বাংলা ট্রিবিউন
অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যাখ্যায় ‘সব দোষ শিক্ষার্থীর’

অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যাখ্যায় ‘সব দোষ শিক্ষার্থীর’

ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার বিচারের দাবিতে যখন উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঠিক সে সময়ে উঠে এসেছে দুই বছর আগের ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেক শিক্ষক আবু শাহেদ ইমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কথা, যার বিচার এখনও হয়নি। এর মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, তিনি যেহেতু ওই ব্যাচের কোনও ক্লাস বা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করেন না, ফলে ফেল করার সঙ্গে ওই অভিযোগের ঘটনার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। নিয়মমতো অ্যাসাইনমেন্ট না দেওয়ায় ফেলের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও এর আগে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, অভিযোগ করার পর কীভাবে সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে হয় তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। আর মনোরোগ বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা এই ধরনের অভিযোগ করেন তারা অলরেডি একটা ট্রমার মধ্যে থাকেন। অভিযোগ দায়েরের পরে বিভাগের অভিভাবকদের উচিত তাকে বিভাগে কমফোর্ট জোন তৈরি করে দেওয়া। সদ্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া অবন্তিকার মতো শিক্ষক কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হন ফিল্ম ও টেলিভিশন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, দুই বছর আগে যৌন হয়রানি ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে এখনও বিচার পাননি তিনি। উল্টো তাকে বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেল করানো হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ওই ছাত্রী বলেন, ‘কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে অন্যায় করেছি বলে আমার মনে হয়। কারণ, আজকে আমি ফেল। শিক্ষার্থীর ফেলের বিষয়টা কোনোভাবেই তার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় উল্লেখ করে ওই শিক্ষক বলেন, অভিযোগ দাখিলের পর আমাকে ওই ছাত্রীর ব্যাচের সব অ্যাকাডেমিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে তার ফেল করার সঙ্গে আমার যুক্ত থাকার কোনও সুযোগ নেই। বিভাগে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি ক্ষমতাবান এবং বিভাগে তার উপস্থিতি মেয়েটির শিক্ষাজীবনকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা প্রশ্নে বলেন, আমার সঙ্গে তেমন কোনও যোগাযোগই তার হয়নি। অভিযোগের সঙ্গে যদি তার সহপাঠীরা থাকতো তাহলে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী যেদিন প্ল্যাকার্ড হাতে বিচারের দাবি জানিয়েছিল সেদিন সহপাঠীরা কেন সঙ্গে ছিল না। উল্লেখ্য, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘যৌন হয়রানির বিচার চাই’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক আবু শাহেদ ইমনের বিরুদ্ধে। সূত্র জানায়, ২০২২ সালে ছবিটি সামনে এলেও ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, এই যৌন হয়রানির ঘটনা ২০১৯ সালের এবং তার দুই বছর পরে তিনি ২০২১ সালে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণের পরে তাকে ওই অভিযোগকারীর ক্লাসের কোনও কিছুর সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়। “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আপনাকেই বেছে নিলো কেন প্রশ্নে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, আমি আসলেই কিছু জানি না। যদি আমি কিছু করে থাকি, তার কোনও প্রমাণ থাকবে না? কিছু সারকামসটেনসিয়াল অ্যাভিডেন্স দিয়ে আমাকে দোষী বানিয়ে দেওয়া যাবে? আমি শুধু ক্লাসে হয়তো নিয়মিত না হওয়ায় এই শিক্ষার্থীকে বকে থাকতে পারি, যেমনটা আমরা হরহামেশাই করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল হাসাম মামুন ফেসবুকে লিখেছেন, না রে মা, তুমি ফেল না। আমি, আমরা, আমাদের সমাজ ফেল। কেন এরকম অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের বিভাগের অন্য শিক্ষকরা একটা সুস্থ নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দেবেন না, এক্সট্রা মনোযোগ কেন দেবেন না—প্রশ্ন করলে মেখলা সরকার বলেন, যারা এ ধরনের অভিযোগ করেন তারা অলরেডি একটা ট্রমার মধ্যে থাকেন। অভিযোগ দায়েরের পরে বিভাগের অভিভাবকদের উচিত তাকে বিভাগে কমফোর্ট জোন তৈরি করে দেওয়া। তারা ঘটনার কারণে ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়, অভিযোগ করার পরে সহপাঠী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ যদি তাদের পক্ষে না থাকে, তাহলে তাদের দৈনন্দিন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর দায় তার আশপাশের সব মানুষকে নিতে হবে। অভিযোগ করার পরে শিক্ষার্থী স্বাভাবিক পরিবেশ পেলো কিনা সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর—এমন উল্লেখ করে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জোট আমরাই পারি’র সমন্বয়ক জিনাত আরা হক বলেন, যিনি অভিযোগ করছেন তার অবস্থান অপেক্ষাকৃত দুর্বল। ক্ষমতাবান শিক্ষকের বিপরীতে তিনি যেন তার শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই দায় নিতে হবে। কোনও প্রমাণ নেই—অভিযুক্তের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কোনও হয়রানি প্রমাণ রেখে হয় না। মেয়েটি যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সেটিকে ধরেই তদন্ত কমিটি তাদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। অভিযোগগুলো ফেলে না রেখে দ্রুত সমাধান করা দরকার।
Published on: 2024-03-19 17:05:25.23798 +0100 CET

------------ Previous News ------------