বাংলা ট্রিবিউন
বিচারহীনতার জন্য যৌন হয়রানিবিরোধী সেলের কার্যকারিতা কতটুকু দায়ী

বিচারহীনতার জন্য যৌন হয়রানিবিরোধী সেলের কার্যকারিতা কতটুকু দায়ী

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা শিক্ষক ও সহপাঠীকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ফাইরুজ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, সহপাঠীদের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েও বিচার পাননি তিনি। যদিও জবিতে বিচার না পাওয়ার বিষয়টি এবারই প্রথম নয়। প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এমনকি বিচার চেয়ে উল্টো হয়রানি ও পেশিশক্তির মুখোমুখি হওয়ারও অভিযোগ আছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কেন বিচার হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিচার করা হয় না এমন না, মূলত যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালার কাঠামো ও পারিপার্শ্বিকতায় দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। সচেতন মহল ও শিক্ষার্থী-প্রতিনিধিরা বলছেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কার্যকারিতা শুধু নীতিমালায় সীমাবদ্ধ থাকা ও তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মিলছে না বিচার। সেক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের বর্তমান নীতমালা শক্তিশালী করার পাশাপশি নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে সেলে প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার পর আরেকটি অভিযোগ সামনে আসে। ফ্লিম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের এক শিক্ষার্থী নিজ বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও কু-প্রস্তাবের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, বিভাগের শিক্ষক এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন তাকে দিনের পর দিন কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার কথায় সাড়া না দেওয়ায় তাকে একাধিকবার পরীক্ষায় ফেল করানো হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে জানান, বিভাগীয় প্রধান ওই কু-প্রস্তাবকারী শিক্ষককে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে বহিষ্কারের ভয়ভীতি দেখান এবং শিক্ষার্থীর বাবাকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। ২০২২ সালের এই ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা হলে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে রায় হয়। তারপরও সেই কু-প্রস্তাবকারীর বিচার হয়নি বলে জানান তিনি। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবিএম মানিকের বিরুদ্ধে। ওই সময় এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষক মানিককে বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন গত ২৪ জানুয়ারি জমা দিয়েছে কমিটি। আগামী সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ২০১৭ সালে জবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক আব্দুল হালিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন দুই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় দুই দফা তদন্তের পর ২০১৮ সালে ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে তিরস্কার ও দুই বছরের জন্য পদোন্নতি পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী ছাত্রী এমন শাস্তিতে অসন্তুষ্ট জানিয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিলে ফের উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ৮২তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষককে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনা প্রমাণ হওয়ার পরও তাকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে লঘুদণ্ড দিয়ে। অভিযোগ দেওয়ার পর ৩-৪টা কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে। কমিটির সদস্যরা অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধও করেছেন আমাকে। সবশেষ গত বছর নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের উপ-পরিচালক হিমাদ্রী শেখর মণ্ডলের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ওই নারী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, হিমাদ্রী শেখর মণ্ডল একই দফতরের সেকশন অফিসার কামরুজ্জামান রাসেলকে নিয়ে তার রুমে প্রবেশ করেন। এরপর ভুক্তভোগীর কাছে হিমাদ্রী শেখর জানতে চান জোর করে রুম দখল