বাংলা ট্রিবিউন
স্বল্পমূল্যের কুলভ্যানে বেশি আগ্রহ গরু ও মুরগির মাংসে

স্বল্পমূল্যের কুলভ্যানে বেশি আগ্রহ গরু ও মুরগির মাংসে

বাজারের দামের চেয়ে কম দামে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম পেতে প্রতিদিনই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কুলভ্যানের সামনে ভিড় বাড়ছে। পয়লা রমজান থেকে রাজধানীর ৩০টি স্থানে কুলভ্যানে করে এসব পণ্য বিক্রির ঘোষণা দেয় সরকার। নির্ধারিত সব স্থানে ও ঘোষিত সময়ে কুলভ্যানগুলো না আসার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এরপর যেখানেই ও যখনই কুলভ্যান আসছে, সেখানে প্রতিদিনই ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান বিভিন্ন স্থানের বিক্রেতারা। তারা আরও জানান, অধিকাংশ ক্রেতার আগ্রহ গরু ও মুরগির মাংসে। ফলে শুরুর ঘণ্টায় দুয়েকের মধ্যেই এই দুই পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। *এক ঘণ্টায় গরু-মুরগি শেষ, দুই ঘণ্টায় বিক্রি বন্ধ* রবিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর কালশীতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টায় নিদিষ্ট স্থানে এসে পৌঁছায় দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির ভ্যান। আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন ক্রেতারা। ১০টার পরপরই বিক্রি শুরু হয়। ১১টার মধ্যে গরু ও মুরগির মাংস শেষ হয়ে যায়। পরে খাসির মাংসও শেষ হয়ে যায়। পরের আধা ঘণ্টায় অবশিষ্ট দুধ ও ডিম বিক্রি হয়। কালশীর বিক্রেতা রাকিবুল হক রহিম বলেন, আজ ১০০ কেজি গরু, ৫০ কেজি মুরগি ও ১০ কেজি খাসি মাংস নিয়ে এসেছিলাম। এছাড়া ১ লিটারের প্যাকেটজাত দুধ ২০০ প্যাকেট ও ডিম ২৪০০ পিস বা ২০০ ডজন নিয়ে আসি। সবার আগ্রহ গরুর ও মুরগির মাংসের প্রতি। এই দুই আইটেম না পেলে খাসি নিয়ে যান কেউ কেউ। সঙ্গে দুধ-ডিম নেন ক্রেতারা। ছুটির দিন থাকায় আজ শুরু থেকেই ক্রেতাদের ভিড় ছিল। এক কেজির বেশি মাংস পাওয়ার দাবি জানিয়ে অধিকাংশ ক্রেতা বলেন, সবাই চায় বেশি করে মাংস নিতে। কেউ কেউ তিন কেজি পর্যন্ত চেয়ে বসেন। কিন্তু এক কেজির বেশি তো বিক্রি করা যায় না। তবু চাপাচাপি কমে না ক্রেতাদের। কারও সঙ্গে তো কঠিন ব্যবহারও করা যায় না। সবাই এখানকার লোকাল। পণ্য বেশি আনা যায় না জানিয়ে রাকিবুল হক রহিম বলেন, রোজার শুরুতে কম করে জিনিসপত্র আনতাম। বিক্রিও কম ছিল। গত তিন ধরে বেশি করে আনছি। বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আবার অতিরিক্ত নিয়ে আসাটাও রিস্ক। পচনশীল জিনিস, বিক্রি না করতে পারলে ফেরত নিয়ে যেতে হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি (চামড়া ছাড়ানো) ২৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৯০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার দুধ ৮০ টাকা ও ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। *গরিব মানুষ ২০০-৩০০ টাকা বাঁচাইতে পারলেও লাভ* ভ্রাম্যমাণ এসব কুলভ্যানে সাধারণত পণ্য কিনতে আসছেন স্থানীয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা। বাজার মূল্যের চেয়ে পণ্যভেদে ১০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমে পাওয়া যাচ্ছে দুধ, ডিম, মাছ, মাংস। সব উপাদান মিলিয়ে প্রত্যেক ক্রেতাই হাজার-১২শ’ টাকার সদাই করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে গড়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা সাশ্রয় হয় বলে জানান ক্রেতারা। মিরপুর কালশী রোডে আঞ্জুমান নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজার থেকে দাম কম এইখানে। ভ্যান আসার আগেই দাঁড়ায়া আছি। আমরা গরিব মানুষ। ২০০-৩০০ টাকা কমে কিনতে পারলে ওই টাকাটাই বাঁচে। এই টাকাটা হাতে থাকলে অন্য শাকসবজি কেনা যায়।’ গত বছরও ভ্রাম্যমাণ কুলভ্যান থেকে বাজার করেছেন জানিয়ে আবুল হাসেম বলেন, এটা ভালো উদ্যোগ। বেশি কম না হলেও বাজার থেকে তুলনামূলক কম। তবে গত বছর কিন্তু আরও কমে বিক্রি করেছিল এই ভ্যান থেকে। এই বছর প্রত্যেক আইটেমে ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। *২৫টি ভ্রাম্যমাণ ও ৫টি স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র* রমজান মাসজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করতে ২৫টি ভ্রাম্যমাণ ও ৫টি স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র বসিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। স্থায়ী পাঁচটি বাজার হলো–মিরপুর শাহ আলি বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, নতুন বাজার (১০০ ফুট), কমলাপুর, কাজি আলাউদ্দিন রোড (আনন্দবাজার)। আর ভ্রাম্যমাণ কুলভ্যান আসার স্থানগুলো হলো– মিরপুর কালসী, মিরপুর ১০, মিরপুর ২ (ষাটফুট রোড), গাবতলী, কল্যাণপুর (ঝিলপাড়া), উত্তরা দিয়াবাড়ী, জাপান গার্ডেন সিটি (মোহাম্মদপুর), বসিলা (মোহাম্মদপুর), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), নতুনবাজার (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), কল্যাণপুর (ঝিলপাড়া), আজিমপুর মাতৃসদন (আজিমপুর), খিলগাঁও (রেল ক্রসিংয়ের দক্ষিণে), সচিবালয়ের পাশে (আব্দুল গনি রোড), সেগুনবাগিচা (কাঁচাবাজার), আরামবাগ (মতিঝিল), রামপুরা, যাত্রাবাড়ী (মানিকনগর গলির মুখে), হাজারীবাগ (সিকশন), লুকাস (নাখালপাড়া), কামরাঙ্গীরচর, তেজগাঁও, পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার), কাকরাইল।
Published on: 2024-03-17 12:08:05.776298 +0100 CET

------------ Previous News ------------