বাংলা ট্রিবিউন
‘অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে দেড়শ মিটার টেনে নিয়ে যায় বাসটি’

‘অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে দেড়শ মিটার টেনে নিয়ে যায় বাসটি’

বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর কারণেই দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহ সদরের হালালপুর এলাকায় শেরপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা তারাকান্দাগামী অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাযাত্রী একই পরিবারের তিন জনসহ সাত জন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আলালপুর গ্রামের কামরুল হাসান বলেন, ‘সড়কের পাশে ধানক্ষেতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি, দ্রুতগতির একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে আসছিল। হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা ধানক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরা দৌড়ে গিয়ে দেখি, বাসটি অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে বাস দেড়শ মিটারের মতো দূরে টেনে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা সাত জন নিহত হন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে অটোরিকশাটি কেটে নিহতদের লাশ বের করে।’ প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক মিলন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই আমরা যাওয়ার আগেই চালক এবং তার সহযোগী কর্মচারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে দূর থেকে দেখতে পেয়েছি, বাসচালক বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে আসছিল। কাছাকাছি এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সরাসরি অটোরিকশার ওপর উঠিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই সাত জন মারা যান।’ এ ঘটনায় বাসচালকের বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে, কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মাইনুদ্দিন জানান, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন জন রয়েছেন। তারা হলেন- ফুলপুরের বাবুল আহমেদ, তার স্ত্রী শিলা এবং তাদের সাত বছরের ছেলে সাদমান। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন  সিএনজি অটোরিকশাচালক আল আমিন। বাকি তিন জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মো. মাকসুদ চৌধুরী। নিহত প্রত্যেকের দাফনের জন্য বিশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি।
Published on: 2024-02-16 12:03:09.627043 +0100 CET

------------ Previous News ------------