বাংলা ট্রিবিউন
শপিংমল-মার্কেটে বাড়ছে আনাগোনা

শপিংমল-মার্কেটে বাড়ছে আনাগোনা

দেখতে দেখতেই রমজানের প্রথম সপ্তাহ শেষ হয়ে গেছে। এরইমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে ঈদের বাজারে। নিজের বা পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে যাওয়া শুরু করেছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ মার্কেটে যাচ্ছেন শুধুই ঈদের নতুন ‘কালেকশন’ দেখার জন্য। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনও সেভাবে ‘ঈদ মার্কেট’ জমে ওঠেনি। বিক্রি-বাট্টা এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। তবে সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসের শুরু মানেই ঈদের প্রস্তুতি শুরু। এই সময়টার জন্য কয়েকমাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীসহ দেশের সব শহরেই শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে করা হয় বাড়তি সাজসজ্জা। দেওয়া হয় নানারকম ‘ছাড়-অফারের’ ঘোষণা। আর সাধারণ মানুষও ঈদে নতুন জামা, স্বজনদের জন্য উপহার, ঘরের সাজসজ্জার নতুন উপকরণ ও বাহারি খাবারের আয়োজনে করেন নানান পরিকল্পনা। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল, নিউ মার্কেট, গুলিস্তানের পীর ইয়ামীনী মার্কেট, রমনা ভবন মার্কেট ও মিরপুর ২ নম্বরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা শপিং মল ও মিরপুরের শোরুমগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেছে। তবে পীর ইয়ামীনি ও রমনা ভবন মার্কেট প্রায় ফাঁকা। বিক্রেতারা অপেক্ষা করছেন সময় গড়ানোর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। বসুন্ধরা শপিং সেন্টারে কেনাকাটা করতে আসা আরাফাত হোসেন বলেন,  ঈদ যত এগিয়ে আসবে শপিংমলগুলোতে ভিড় ততই বাড়তে থাকবে। তাই রোজার শুরুর দিকে কেনাকাটা করে ফেলি। সব কেনাকাটা এখনও শেষ হয়নি। আরও কয়েকদিন মার্কেটে আসতে হবে। আজকে শুধু দুটো পাঞ্জাবি কিনেছি। একই শপিংমলে এসেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়রা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘দুই-একদিন ঘুরেই সব শপিং শেষ হয়ে যাবে, এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই ঘুরতে থাকি আর যখন যেটা পছন্দ হয়, সেটা কিনে ফেলি। এক বছর পর ঈদ আসে, সেটা একটু ঘুরে ঘুরে কিনতে নিজের কাছেও ভালো লাগে।’ কেবল নিজের জন্যই নয়, স্বজনদের জন্য ঈদ উপহার কেনার মধ্যেও রয়েছে ভিন্ন রকমের ভালোলাগা। তাই উপার্জক্ষম ব্যক্তিরা নিজের  পাশাপাশি পরিবারের জন্যও সাধ্যমতো কেনাকাটা করার চেষ্টা করেন। পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছিলেন রেদোয়ান আহমদ। তিনি বলেন, ‘রোজায় অফিস আগেই ছুটি হয়ে যায়।  তাই ইফতারের পর স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে কেনাকাটা করতে বের হই। বাবা- মা, শ্বশুর-শাশুড়ির জন্যও কেনাকাটা করবো। একদিনে হবে না। কিছু কিনেছি, আরও অনেক কেনা বাকি আছে।’ বন্ধুদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন খোকন পারভেজ। তিনি বলেন, ‘মূলত আমরা দেখতে এসেছি, কেনবো কিনা জানি না। যদি পছন্দ হয় তাহলে কেনবো। আর পছন্দ না হলে ঘোরাঘুরি করে চলে যাবো, মাত্র তো শুরু। প্রতিদিনই প্রায় নতুন নতুন ডিজাইনের ড্রেস আসতে থাকবে এখন। তাই দেখেশুনেই কেনবো।’ ক্রেতারা যেমন অপেক্ষা করছেন নতুন ডিজাইনের পোশাক আসার, তেমনই বিক্রেতারাও অপেক্ষায় আছেন ক্রেতাদের। বসুন্ধরা শপিংমলের ইয়োলো শোরুমের বিক্রেতা বলেন, আমাদের বিক্রি ভালোই চলছে। শবে বরাতের পর থেকেই অনেকে কেনাকাটা শুরু করেছে। অনেকে ভাবে ঈদের সময় দাম বেড়ে যাবে, তাই আগেভাগে কিনে ফেলে। একই শপিংমলের এক্সটেসি শোরুমের বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, ঈদের কাস্টমার এখনও পাইনি। এখনও রেগুলার বিক্রিই চলছে। ঈদের আমেজ বলতে যেটা বুঝি, সেটা এখনও আসেনি।’ মিরপুর ২ নম্বরে পোশাকের শোরুম সারা লাইফস্টাইলের বিক্রেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঈদের আমেজ মোটামুটি আছে। তবে শুক্রবার থেকে বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। গত তিন দিন সরকারি বন্ধ থাকায় বিক্রি ভালো হয়েছে।  অনেক মানুষ কেনাকাটা করেছে।’ মিরপুর ২ নম্বরের ইনফিনিটি শোরুমের ম্যানেজার মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমাদের বিক্রি কয়েকদিন আগে ভালোই ছিল। এখন মনে হচ্ছে তেমন না। তবে আমাদের অন্যান্য শোরুমে বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে শুনেছি।’ নবরূপা শোরুমের বিক্রেতা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিক্রি ভালো। কয়েকদিন পর আরও বাড়বে। যখন মানুষের হাতে বেতন আসবে, আসলে পুরোপুরি ঈদের বাজার তখন জমে উঠবে। এখন যেহেতু মাসের মাঝামাঝি তাই মানুষ হিসাব করে খরচ করছে।’ বসুন্ধরা শপিংমল ও মিরপুর এলাকার শোরুমগুলোতে যখন ধীরে ধীরে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে— তখন গুলিস্তান এলাকার পীর ইয়ামীনী মার্কেট ও রমনা ভবন মার্কেটের বিক্রেতারা অপেক্ষা করছেন ক্রেতাদের আগমনের। এখানকার বিক্রেতারা আশা করছেন— আগামী শুক্রবার থেকে ঈদের বাজার জমবে। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যাশা, গত বছরের চেয়ে এ বছর বিক্রি বেশি হতে পারে। পীর ইয়ামেনী মার্কেটের মেহেদী ফ্যাশনের বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, ‘গত শুক্র, শনি ও রবিবার তিন দিন সরকারি বন্ধ ছিল— ওই কটাদিন বিক্রিবাট্টা ভালোই হয়েছে। এখন আবার কমে গেছে। তবে ১০ রোজার পর থেকে বিক্রি বাড়বে। এবার গতবারের চেয়ে ভালো বিক্রি হবে বলেই মনে হচ্ছে।’ আরেক বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা এখনো শুরু হয়নি। রেগুলার যেমন বিক্রি হয় তেমনই আছে। এখনও মানুষ আসছে না।’ রমনা ভবনে শাওন ফ্যাশনের কর্মী বেলায়েত শেখ বলেন, ‘ঈদ বাজার বলতে যেটা বোঝায়, সেটা এখনও শুরু হয়নি। যানজটের কারণে মানুষ আসতে চায় না। তবে খুব শিগগিরই বাজার জমবে।’ লামিয়া ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন আসলে ঈদের বাজার তেমন জমেছে বলা যাবে না। তবে সামনের শুক্রবার থেকে জমবে বলে আশা করছি। এখনও মানুষ আসা শুরু করেনি।’ ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে থাকে বাড়তি প্রস্তুতি ও বাড়তি উদ্দীপনা। ক্রেতারা যেমন চান নতুন পোশাকে নিজের ঈদকে রাঙাতে একইভাবে বিক্রেতারাও চান তাদের বিক্রি যেন ভালো হয়— তবেই তাদের ঈদও হয়ে উঠবে রঙিন।
Published on: 2024-03-20 13:07:00.321225 +0100 CET

------------ Previous News ------------