংসার বাঁধার বিষয়টি সামনে আসে। একজন রাজনীতিককে নিয়ে সংসার করলে চলার পথটা সুগম হবে। সেই বিবেচনায় অপু মিছিলে-মিটিংয়ে থাকা একজন মানুষ, রাজনীতিময় একটা মেয়ে। তার সঙ্গে সংসার করা যায়, সে আমাকে ভালো বুঝতে পারবে। আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, আর অপু বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। সেই সূত্রে আমাদের পরিচয় এবং সংসার বাঁধার বিষয়টি মাথায় আসে। বছরখানেক আগে পরিচয়। মিছিলে-মিটিংয়ে দেখা। সেই থেকেই কথাবার্তা শুরু, প্রপোজ করা, প্রেম এবং ১৯৯৩ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসা।’ রোমান্টিক সেই বছরের কথা স্মরণ তিনি বলেন, ‘আমরা একটা প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলাম। ৮-১০টা ছেলে-মেয়ের মতো নয়, আমাদের ফরমেটটা ভিন্ন ছিল। আমরা রাজনীতি করতাম। আমাদের বিবেচনায় থাকতো— আমরা হবো অন্যদের জন্য মডেল। আমাদের অনুসরণ করবে মানুষ। এখন প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে তেমনটি আর দেখছি না।’ সেই অ্যানালক সময়ে দেখা হলে কথা হতো, কয়েন বক্স টেলিফোনে কথা হতো জানিয়ে অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘কথা-বার্তা, দেখা-সাক্ষাতেই আমাদের প্রেম সীমাবদ্ধ ছিল। ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছি। প্রস্তাব পাঠিয়েছি, বিয়ে হয়েছে। সংসার করছি। রাজনীতিকের প্রেম করে বিয়ে করার সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রেম করে বিয়ে করার মধ্যে পার্থক্য আছে, সেটি আমাদের ছিল।’ বর্তমান সময়ের প্রেম নিয়ে তার মূল্যায়ন এরকম— ‘এখকার প্রেম তো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের প্রেমে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে, মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা, সারা রাত কথা বলা…। এখন অনেক বেশি কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ আছে। ওয়েস্টার্ন স্টাইলে প্রেম বা ইউরোপীয় স্টাইলে প্রেম, তা  নয়। তবে গতানুগতিক প্রেম-ভালোবাসা থেকে বাংলাদেশে উত্তরণ ঘটেছে। অনেকেই এখন ভালোবেসে বিয়ে করছেন, কিছু দিন আগেও এতটা সহজ ছিল না।  সংসার বাঁধার ক্ষেত্রে প্রেম ও ভালোবাসা অপরিহার্যভাবে আসবে এটাই স্বাভাবিক।’ প্রেম নিয়ে ছাত্র-রাজনীতিকদের উদ্দেশে অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘রাজনীতির মাঠ থেকেই সঙ্গী বা সঙ্গীনী খুঁজে নেওয়া ভালো। ঘর-সংসারে সুখী হওয়ার শ্বাশত কোনও ফর্মুলা নেই। অ্যাডজাস্ট, অ্যাডজাস্ট এবং অ্যাডজাস্ট— এটাই সুখী হওয়ার উপায়। সাধারণত একজন রাজনীতিবিদের সঙ্গে অন্যদের অ্যাডজাস্ট করার চেয়ে রাজনীতিকের সঙ্গে রাজনীতিকের অ্যাডজাস্ট সহজ হয়। যার যেখানে চোখ পড়ে, মন মজে সেখান থেকে তার জীবন সঙ্গী খুঁজে নেওয়া উচিত। আমার অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। ভালোবাসা দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ অপু উকিল বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগ করার সময় প্রেম করেছি। কিন্তু আমরা মিছিলটাকেই বেশি ভালোবাসতাম, দলকে ভালোবাসতাম। মিছিলেই তার সঙ্গে (অসীম কুমার উকিল) আমার পরিচয়। মিছিলের স্লোগান থেকেই দুজনে ঘর বাঁধার স্বপ্নের শুরু এবং ছাত্রলীগের সম্মেলনের পরে বিয়ে হয়। আমাদের প্রেম, ভালোবাসা— সব কিছুর সঙ্গে একাকার হয়েছে জাতির পিতার আদর্শ, তার কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা।’ সত্যিকার অর্থে ভালোবাসলে সেই ভালোবাসা দিয়ে সব কিছু জয় করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যে এখন সংসার করছি… আমি বলবো, আমার ঘরটাও একটা রাজনৈতিক মঞ্চ, মিছিলে মাঠ। আমাদের কথা-বার্তা, দৈনন্দিন কাজ— সব কিছুতেই রাজনীতি। এর বাইরে আমরা এখনও যেতে পারিনি। প্রেম-ভালোবাসা শ্বাশত, অবিনশ্বর। এখন ধরন পাল্টালেও অভিব্যক্তি একই আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন— এটা তো হবেই। এই দিনটা সবাইকে বিশ্বজুড়ে ভালোবাসার বার্তা দেয়। সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
Published on: 2024-02-14 16:37:17.638283 +0100 CET

------------ Previous News ------------