বাংলা ট্রিবিউন
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ২ বছর: কী প্রভাব পড়লো বাংলাদেশে

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ২ বছর: কী প্রভাব পড়লো বাংলাদেশে

ইউক্রেনে ন্যাটোর সম্প্রসারণ রোধে আজ থেকে দুই বছর আগে কিয়েভ আক্রমণ করে মস্কো। ২০২২ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি যখন রাশিয়ান সৈন্যারা ইউক্রেনের ভেতরে প্রবেশ করে তখন ধারণা করা হয়েছিল— প্রথাগত যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে এবং কিয়েভে একটি পুতুল সরকার বসাবে মস্কো। কিন্তু ওই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে ইউক্রেন এখনও শক্তিশালী রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সারা বিশ্বের মতো শুরু থেকেই বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। ইউরোপকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক রসায়নে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা কম। কিন্তু বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় নেওয়া বিভিন্ন রেজুলেশন ও পদক্ষেপে বিভিন্ন দেশ ও ফোরামের অনুরোধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ইউক্রেন বিষয়ে জাতিসংঘে নেওয়া পাঁচটি রেজুলেশনের মধ্যে দুটিতে পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ এবং তিনটিতে ভোটদানে বিরত ছিল। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘পিস ফর্মুলা’ নিয়ে কাজ করছে কিয়েভ এবং সেটিতে সমর্থনের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদোমর জেলেনিস্কি বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে। সম্প্রতি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জেলেনিস্কি এই অনুরোধ করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার মো. শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারা বিশ্বেই এর প্রভাব অনুভূত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়।’ প্রথম দিকে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে আরেক সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘জ্বালানির দাম প্রথম দিকে বাড়লেও এখন দাম অনেক কমে গেছে। ফলে এখন যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেটি আমাদের নিজেদের কারণে হয়েছে।’ আন্তর্জাতিক বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানির সরবরাহ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হয়নি বলেই ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে। ডলার থাকলে আমরা ঠিকমতো জ্বালানি কিনতে পারতাম।’ *জেলেনিস্কির সঙ্গে বৈঠক* যুদ্ধ বন্ধে পশ্চিমাদের সমর্থন নিয়ে একটি পিস ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছে কিয়েভ। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মাঝামাঝি সুইজারল্যান্ডের উদ্যোগে বার্নে একটি বড় সম্মেলন হতে পারে। সেখানে উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধির অংশগ্রহণ চায় ইউক্রেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাসিনা ও জেলেনিস্কির মধ্যে বৈঠকে উভয়পক্ষ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সব ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাতের বিরোধী। সমস্যা সমাধানেও সব সময় দেশটি সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেয়।’ জেলেনিস্কির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘কেন বৈঠকটি হয়েছে সেটি বলতে পারবো না। তবে বৈঠকের মানে এই নয় যে, আমরা কোনও পক্ষ নিচ্ছি।’ পশ্চিমাদের সঙ্গে এখন আমাদের কিছুটা মনোমালিন্য চলছে। (জেলেনিস্কির সঙ্গে বৈঠক) এর মাধ্যমে তাদেরকে (পশ্চিমাদের) হয়তো কিছুটা খুশি করার চেষ্টা থাকতে পারে।’ কারণ পশ্চিমাদের সঙ্গে আমাদের স্বার্থ আছে বলে তিনি জানান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের ফলে তেমন নেতিবাচক প্রভাব নেই জানিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘রাশিয়ানরা কিছুটা অসন্তুষ্ট হলেই বা কী আসে যায়। মস্কোকে সরকার (বাংলাদেশ) বোঝাতে পারবে— আমাদের স্বার্থের কারণে এটি করতে হয়েছে।’ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনও পক্ষ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি করা কোনো মতেই ঠিক হবে না। আমরা সবসময় ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছি এবং সেটি অব্যাহত রাখা দরকার।’
Published on: 2024-02-24 14:04:44.893369 +0100 CET

------------ Previous News ------------