বাংলা ট্রিবিউন
অপরিপক্ব তরমুজের কেজিও ৯০ টাকা

অপরিপক্ব তরমুজের কেজিও ৯০ টাকা

রসালো ফলের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় তরমুজ। রোজায় ইফতারে এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। তাইতো রমজানকে ঘিরে ক্ষেত থেকে তোলা হচ্ছে অপরিপক্ব তরমুজ। চামও চড়া। খুচরা বাজারে এই ফলের দাম এখন প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা, যা অন্যান্য বছরে এ সময়ে ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আর ভরা মৌসুমে দাম ৪০ টাকার মধ্যে থাকে। অর্থাৎ এখন রোজার কারণে তরমুজের দাম অস্বাভাবিক বলা যায়। সারা দেশের মতোও রাজবাড়ীর বিভিন্ন বাজারে এ তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর বেশিরভাগ অপরিপক্ব। ভেতরে লাল রং ধারণ করলেও এখনও মিষ্টতা আসেনি পুরোপুরি। ফলে এসব অপরিপক্ব তরমুজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, এখন মোকামে তরমুজের সরবরাহ কম, দাম বেশি। বরিশাল অঞ্চল পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা ও ঝালকাঠিতে এবার তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। তবে এখনও মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় সব এলাকার তরমুজ আসছে না। গোয়ালন্দ বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, গত বছর এ সময় ১০০ তরমুজ ১২-১৩ হাজার টাকা করে আড়ত থেকে কেনা গেছে। এবার দ্বিগুণ দাম। তারপরও রোজার আগের দিন পাওয়া যায়নি। সে কারণে অস্বাভাবিক দামে কেনাবেচা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে রোজার আগে প্রতি ১০০ তরমুজ কিনতে হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকায়, যা তিন চার দিনের ব্যবধানে ৫-৬ হাজার টাকা বেড়েছে। তাই খুচরায় ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ৩-৪ দিন আগেও ৭০ টাকায় তরমুজ বিক্রি করেছি। খানখানাপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, এখনও তরমুজের মৌসুম আসেনি। রোজার কারণে চাষিরা আগেভাগে তরমুজ তুলে ফেলছেন। যে কারণে অন্য বছর এ সময়ে ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। এখন বাজারে যে তরমুজগুলো দেখা যাচ্ছে, তা আকারে ছোট, তিন কেজির মধ্যে বেশি। বড় তরমুজ নেই বললেই চলে। এসব তরমুজের বেশির ভাগই অপরিপক্ব। রাজবাড়ী বাজারে তরমুজ কিনতে আসা ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম  বলেন, রোজা বলেই বাজারে তরমুজ কিনতে এলাম। তবে বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন। তাছাড়া তরমুজগুলো অপরিপক্ব। বেশি বড় হয়নি। কেজি দরে একটি তরমুজ কিনতে গেলে ৪০০-৫০০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। যদি দামটা ৫০-৬০ টাকা কেজি হতো তাহলে আমাদের মতো ক্রেতাদের সুবিধা হতো। আরেক ক্রেতা সুলতান মাহমুদ বলেন, ৮০ টাকা কেজি দরে চার কেজি ওজনের একটি তরমুজ কিনেছি। দামটা অনেক বেশি। দোকানদার একটু কমও রাখলো না। বাড়ির বাচ্চারা বায়না ধরছে তরমুজ খাবে, কিছু করার নেই যত দামই হোক কিনতে হয়েছে। জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে তরমুজের আবাদ শুরু হয়। ফল উঠে এপ্রিলে। এরপর মে মাসজুড়ে মাঠে তরমুজ থাকে। সেই মাসই ভরা মৌসুম। পরিপক্ব তরমুজ উঠতে উঠতে চৈত্র মাস বা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ হয়। কিন্তু চাষিরা দামের কারণে আগেভাগেই অপরিপক্ব তরমুজ তুলে বেশি লাভের আশায় বিক্রি শুরু করে দিয়েছে। তবে জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি বন্ধের বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পিস হিসেবে তরমুজ কিনতে চান তারা।
Published on: 2024-03-15 03:10:34.79767 +0100 CET

------------ Previous News ------------