বাংলা ট্রিবিউন
কেটে গেলো ১৩ দিন, অজানাই থেকে গেলো অগ্নিকাণ্ডের কারণ

কেটে গেলো ১৩ দিন, অজানাই থেকে গেলো অগ্নিকাণ্ডের কারণ

সম্প্রতি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুনের ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। ভবনটিতে আগুন লাগার কারণ ও উৎস বের করতে কাজ করছে একাধিক তদন্ত সংস্থা। কারণ খুঁজতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিমও। তবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও আগুন লাগার স্পষ্ট কোনও কারণ এখনও খোঁজে পায়নি কোনও সংস্থা। ঘটনার দিনই (২৯ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত কমিটি গঠন করে ফায়ার সার্ভিস। এর সভাপতি করা হয় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন। এছাড়া কমিটিতে সংশ্লিষ্ট জোনের ডিএডি, সিনিয়র স্টেশন অফিসার ও ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টরকে রাখা হয়েছে। তবে এসময় কতদিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসামিদের অনেকে পলাতক থাকার কারণে তদন্ত কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। এছাড়াও ইলেকট্রিক কেতলি ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন অনেকে। বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজে’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরের দিন গত ১ মার্চ রাতে পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগুনের এই ঘটনায় ওইদিনই ভবনটিতে ‘চুমুক’ নামে একটি খাবার দোকানের দুই মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান রিমন ও ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মো. জিসানকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর পরের দিন ২ মার্চ  ভবনটির ম্যানেজার হামিমুল হক বিপুলকে আটক করা হয়। এসময় ভবনের বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার বিপুলকে ভবনের ‘ম্যানেজার’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মূলত তিনি ‘এএমপিএম’র সুপারভাইজার। তিনি ভবনের কোনও ম্যানেজার নন। ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, মিডিয়ায় বিপুলকে ‘ম্যানেজার’ বলা হলেও আদতে তিনি সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করতেন। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান ও কমিটির সভাপতি ও পরিচালক অপারেশন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আসামিদের অনেকে পলাতক থাকার কারণে তদন্ত কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। জবানবন্দি নেওয়া এখনও বাকি আছে। তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ভবনের মালিক থেকে শুরু করে এই ঘটনায় যার দায় পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, রাজধানীর বেইলি রোডের আগুনের ঘটনার প্রাথমিকভাবে আমরা যেটা জানতে পেরেছি, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাবনাই বেশি। কেমিক্যালের আলামতও টেস্ট করা হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে সেখানে বিস্ফোরক জাতীয় কিছু ছিল কি না। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস যখন সব কাজ শেষ করেছে, আগুন নিভিয়েছে তখন সিআইডির একাধিক টিম সেখানে কাজ করেছে। সেখানে সিআইডির ফরেনসিক টিম, ডিএনএ টিম ও কেমিক্যাল টিম কাজ করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ১৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক টিম। সেগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। রিপোর্ট পেলেই নিশ্চিত হবে আগুনের কারণ।
Published on: 2024-03-13 16:17:19.717526 +0100 CET

------------ Previous News ------------