বাংলা ট্রিবিউন
রমজানে কেন বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

রমজানে কেন বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ নাকি খোলা থাকবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় রবিবার (১০ মার্চ) থেকেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর নতুন নির্দেশনা না পাওয়ায় আগের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১১ মার্চ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয় সারা দেশে। সোমবার (১১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আপিল শুনানিতে স্কুল বন্ধের নির্দেশনার পর রমজানের অন্তত প্রথম দিন স্কুল বন্ধের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সোমবার রাতেও এ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনা দেয়নি। ফলে রাজধানীর অনেক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার অনেক স্কুল বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে- শিখন ঘণ্টা ঠিক রাখতে রমজান মাসের শুরুতে ১০ থেকে ১৫ দিন স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকে। বাংলাদেশেও একসময় রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকতো। আমাদের সময়ও ছিল। সেখানে রমজানের প্রথম ১০ দিন কিংবা ১৫ দিন স্কুল খোলা থাকলে সমস্যা হবে কেন? তাছাড়া স্কুল তো খোলা রাখা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই। অধিদফতরগুলো জানিয়েছে, নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে বছরে যে শিখন ঘণ্টা প্রয়োজন সেই অনুযায়ী ১৮৫ দিন বিদ্যালয় খোলা রাখতে হবে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের শিখনে ঘাটতি তৈরি হবে। আর এই কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রমজানের প্রথম ১৫ দিন পাঠদান চালু রাখতে নির্দেশনা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। একইভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর শিখন ঘণ্টা ঠিক রাখতে ১৮৫ দিন বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রাখা প্রয়োজন। আর সে কারণে রমজানের প্রথম ১০ দিন বিদ্যালয় খোলা রাখতে নির্দেশনা দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা ঠিক রাখতে হলে বিদ্যালয় খোলা রাখতে হবে ১৮৫ দিন। নানা কারণে অতিরিক্ত ছুটি দিতে হয়। শীতের কারণে এবার ছুটি দিতে হয়েছে। বন্যা বা নানা দুর্যোগে জরুরিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। সে কারণে শিখন ঘণ্টা ঠিক রাখতে পবিত্র রমজানের শুরুতে ১৫ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ্ মো. রেজওয়ান হায়াত বলেন, মাধ্যমিকের বাচ্চাদের সময় কম হলেও হয়তো কাভার করা সম্ভব। কিন্তু প্রাথমিকের বাচ্চাদের কম সময়ে শিখন ঠিক রাখা সম্ভব নয়। এ বছর বেশি শীতের কারণে আমরা ছুটি দিয়েছি। তাই শিখন ঘণ্টা ঠিক রাখতে রমজানের প্রথম ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে।’ নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী বছরে ১৮৫ দিন বিদ্যালয় খোলা না থাকলে কী ক্ষতি হতে পারে জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, ‘স্কুলে এবং স্কুলের বাইরে তথ্য সংগ্রহ, অ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সময় প্রয়োজন। মুখস্থ করতে দিয়ে বসে বসে সময় পার করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন ফল অর্জন করবে শিক্ষার্থীরা। আর সে কারণে কমপক্ষে ১৮৫ দিন বিদ্যালয় খোলা রাখা প্রয়োজন।’ রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে নানা বিতর্ক হচ্ছে তা নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও রমজান মাসে বিদ্যালয় খোলা থাকতো। ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোয় রমজান মাসে বিদ্যালয় খোলা থাকে। তাদের কোনও সমস্যা হয় না, কারণ তারা শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করেই রমজানে বিদ্যালয় খোলা রাখে। তাহলে বাংলাদেশে কেন সমস্যা হবে? অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা শহরের যানজটের কারণে রমজান মাসে স্কুল বন্ধের প্রথম নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই থেকে চলছে। অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা উপকূলে যখন সাইক্লোন হয়, কোথাও বন্যা হয়, তখন সেখানে স্কুল বন্ধ রাখি, তখন কি ঢাকা শহরে বিদ্যালয় বন্ধ রাখি? দেশের ৫ শতাংশ নাগরিকের সব সুবিধার জন্য আমরা গ্রামের বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য করছি, যা করা উচিত নয়।’ আরও পড়ুন:
Published on: 2024-03-11 18:30:54.121385 +0100 CET

------------ Previous News ------------