নিয়েছেন কিনা। তারপর তারা ওই নারীকে দুপুরের মধ্যেই তার টেবিল কক্ষের বাইরে বের করতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে হিমাদ্রী শেখর উত্তেজিত হয়ে ওই নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এ সময় দফতরের অন্য সহকর্মীরা হিমাদ্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন। এছাড়া হিমাদ্রী শেখর ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ফোনে কয়েক দিন অরুচিকর কথাবার্তা বলেন। একদিন ওই দফতরের আরেক নারী উপ-পরিচালকের সামনেই ভুক্তভোগীকে বাজে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন—আপা, আপনি হিন্দু হলে আমি আপনাকে বিয়ে করতাম। আপনাকে আমার খুবই ভালো লাগে। হিমাদ্রীর উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে হেনস্তা করা অন্যতম কারণ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তেরও কোনও অগ্রগতি নেই। ** *অভিযোগ থাকলেও কেন বিচার হচ্ছে না?* বিচার না হওয়া ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালার কাঠামো ছাড়াও পারিপার্শ্বিকতার কারণে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা। ফলে বিচার শেষ করতে যেমন সময় লাগে, তেমনই বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তবে নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই তাদের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লাইসা আহমদ লিসা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাইলেই তো এক কিংবা দুই দিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হয় না। একটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আমাদের নানা পারিপার্শ্বিকতা মোকাবিলা করতে হয়। তারপরও আমরা ইতোমধ্যে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশনের প্রভাষক আবু শাহেদ ইমনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। আমাদের কাজ শুধু তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিল করা।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘নিপীড়নের অভিযোগগুলো অনেক সেনসিটিভ। সে কারণে একটু সময় নিয়ে বিশ্লেষণ করে তদন্ত করতে হয়। আবার অভিযুক্ত যদি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আপিল করেন, তখন নতুন করে কমিটি করে তদন্ত করতে হয়। এর ফলে দেরি হয়ে যায়। এতে অনেক অভিযোগকারীই দৌড়াদৌড়ির ভয়ে মাঝপথে অভিযোগ তুলে নেন, বা অনেকেই হয়তো মিউচুয়াল করে নেন। ফলে সেসব বিষয়ে আসলে আর দ্রুত আগানো যায় না। তবে আগে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো আগামী সিন্ডিকেটের আগেই রিপোর্ট প্রস্তুত করে সিন্ডিকেটে উত্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে বা আসবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসন তৎপর ভূমিকা পালন করবে।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। বিগত দিনে যতগুলো এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত হয়েছে কিন্তু বিচার বাকি, আর যেগুলোর তদন্ত চলমান, সেগুলো দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ *কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখার আহ্বান* শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি বা দুটি নয়, এমন নিপীড়নের ঘটনা অসংখ্যবার ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী লোকলজ্জার ভয়ে কিংবা অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ার বাঁচাতে নীরবে সহ্য করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উল্টো হয়রানির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকলেও তার কার্যপরিধি সীমাবদ্ধ। কমিটিকে শক্তিশালী করতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব তাদের। ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর সংগঠক কিশোর সাম্য বলেন, ‘বিচার না হওয়ার যে অনুশীলন তাতে গাছাড়া দেওয়ার একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। চাইলেই সব ভুক্তভোগী শক্তভাবে বিচার চাইতে পারেন না। কারণ বিচার চাইলে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আবার অভিযোগ দিয়ে হয়রানির মুখোমুখি হলেও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না প্রশাসন। যৌন নিপীড়ন সেলে রিপোর্টের পর রিপোর্ট তৈরি করা হয়, সিন্ডিকেট মিটিংয়ের নামে দীর্ঘসূত্রতা করা হয়। আমাদের কিছু শক্তিশালী নিয়ম ও নীতি তৈরি করতে হবে এটার জন্য। যাতে কেউ রাষ্ট্রীয় আইনকে এড়িয়ে যেতে না পারে।’ ছাত্র ইউনিয়নের জবি শাখার কোষাধ্যক্ষ শাহ সাকিব সোবাহান বলেন, ‘যৌন নিপীড়ন সেলের নীতিমালাতেই ভুল আছে। কারণ, এটাতে যে দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ রাখা হয়েছে তদন্তের নামে, সেখানে দেখা যায়, ভুক্তভোগী হয়রানির মুখোমুখি হন। এটা পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়াও সেলকে শক্তিশালী করতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের যুক্ত করতে হবে। যাতে কেউ চাইলেই চাপ প্রয়োগ করে তদন্তের মোড় অন্যদিকে না নিতে পারে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী সিদরাতুল মুনতাহা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ও সহপাঠী উভয়ের কাছে হেনস্তার সম্মুখীন হন। কিন্তু সম্মান ও অ্যাকাডেমিক ফলের কথা ভেবে বিষয়টা লুকিয়ে যান। বিশেষ করে যখন কেউ বিচার চাওয়ার পরও হয়রানির শিকার হন, তখন অন্য শিক্ষার্থীরাও সাহস হারান। যারা বিচার চান তাদের নিরাপত্তার সবটুকু দায়ভার নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে। সেক্ষেত্রে নীতিমালা করে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।’ ** *চ্যালেঞ্জ নিতে হবে প্রতিরোধ সেলকে* সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ দেওয়ার পর ভুক্তভোগীকে যেন হয়রানির মুখোমুখি না হয়, তার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে প্রতিরোধ সেলকে। পাশাপাশি দীর্ঘসূত্রতা কমাতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, ভিক্টিম মনোনীত প্রতিনিধি এবং যারা লৈঙ্গিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও নিপীড়ন প্রতিরোধে কাজ করেন, তেমন প্রতিনিধি যুক্ত করা যেতে পারে প্রতিরোধ সেলে। মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘কমিটি কীভাবে আছে, কমিটির সক্রিয়তা কেমন, ঠিকভাবে কাজ করে কী, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কারণ বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠছে আমাদের। পলিটিক্যাল একটা চাপ থাকে এসব বিচারের জন্য। ফলে ওপরে যারা থাকেন, তাদের জন্যও কাজ করা কঠিন হয়ে যায়। এসব কারণে ভুক্তভোগীর ওপরও চাপ তৈরি করা হয় অভিযোগ তুলে নিতে। তার নিরাপত্তার জায়গাটাও নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষকরা অভিযুক্ত হলে তাদের সহকর্মীরা তাদের সাহায্য করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সংবিধানের ১১ ধারা অনুযায়ী, এগুলোও অপরাধ। কিন্তু যারা দায়িত্ব থাকবেন, তাদের এই চাপগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে।’ বিচারহীনতা কিংবা বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক লুবনা জেবিন বলেন, ‘এটা ঠিক যে এসব অনেক অভিযোগেরই কোনও শাস্তি হয় না। আবার নিপীড়নের তদন্ত প্রক্রিয়াও বিভিন্ন আইনগত বাধ্যবাধকতার জন্য দীর্ঘ হয়। এখানে অনেক কারণ কাজ করে। সহকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে বললে প্রথমত সেটা যে রাজনীতি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য শুধু হয়, তেমনটা আমার মনে হয় না। যেহেতু নিপীড়নের তদন্ত প্রক্রিয়াগত কারণে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকে, এই সময়ে অভিযুক্তের সুযোগ থাকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার যোগাযোগের মাধ্যমে আনুকূল্য লাভ করার। পাশাপাশি, নিপীড়নের ঘটনা একটু পুরনো হয়ে গেলে অনেক সহকর্মীই অপরাধটা ‘হালকা’ করে দেখতে শুরু করেন। তাছাড়া একই সামাজিক শ্রেণি বা পেশাভুক্ত হবার কারণে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অনেক শিক্ষকই অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতি দুর্বলতা প্রকাশ করেন।’ নিপীড়ন প্রতিরোধের সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী নিপীড়নবিরোধী সেল এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে। আমার মতে, এই সেলে অবশ্যই শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, ভিক্টিম মনোনীত প্রতিনিধি এবং যারা লৈঙ্গিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও নিপীড়ন প্রতিরোধে কাজ করেন তেমন প্রতিনিধি থাকা দরকার। কারণ আমরা অনেক সময় শুনতে পাই, অভিযোগকারীকে তদন্তের সময় বিভিন্ন অসংবেদনশীল প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, যা কিনা নিপীড়ন পুনরুৎপাদন করে।’
Published on: 2024-03-19 19:07:46.51269 +0100 CET

------------ Previous News ------------