বাংলা ট্রিবিউন
উৎপাদন শুরু হয়নি এস আলমের চিনির কারখানায়

উৎপাদন শুরু হয়নি এস আলমের চিনির কারখানায়

এখনও উৎপাদন শুরু হয়নি চট্টগ্রামে আগুন লাগা এস আলমের চিনির কারখানায়। তবে উৎপাদনে যাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। বাজারে এস আলমের চিনি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বেড়েছে চিনির দাম। শনিবার (৯ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে এস আলম গ্রুপের মানবসম্পদ কর্মকর্তা মো. হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার থেকে কারখানায় চিনি উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। এ লক্ষ্যে কাজও চলে। তবে কারখানা চালু করতে গিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এসব ত্রুটি সারানোর চেষ্টা চলছে। সবকিছু ওকে হলে আমরা উৎপাদনে যাবো।’ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) পুড়ে যাওয়া চিনির গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া গুদামটিতে এক লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি ছিল। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ চিনি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুগার রিলেটেড এত বড় অগ্নিকাণ্ড বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে।’ এস আলম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) আখতার হাসান বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া গুদামে ৮০ শতাংশ চিনি রক্ষা পেয়েছে। এসব অপরিশোধিত চিনি পরিশোধনের পর খাওয়া যাবে কিনা তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে এবং বিএসটিআইয়ের কাছে পাঠানো হবে। তারা যদি পজিটিভ বলে তাহলে এগুলো পরিশোধন করে বাজারে ছাড়া হবে। অন্যথায় এগুলো ডাম্পিং করা হবে।’ এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে থাকা চিনির ওপরের স্তরের ১০-২০ শতাংশ নষ্ট হতে পারে। কিন্তু নিচের চিনি ভালো আছে। এটি রিকভার করার জন্য পরিবেশ, বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর ছাড়পত্র লাগবে। কারণ, ওই সব দফতরের নিজস্ব তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বা হচ্ছে। এ বিষয়ে জড়িত প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে আমরা চিঠি দিচ্ছি, যাতে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে তারা তদন্তের কাজটি শুরু বা শেষ করতে পারে। তদন্তকাজ সম্পন্ন হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের রিকভারির কাজটি শুরু করতে পারবেন। বিএসটিআই বা সায়েন্স ল্যাব যদি ক্লিয়ারেন্স দেয়—ব্যবহারযোগ্য হলে চিনি রিকভার করা যাবে কিনা, সেক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শ নিতে পারি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপর সিএমপি কমিশনার, ফায়ার সার্ভিসের ডিজি ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যে টিম আছে সেটিও কাজ শুরু করেছে। আশা করি, কয়েকদিনের মধ্যেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়া যাবে এবং কীভাবে এ দুর্ঘটনা  ঘটেছে তা আমরা বলতে পারবো।’ সোমবার (৪ মার্চ) বিকাল ৩টা ৫৩ মিনিটে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকার এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে আগুন লাগে। এই আগুন শুক্রবার (৮ মার্চ) পুরোপুরি নিভে গেছে বলে কারখানার কর্মকর্তারা জানালেও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
Published on: 2024-03-09 10:55:12.150707 +0100 CET

------------ Previous News ------------