বাংলা ট্রিবিউন
পণ্যের ট্রাকে চাঁদাবাজি: যে পদক্ষেপ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

পণ্যের ট্রাকে চাঁদাবাজি: যে পদক্ষেপ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

দেশে বিভিন্ন উৎসব, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস ঘিরে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া নতুন কিছু নয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ সময় কারসাজি করে বাজারে পণ্যে দর বাড়ানোর জন্য ওত পেতে থাকে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও পণ্যের বর্ধিত মূল্যের জন্য নানা রকম অভিযোগ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন আটকে চলে চাঁদাবাজি। অভিযোগ যা-ই থাকুক, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস উঠে যায় সাধারণ ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হয় তাদের। তবে এ বছর রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে নতুন সরকার। এমনকি এজন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কমিটিও করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও বলছে, এ বছর রমজান মাসে অনৈতিকভাবে বাজারে ঊর্ধ্বগতি রুখতে মাঠে থাকবেন তারা। কোথাও কোনও অনিয়ম পেলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) অভিযোগ করেছে, রাস্তায় পণ্যবোঝাই পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। এসব বন্ধ না হলে পণ্যের দাম কমানো সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, রমজান ঘিরে কোনও পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। সেইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের কারসাজি ঠেকাতেও মাঠে থাকার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন ইউনিট। সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি করলে এসব মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও পাইকারি বাজার এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা তোলার সময় হাতেনাতে ৫১ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এদের গ্রেফতারের পর পণ্যবাহী গাড়িতে ঢাকার অন্তত ছয়টি স্পটে বিভিন্ন সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে চাঁদাবাজি হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব। এসময় রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাবুবাজার, গুলিস্তান, দৈনিক বাংলা মোড়, ইত্তেফাক মোড়, টিটিপাড়া, কাজলা, গাবতলী ও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালায় সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রমজানকে ঘিরে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি আমাদের মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে। ভোক্তা অধিকার অধিদফতরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই অভিযান চালাবো। সরকারের নির্ধারিত মূল্য বা বাজারমূল্য চেয়ে বাড়তি দামে পণ্যদ্রব্য যারাই পণ্য বিক্রি করবে। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন বাজারের তুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে, সরকারি বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি রাখা হচ্ছে, তাহলে এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মজুতদারি ও পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি ঠেকাতে মহাসড়কগুলোতে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে র‍্যাবের বিভিন্ন ইউনিট। এছাড়াও সড়ক-মহাসড়কে যেন চাঁদাবাজি না হয়, তা তদারকি করতে র‍্যাবের নিয়মিত টহল টিম সড়কে অবস্থান করবে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযান এখনও চলমান। বাসে ট্রাকে যারা চাঁদাবাজি করছে জড়িতদের প্রতিদিনই ধরা হচ্ছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী এসব অপকর্মে করতে দেওয়া হবে না।’ বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বিষয়ে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে, র‍্যাবের অধীনে দুয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। সুতরাং আমরা চাইলেও সব জায়গায় মুভ করতে পারি না। সেজন্য সবকিছু সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি।’ পথে পথে চাঁদাবাজির বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস ড. খ. মহিদ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পণ্যবাহী যানবাহনকে ঘিরে কোনও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা মহানগর পুলিশ এ বিষয়ে নজরদারি রাখছে। সম্প্রতি এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রমজান মাস ইবাদতের মাস। আপনারা সারা বছর ব্যবসা করেন, রমজান মাসেও করবেন। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে উৎসব উপলক্ষ্যে ছাড় দেওয়া হয়। আমাদের দেশে তেমন হতে হবে। কোনও ব্যবসায়ী পণ্যের বেশি দাম রাখবেন না। রমজান মাসে ন্যায্য লাভ করেন। অসৎ ব্যবসায়ীর পক্ষে এফবিসিসিআই কথা বলবে না। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এদিকে সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতর থেকে দেশের সব ইউনিটকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে অবৈধ মজুত রয়েছে, এমন গুদাম শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা অবৈধভাবে পণ্য মজুত করে অস্বাভাবিকভাবে মূল্য বাড়াচ্ছে, তাদের বিষয়েও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে সেজন্য নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি ও বাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে সিআইডি। এসব অপকর্ম যারা করছে, তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে ১২টি পৃথক দল গঠন করা হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের তাৎক্ষণিক আইনের আওতায় আনা হবে।
Published on: 2024-03-08 18:07:27.150005 +0100 CET

------------ Previous News ------------