বাংলা ট্রিবিউন
নিত্যপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না

নিত্যপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না

নিত্যপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম বিলীন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনলাইনে অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হবে নিত্যপণ্যের উৎপাদক, আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের তালিকা। অ্যাপের মাধ্যমেই সহজে জানা যাবে কোন আমদানিকারক কোন পণ্য কত পরিমাণ আমদানি করেছেন, কত পরিমাণ বাজারজাত করেছেন, কত পরিমাণ পণ্য তার কাছে মজুদ আছে। একইভাবে অ্যাপেসের মাধ্যমেই জানা যাবে তালিকায় থাকা কোন পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে কত পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে বা বাজারজাত করেছেন। সরকার মনে করছে, এর মধ্য দিয়ে বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সুনিশ্চিত করা যাবে, কেউ অধিক মুনাফার আশায় মজুদ করতে পারবে না এবং এই সিস্টেমে থাকবে না কোনও মধ্যস্বত্বভোগী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকার স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্তভোগীর অস্তিত্ব বিলিন করারও উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ বাজার অস্থির করার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে এই মধ্যস্বত্তভোগীরা। তাদের দৌরাত্মেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। অনৈতিক মুনাফার আশায় সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি করে এরা। এতে কষ্ট বাড়ে ভোক্তার, বিব্রত হয় সরকার। এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে নিত্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় অনলাইন পদ্ধতি চালু করার কথা ভাবছে সরকার। এই কাজের জন্য নতুন অ্যাপ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীদের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভাউচার সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। সেই লাইসেন্সই নির্দিষ্ট করবে কে পাইকারি ব্যবসায়ী, কে খুচরা ব্যবসায়ী, আর  কে আমদানিকারক। সরকার উৎপাদক থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করবে। কে হোলসেল বা পাইকারিতে বিক্রি করলো, আর কে রিটেইল বা খুচরা বিক্রেতা তা পরিষ্কার থাকবে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকার লাইসেন্সের ব্যবস্থা করে দেবে। কে কোন পণ্যের হোলসেল করবে, কত পণ্য এলো, কত পণ্য বিক্রি হলো এগুলোর খোঁজখবর রাখা হবে। সূত্র আরও জানায়, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার বাজার ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যে অভিযান পরিচালনা করছে, তার মূল উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা, কাউকে ভয় দেখানো নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর, ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিয়মিতই বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে বলে সরকার দাবি করছে। এসব অভিযানে অধিক মূল্য, সরবরাহে ত্রুটিসহ নানাবিধ ত্রুটির অভিযোগে মুলত খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে দায়ী করা হয়। ফলে জেল জরিমানার মুখোমুখি হন খুচরা ব্যবসায়ীরা। সরকার মনে করে খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করা, জেল জরিমানা করার মধ্য দিয়ে বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। বাজার স্থিতিশীল করতে স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনার কোনও বিকল্প নেই। কোনও খুচরা ব্যবসায়ী যদি অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে ভাউচার ও মূল্য তালিকা দেখাতে পারে তাহলেই তিনি বেঁচে যান। জানতে চাইলে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল চিনি সরকার নির্ধারিত দামের কমে বিক্রি হচ্ছে। রমজানে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্যের সরবরাহ আছে। ডাল, তেল পেঁয়াজের পর্যপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোথাও কোনও প্রতিবন্ধকতা নাই। এ বিষযটি নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। তিনি জানান, কৃষি বিপণন অধিদফতর যে সব পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে এটি কিন্তু নির্ধারিত মূল্য নয়, এটি হচ্ছে পণ্যের এটা যৌক্তিক মূল্য ঠিক করে দিয়েছে। উৎপাদন খরচ, পরিবহন খরচসহ বিক্রয়মূল্য কতো হতে পারে তা ঠিক করে দেওয়া। এর সুবিধা হচ্ছে, যারা কৃষি পণ্য বিক্রি করছেন তারা যাতে বেঞ্চ মার্ক প্রাইসিংটা পান। আমরা কেবল এটা শুরু করেছি। ধীরে ধীরে যারা এসব পণ্যের উৎপাদক ও পাইকার তারা ফুল সাপ্লাই চেইনটা শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে তখন দামটা পর্যায়ক্রমে কমে আসবে। আমরা কাউকে বাধ্য করছি না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রশাসনকেও নির্দেশ দেওয়া আছে। আমরা সব জায়গা পর্যবেক্ষণ করছি। কেউ যদি অযৌক্তিক মুনাফা করে, মজুদদারি করে, তারা যদি অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। আমরা সব রকম নিত্যপণ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। তবে কিছু লোক আছে তারা সুযোগ বুঝে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবেই। তিনি সাংবাদিকসহ সমাজের সচেতন নাগরিকদের মনিটর করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করার তাগাদা দিয়েছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরেও অভিযোগ করার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাওরান বাজারের কিচের মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী শুক্কুর ট্রেডার্সের মালিক শফিকুল ইসলাম লাল মিয়া জানিয়েছেন, আমরাও একটা শৃঙ্খলার মধ্যে ব্যবসা করতে চাই। সরকার যদি বাজার ব্যবস্থাপনায় যে কোনও উপায়ে শৃঙ্খলা আনতে পারে তাহলে আমরা স্বাগত জানাবো। এ কাজে সহযোগিতাও করবো। আমরা চাই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক।
Published on: 2024-03-22 09:04:20.255525 +0100 CET

------------ Previous News ------------