বাংলা ট্রিবিউন
ভবনটির দ্বিতীয় তলা ছিল প্লাস্টিকের দানায় ঠাসা

ভবনটির দ্বিতীয় তলা ছিল প্লাস্টিকের দানায় ঠাসা

রাজধানীর চকবাজারের পশ্চিম ইসলামবাগ এলাকায় আগুন লাগা ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ছিল প্লাস্টিকের দানার গোডাউন। দ্বিতীয় তলা থেকেই সূত্রপাত হয় আগুনের। আর প্লাস্টিকের দানার কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ইসলামবাগের ওই ভবনের প্লাস্টিকের গোডাউনে  আগুন লাগে। শনিবার (২৩ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ ভবনটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, তখনও বের হচ্ছে ধোঁয়া। প্লাস্টিক পোড়া গন্ধ পুরো এলাকাজুড়ে। পশ্চিম ইসলামবাগের নামাপাড়া এলাকায় শহীদুল ইসলাম বাবুল রোডে অবস্থিত চার  তলা ভবনটির পুরোটাজুড়েই ছিল স্পন্সের স্যান্ডেল তৈরির কারখানা। ভবনটির নিচতলা ব্যবহার হতো জুতা ও খামারের শিট তৈরি করতে। আর দ্বিতীয় তলার একাংশে ছিল গোডাউন। তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রাখা হতো তৈরি জুতা এবং একটা অংশ ব্যবহৃত হতো প্যাকিজিংয়ের কাজে। তৃতীয় তলায় একটা অংশে শ্রমিকদের থাকার জায়গা। সরেজমিনে ভবনটিতে দেখা যায়, আগুনে দ্বিতীয় তলায় প্লাস্টিক শিটের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্বিতীয় তলার অপর একটি রুমে আগুন পৌঁছেনি। এছাড়া বাকি তলাগুলোতেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকরা দ্বিতীয় তলা থেকে প্লাস্টিক শিট বস্তায় ভরে অন্যত্র স্থানান্তরে কাজ করছিলেন। স্থানীয়রা জানান, ভবন ও কারখানার মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিল শহীদুল ইসলাম বাবুল। কারখানাটির নাম লৌহজং প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি। প্রায় ২০ বছর ধরে ভবনটিতে এই কারখানা চলে আসছে। কারাখানাটিতে মূলতো প্লাস্টিক রিসাইকেলিং-এর কাজ করা হয়। পুরোনো প্লাস্টিক গলিয়ে পরিণত করা হয় প্লাস্টিক দানায়। তা থেকে তৈরি করা হয় স্পন্সের স্যান্ডেল ও খামারের জন্য শিট। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখনও জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে— বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের ইনসিডেন্ট কমান্ডার উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিন ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখনও আগুনের সূত্রপাত কীভাবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানা যায়নি। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষে জানা যাবে আসলে কীভাবে আগুন লেগেছিল এবং কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।’ কারখানার কারিগর শুভ হোসেন আগুন লাগার বিষয়ে বলেন, ‘শুক্রবার ছুটি ছিল ছুটির আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বলা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কথা। যেহেতু বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল তাহলে তো শর্ট সার্কিট হওয়ার কথা না। আর ভবনটিতে কেউ ছিল না। এখনও বুঝতে পারছি না কীভাবে আগুন লেগেছে।’ আর কারখানা মালিকের ছোটোভাই আব্দুল কুদ্দুস রানা বলেন, ‘ভবনটিতে রাতে কেউ ছিলে না। কীভাবে আগুন ধরেছে বুঝতে পারছি না। ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে এখনও হিসাব করা হয়নি। রাতে ভবনে কেউ ছিল না।’ তবে স্থানীয়রা জানান,  রাতে অন্তত ২০-৩০ জন শ্রমিক থাকেন ভবনটিতে। অগ্নিকাণ্ডের সময়ও তারা ভবনে ছিলেন, পরে বের হয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ হোসেন জানান, বিদ্যুৎ থেকে আগুন লাগতেও পারে। আবার রাতে মানুষ থাকে তাদের কয়েল বা সিগারেট থেকেও আগুন ধরতে পারে। ছবি: প্রতিবেদক
Published on: 2024-03-23 12:05:46.165953 +0100 CET

------------ Previous News ------------