বাংলা ট্রিবিউন
জুস হাতে বাবার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট তাইফুল

জুস হাতে বাবার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট তাইফুল

অর্থাভাবের কারণে বেশিদূর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারা মানুষটির আয়ে চলতো ৮ সদস্যদের পরিবার। যে আয় না করলে পুরো পরিবার না খেয়ে থাকতে হতো, সেই মানুষটিই অকালে চলে গেলো রাজধানীর বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের আগুনে। বলা হচ্ছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী গ্রামের নিহত জুয়েল গাজীর কথা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন জুয়েলের মা। শোকে মুহ্যমান বাবা। পাগলপ্রায় ভাই। শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ছুটে আসছেন গ্রামের শত শত মানুষ। পরিবারের সদস্যদের তথ্যমতে, অজপাড়াগাঁয়ের জুয়েল নিজের ও পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ৭ বছর আগে পাড়ি জমান রাজধানীতে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে পরিবারের হাল ধরেন। গত ৭ মাস আগে রাজধানীর বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে চাকরি নেন। কে জানতো এই রেস্টুরেন্টেই জীবন দিতে হবে ইসমাইল গাজী ও মোসা. ফাতেমা দম্পতির ছেলে জুয়েল গাজীর। নিহত জুয়েলের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় মেয়ের বয়স ৭ বছর। বাবার মৃত্যুতে অনেক লোকের উপস্থিতি দেখে কিছুটা অনুভব করলেও ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে ২ বছরের ছোট্ট ছেলে তাইফুল। বাবার মরদেহ যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে ছোট্ট টিনের বাড়ির সামনে রাখে তখন হাতে জুস ধরে তাকিয়ে থাকে নিথর দেহের দিকে। এমন করুণ দৃশ্য দেখে সবার চোখের নোনা জল ছলছল করছে। জুয়েলের মরদেহ বাড়িতে আসার খবরে ছুটে আসেন কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। নিহতের মামাতো ভাই সায়মন বলেন, ‘পুরো পরিবারের দায়িত্ব ছিল জুয়েলের কাঁধে। জীবনে কত কষ্ট করেছে তা আমি কাছ থেকে দেখছি। আজ ভাই চলে গেলো। এখন তার দুটি সন্তান ও বৃদ্ধ মা-বাবাকে কে দেখবে। তাদের আর্থিক সংকট অনেক।’ জুয়েলের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গ্রামবাসী কী বলে সান্ত্বনা দেবে ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। জুয়েলের বন্ধুরাও শোকে নির্বাক। স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার মুসল্লি বলেন, ‘জুয়েল অনেক ভালো ছেলে ছিল। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতো। আমরা চেষ্টা করবো সাধ্যমতো ওর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।’ মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল বলেন, ‘পরিবারটি অসহায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ছিল জুয়েল। এখন পরিবারটি আরও অসহায় হয়ে পড়লো। পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। আমরা তার পরিবারের পাশে থাকবো।’ ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বাড়িতে মরদেহ আসার খবর পেয়ে আমি উপস্থিত হয়ে দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেছি।’
Published on: 2024-03-01 16:55:27.115408 +0100 CET

------------ Previous News ------------