বাংলা ট্রিবিউন
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে তিউনিশিয়ার জলসীমায় নৌকাডুবে মাদারীপুরের তিন যুবক মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন সদর উপজেলার এবং অন্য দুজন রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া জেলার মকসুদপুর উপজেলার আরেক যুবক এখন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের স্বজনরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই ৩ যুবকের মৃত্যুর খবর আসলে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। আদরের সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। এ ঘটনায় দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহতরা হলেন,  সদর উপজেলার পশ্চিম পাঁচখোলা গ্রামের আলী আকাব্বরের ছেলে মো. সম্রাট (২৪), রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২০) ও সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী (২৫)। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন মকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের পান্নু শেখের ছেলে আপন শেখ। এদিন বিকালে সদর উপজেলায় সম্রাটের এলাকায় গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৫ মাস আগে রাশেদ খান নামে এক দালালের মাধ্যমে মো. সম্রাট ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পাড়ি দিয়েছিল ইতালির পথে। সম্রাটের পরিবার জানায়, অভিযুক্ত দালাল রাশেদ খান সম্রাটের পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নেয়। পরে ঢাকা থেকে তাকে নেওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে একটি বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়। চালানো হয় নির্যাতন। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। এরপর আজ হঠাৎ করেই খবর আসে সম্রাট মারা গেছেন। সম্রাটের ভাই আজগর বলেন, ‘কতগুলো টাকা খরচ করে ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন আমার ভাই নাই। সে মারা গেছে। এখন টাকাও গেলো, ভাইও গেলো। আমরা এর বিচার চাই, দালালরা আমার ভাইকে মেরে ফেলছে।’ জানা গেছে, মাদারীপুরে দালাল রাশেদ খান ও তার ভাই টুলু লোকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে। তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে একাধিক মামলা রয়েছে। একই চক্রের মাধ্যমে জেলার আরেক উপজেলার রাজৈর থেকেও ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দেন আরও কয়েকজন তরুণ। গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকা ত্যাগ করা ওই দলটিতে ছিলেন মামুন শেখ ও সজল বৈরাগী। সেখান থেকে তাদেরও নেওয়া হয় লিবিয়ায়। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়েছেন, এক মাস পর গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) লিবিয়া থেকে তাদের নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা দেয়। ৩২ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নৌকায় ৫২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন ফেটে যায়। এতে মামুন ও সজলসহ মারা যায় ১২ জন। পরে খবর পেয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টগার্ড। নিহত মামুন শেখের বড় ভাই সজিব শেখ ও নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনীল বৈরাগীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের দাবি, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের বাদশা কাজীর ছেলে মোশারফ কাজী প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয় ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয়। পরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালি পাঠালে ঘটে এই দুর্ঘটনা। এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত দালাল মোশারফ কাজী দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া বসবাস করছে। তার ছেলে যুবরাজও গ্রাম থেকে ইতালি পাঠানোর জন্য যুবকদের সংগ্রহ করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। রাজৈর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার আসাদ বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাহউদ্দিন বলেন, মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। মামলা হলে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে। কিন্তু পরে আবার বাদীদের সঙ্গে আপস করে ছাড়া পেয়ে যায়।
Published on: 2024-02-17 05:14:05.094969 +0100 CET

------------ Previous News ------------