বাংলা ট্রিবিউন
কেন বারবার অকেজো হয় মেট্রো স্টেশনের টিকিট মেশিন?

কেন বারবার অকেজো হয় মেট্রো স্টেশনের টিকিট মেশিন?

মেট্রোরেলে একক যাত্রার টিকিট কাটার জন্য প্রত্যেক স্টেশনেই চারটি করে স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডর মেশিন রয়েছে। এগুলোতে টাকা ঢুকিয়ে যাত্রীরা নিজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। তবে চালু হওয়ার দিন থেকেই এই মেশিন নিয়ে অভিযোগ। প্রায় দিনই কোনও না কোনও স্টেশনে কোনও না কোনও মেশিন কিছু সময়ের জন্য অকার্যকর থাকছে। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের সবগুলো স্টেশন রাত পর্যন্ত চালু হওয়ায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে এই মেশিনগুলোর সমস্যাও। ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয় মেট্রোরেল। প্রথমে শুধু আগারগাঁও ও উত্তরা উত্তর স্টেশনের মধ্যে ট্রেন চলাচল  শুরু করে। শুরুর প্রথম দিন দুই স্টেশনেই টিকিট কাটার দুটি মেশিনে সমস্যা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, উৎসুক যাত্রীদের চাপে এই মেশিন অকেজো হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় যাত্রীরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় এমনটা হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি থেকে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সবগুলো স্টেশনে রাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল শুরু করে। এতে মেট্রোরেলে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যায় বহুগুণ। বারবার ব্যবহার উপযোগী র‌্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস নেওয়ার হারও বাড়ছে। তবে এখনও বেশিরভাগ যাত্রী একক যাত্রার টিকিট কেটে যাতায়াত করেন।  তাই মেশিন অকেজো হওয়ায় বাড়ছে ভোগান্তি। সারি ধরে দাঁড়িয়ে এক মেশিন পর্যন্ত যেতেই লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। মেশিন অকেজো হলে আবার নতুন করে অন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। মেশিন হঠাৎ অকেজো হলে সমস্যা সমাধান হতেও সময় লাগে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। সচিবালয় স্টেশনে কথা হয় যাত্রী আফরিন আক্তারের সঙ্গে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন যাচ্ছিলেন, গন্তব্য বই মেলা। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ ধরেই দেখছি পাশের মেশিনটা নষ্ট। কেউ আসছে না মেশিনটা ঠিক করার জন্য। এটা চালু থাকলে এতক্ষণে আমার টিকিট কাটা হয়ে যেত। সন্ধ্যায় নিচে জ্যাম থাকে। রিকশাও নড়ে না। তাই মেট্রোরেলে করে যাওয়ার চিন্তা করি। কিন্তু লাভ হলো না। উল্টো দাঁড়িয়ে থেকে পা ব্যাথা। মিরপুর-১১ স্টেশনে কথা হয় যাত্রী মূসা ইব্রাহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায় স্টেশনেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে৷ এটা যেন এখন সবাই মেনেই নিয়েছে৷ কাউকে ডেকেও পাবেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেশিন পুরোপুরি নষ্ট বিষয়টি এমন না। যাত্রীদের থেকেও একাধিক রং কমান্ড দেওয়া হয়। তারা মেশিনে ভাঙতি টাকা প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেক সময় নেন। আবার পুরানো নোট বারবার প্রবেশ করানোর কারণেও মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যায়। অনেক সময় ভেতরে জমা রাখা ৫০০টি কার্ড (টিকিট) শেষ হয়ে যায়। তখন নতুন কার্ডের ট্রে বসালে আবার টিকিট কাটা যায়। অথবা মেশিনটি আসলেই সমস্যা দিচ্ছে, সফটওয়্যারে যেহেতু চলে বিষয়টি সমাধান করা যাবে। তিনি বলেন, বিষয়টি আমরাও জেনেছি। আমরা সমাধানের জন্য কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।
Published on: 2024-02-21 09:34:57.525658 +0100 CET

------------ Previous News ------------