বাংলা ট্রিবিউন
আগুনের রেশ কাটতেই বন্ধ হলো অভিযান

আগুনের রেশ কাটতেই বন্ধ হলো অভিযান

রাজধানীর বেইলি রোডের আগুনে ৪৬ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসে রাজধানীর সেবা সংস্থাগুলো। অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপরাধী খুঁজতে একযোগে মাঠে নামে সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও পুলিশ। শুরু হয় বিশেষ অভিযান। অগ্নিকাণ্ডের ১২ দিন পরে এসে দেখা গেলো, মাঝে মধ্যে সিটি করপোরেশনের দুয়েকটি অভিযান চললেও হাত গুটিয়ে ফেলেছে অন্য সংস্থাগুলো। এর আগে চুড়িহাট্টা, নিমতলী, গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণ, বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ড কিংবা সায়েন্স ল্যাবে ভবনে বিস্ফোরণ; যখনই এমন ঘটনা ঘটেছে, সেবা সংস্থাগুলো একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায় সেরেছে। এবার বেইলি রোডের ঘটনার পরও দেখা গেছে একই চিত্র। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ফায়ার সার্ভিস, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেইলি রোডের দুর্ঘটনার পরের এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকায় তিনশ’রও বেশি ভবন ও স্থাপনায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ভবন সিলগালা, স্থাপনা উচ্ছেদ ও শতাধিক শ্রমিক গ্রেফতারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। অনেক জায়গায় অভিযানের ভয়ে বৈধ কাগজবিহীন হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিকেরা ব্যবসা বন্ধ করে গাঢাকা দেন। তবে এখন অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আবার আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই প্রচুর অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েক দিন বাদে তা বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুর্ঘটনার পর আমরা চেষ্টা করি যেন এমন দুর্ঘটনা আবার না ঘটে। তবে এক্ষেত্রে এককভাবে আমরা চাইলেই সব অনিয়ম বন্ধ করতে পারবো না। কারণ আমরা ভবনের নকশা অনুমোদন দেই, অন্য সংস্থা থেকে ট্রেড লাইসেন্স দেয়; বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহারের অনুমোদন দেয় অন্য কেউ। এ কারণে এককভাবে অভিযান না চালিয়ে কীভাবে অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান চালানো যায়, আমরা সে চিন্তা করছি। ডিএসসিসি বলছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় তাদের চাহিদার তুলনায় কম অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আছেন মাত্র দুই জন। এর বাইরে একজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দেওয়া আছে অভিযানের। এর আগে ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় ম্যাজিস্ট্রেট সংকট দেখা দিলে জনপ্রশাসন বিভাগ থেকে দুই মেয়াদে ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হলেও ডেঙ্গু মৌসুম শেষে আবার তাদের ফেরত নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেইলি রোডের দুর্ঘটনার পর এরকম যেসব ভবন অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ছিল সেগুলোতে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট কম থাকায় আরও যেসব ভবন বা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো দরকার, তা করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়াতে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখনই কোনও দুর্ঘটনা, দুর্যোগ ও বড় সংকট সৃষ্টি হয় তখনই দায়িত্ব পালনকারী কর্তৃপক্ষ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধী খুঁজতে মাঠে নামে। কয়েকদিন পর আবার আগের মতোই চলতে থাকে সবকিছু। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত অভিযানের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুর্ঘটনার পর সংস্থাগুলো দায়সারা যেসব অভিযান পরিচালনা করে, দীর্ঘমেয়াদে এগুলোর কোনও সুফল নেই। দুর্ঘটনার পর দরকার ছিল যে সংস্থার দায় আছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো। কিন্তু আমরা তা দেখিনি। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দুর্ঘটনার পর বিচ্ছিন্ন অভিযান না চালিয়ে রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব সেবা সংস্থার সমন্বয়ে বছরব্যাপী সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ।
Published on: 2024-03-11 19:19:26.855433 +0100 CET

------------ Previous News ------------