বাংলা ট্রিবিউন
দারুণ উদ্যোগেও হয়রান মানুষ

দারুণ উদ্যোগেও হয়রান মানুষ

রমজানে ভোক্তাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কয়েকটি ভোগ্যপণ্য তুলনামূলক কম দামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিললেও আরেকটু মানবিক হওয়ার দাবি তুলেছেন নাগরিকরা। রোজা রেখে রোদে দাঁড়িয়ে কিছু কম মূল্যে মাছ-মাংস কেনার স্বস্তির কথা জানালেও অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন তারা। এমনকি মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বেশ কয়েকজন অসুস্থবোধ করায় ফিরে গেছেন ‘পরে আবার আসবো’ বলে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম বলেন, আমাদের কাছে যে কয়টি স্পটে জায়গা চাওয়া হয়েছে, আমরা ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এদিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের সে ধরনের ব্যবস্থা করার উপায় নেই। আবার এই ট্রাক কখন কোথায় থাকবে— সেই তথ্যও যথাযথভাবে না থাকায় মানুষ বিশেষ সুযোগটি নিতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে যে পণ্যগুলো কিনতে আসছেন ক্রেতারা সেগুলো হলো— দুধ, ডিম, চার ধরনের মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং ড্রেসড ব্রয়লার মুরগির মাংস। এই পণ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে বাজার দামের চেয়ে কম দামে। রাজধানীর ২৫টি স্থানে পিকআপ কুলভ্যানে এবং ৫টি স্থানে স্থায়ী বাজারে এসব স্বল্পমূল্যের পণ্য মিলছে। দাম, মান ও পরিমাণ নিয়ে কারোর কোনও অভিযোগ নেই। স্বল্প মূল্যের এই বাজারে গরুর মাংস ৬০০ টাকা, ড্রেসড ব্রয়লার মুরগির মাংস ২৫০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ডিম ১১০ টাকা ডজন এবং দুধ ৮০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খামারবাড়ির আরেক কোনায় স্বল্পমূল্যে মাছ বিক্রির কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়— রুই মাছ ২৪০ টাকা, পাঙাশ মাছ ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৩০ টাকা, পাবদা মাছ ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৭৫০, খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০-২১০ টাকা। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে চড়া রোদ। রমজানের প্রথম দিন। সরেজমিনে খামারবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাছের ভ্যানের সামনে লম্বা লাইন। তীব্র রোদে কোনো মতে মাথায় কাপড় দিয়ে বা কাগজ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। উদ্যোগটা বর্তমান বাজারে খুবই মানবিক উল্লেখ করে বেসরকারি অফিসে কর্মরত রেজওয়ানুল বলেন, ‘আমার আজ ডে অফ। আমি ভ্যান থেকে জিনিস কেনার সুযোগ পেলে প্রায়ই কিনি। কিন্তু রোজা রেখে এখানে ১০ মিনিট দাঁড়ানোর কোনও উপায় নেই। ছায়া আছে এমন কোনও জায়গায় গাড়ি থামানো, বা অস্থায়ী কোনও ছাউনি করার সুযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষের সেটা আয়োজন করা উচিত।’ যখন কথা হচ্ছিল রেজওয়ানুলের সঙ্গে, সেই সময় রাস্তার উল্টোদিকে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক রিকশার জটলার মধ্যে বসে পড়েন রাস্তায়। আশেপাশে অন্য সময় চায়ের দোকান থাকলেও রোজার কারণে খোলেনি। একজন কোথা থেকে পানি নিয়ে এসে বসে পড়া বয়স্ক লোকের মাথায় ঢেলে দিলেন। কাছে যেতেই তিনি বললেন, ‘কোনো মতে রাস্তা পার হয়েছি। দাঁড়িয়ে থেকে খারাপ লাগছিল।’ আশেপাশে থেকে কেউ একজন ছবি তোলার চেষ্টা করতেই তিনি বললেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করতাম। এখন এই ভ্যান থেকে পণ্য কিনছি— এটা কেউ জানুক, তা চাই না। লোকজন মনে করে, অতি দরিদ্ররাই কেবল ভ্যানের এটা কিনতে আসে।’ *‘* *তাই বলে ট্রাক খুঁজে পাবো না!* *’* ** ‘আমি জানতাম, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ট্রাক দাঁড়াবে। কিন্তু মিরপুর ১০ নম্বর পুরোটা ঘুরেও ট্রাকের দেখা পাইনি,’ কথাগুলো বলেন সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশেপাশেও জিজ্ঞেস করেছি, কেউ নাকি ট্রাক দেখেনি। এখন কালশীর দিকে যাচ্ছি— দেখি সেখানে কিছু পাওয়া যায় কিনা। এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক ও ফটো জার্নালিস্ট ঢাকা শহরের অন্তত চারটি জায়গায় গিয়ে বুধবার (১৩ মার্চ) ট্রাকের দেখা পাননি। প্রেসক্লাবের সামনে রোশন আরা বলেন, ‘আমাদের একটা জায়গা এবং টাইমটা ঠিকমতো বলে দিলে হয়রানি কম হয়। এমনিতেই মালামাল শেষ হলে চলে যায় ট্রাক। কিন্তু কেউ দেখবে না— তা কী করে হয়?  ট্রাক কেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সে বিষয়ে জানার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (প্যাথলজি) মো. জসিমউদদীনকে একাধিকবার কল করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। সুলভ মূল্যের পণ্যবাহী এসব ট্রাক জনগণের একটু সুবিধার জন্য ছায়াবেষ্টিত কোনও জায়গা বা ছাউনিতে দাঁড় করানোর সুযোগ আছে কিনা প্রশ্নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম বলেন, ‘সূলভ মূল্যে মাছ, মাংস, দুধ  ও ডিম বিক্রির জন্য মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে  গাবতলী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও সাতারকুলে জায়গা চেয়েছে। আমরা সেটা দিয়েছি। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আমাদের যেভাবে ফ্যাসিলিটেড করতে বলেছে, আমরা সেভাবেই করেছি। সেগুলো সেডের ভেতরেই আছে।  আর  ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগুলোর বিষয়েও যদি তারা কোনও সহায়তা চায়, তবে মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করবো।’ এমন একটা সাড়া ফেলা উদ্যোগে একটু ছাউনির ব্যবস্থা করে দেওয়া যেতো কিনা, প্রশ্নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কিছু করার ছিল না। ছাউনি দেওয়ার সুযোগ নেই।’ ছবি: প্রতিবেদক
Published on: 2024-03-13 14:43:41.724403 +0100 CET

------------ Previous News ------------