বাংলা ট্রিবিউন
ঈদের দিন চিড়িয়াখানায় লাখো দর্শনার্থী, দাবি কর্তৃপক্ষের

ঈদের দিন চিড়িয়াখানায় লাখো দর্শনার্থী, দাবি কর্তৃপক্ষের

রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানা অন্যতম। শিশুদের নানা পশুপাখির সঙ্গে পরিচিত করাতে অনেকেই সাধারণ সময়গুলোতেই যান সেখানে। তবে যেকোনও উৎসব-ছুটির দিনে মানুষের ঢল নামে এই বিনোদনকেন্দ্রে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ঈদুল ফিতরের প্রথম দিনও ছিল উপচে পড়া ভিড়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, এক লাখের বেশি দর্শনার্থী আজ চিড়িয়াখানায় এসেছে। বৃহস্পতিবার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে থাকেন। বিকালে সেই সংখ্যা বাড়ে। আগত দর্শনার্থীদের অধিকাংশ শিশু-কিশোর, যারা অভিভাবকদের সঙ্গে এসেছে। চিড়িয়াখানায় অবস্থিত বিভিন্ন পশুর খাঁচার সামনে ভিড় করছে তারা। অভিভাকদের কাছে পশু-পাখির নাম জানতে চাচ্ছে। অভিভাবকরাও আগ্রহ নিয়ে সন্তানদের পশু-পাখি চিনিয়ে দিচ্ছেন। বাড্ডা থেকে পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন মো. ইয়াসিন। তিনি বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় শিশুদের জন্য আসা। তাদের দাবি ছিল, ঈদে চিড়িয়াখানায় আসবে। এছাড়া আমার আত্মীয় এসেছেন, তারা এর আগে চিড়িয়াখানায় আসেনি, তাই সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি।’ শিশুদের বাস্তবিক জ্ঞান বাড়ছে জানিয়ে আশুলিয়া থেকে আসা মো. ইমরান বলেন, ‘সুযোগ করে শিশুদের চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা উচিত। এতে তারা বইয়ে যা দেখছে তা সামনাসামনি দেখার সুযোগ পায়। তাদের ধারণাও পরিষ্কার হয়।’ *এ বছর যুক্ত হয়েছে তিন নতুন বাঘশাবক* চিড়িয়াখানায় এ বছর নতুন কোনও পশু যুক্ত করা হয়নি। তবে চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া নতুন তিন বাঘশাবকে দর্শনার্থীদের সামনে এনেছে কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কোনও প্রাণী আনা হয়নি। তবে এখানে জন্ম নেওয়া তিন বাঘশাবকে এতদিন আমরা প্রশিক্ষণে রেখেছি। এবার ঈদে সেই তিনটি বাঘ শাবকে দর্শনার্থীদের সামনে এনেছি। এছাড়া আমাদের চিড়িয়াখানায় ১৩৭ প্রজাতির তিন হাজার দুইশ’ মতো প্রাণী আছে।’ নতুন করে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের সুরক্ষার জন্য কয়েকটি পশুর খাঁচার উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে এবং কয়েকটি পশুর পুরানো খাঁচা সংস্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানা পরিচালক। তিনি বলেন, ‘গত বছর হায়নার আক্রমণে এক শিশু হাত হারায়। তাই এ বছর নিরাপত্তার বিষয়টি আরও বেশি খেয়াল রাখা হচ্ছে। তবে আগত দর্শনার্থীদেরও সচেতন হতে হবে। আজও আমি কয়েকজন দর্শনার্থীকে নির্দিষ্ট বেষ্টনি পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখেছি।’ *ঈদের প্রথম দিন লাখো দর্শনার্থীর আগমন* ** চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের প্রথম দিন দর্শনার্থী কম থাকে। তবে এ বছর সেই সংখ্যাটা বেড়েছে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত খবর পেয়েছি এক লাখের ওপর দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছেন। গত বছরে ঈদের প্রথমদিন দর্শনার্থী এসেছিল ৭০ হাজারের মতো। দ্বিতীয় দিন ছিল ২ লাখ। এ বছর দ্বিতীয় দিন আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।’ জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার চিড়িয়াখানার সাপ্তাহিক বন্ধ। ছবি: প্রতিবেদক
Published on: 2024-04-11 15:59:39.436442 +0200 CEST

------------ Previous News ------------