বাংলা ট্রিবিউন
পহেলা বৈশাখে মেট্রোরেলে স্বস্তি, শুধু বেলুনে বিপত্তি

পহেলা বৈশাখে মেট্রোরেলে স্বস্তি, শুধু বেলুনে বিপত্তি

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। নানা আয়োজনে বাংলার মানুষ এদিন বরণ করে নেয় বাংলা নতুন বছরকে। গ্রামের ঐতিহ্যে লালিত এই উৎসব এখন স্বমহিমায় পালিত হচ্ছে নগরেও। এবারও চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছেন রাজধানীবাসী। সোহরাওয়ার্দী ও রমনা পার্কেও ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেকে। এবার সেই বৈশাখী আনন্দে বাড়তি স্বস্তি যুক্ত করেছে মেট্রোরেল। শাহবাগ ও রমনায় আসা উৎসবপ্রেমী মানুষেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সহজেই মেট্রোরেলে করে যাতায়াত করেছেন। তবে ফেরার পথে শিশুদের আনন্দে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেট্রোরেলের নিয়ম। মেট্রোরেলের নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস রয়েছে এমন কোনও কিছু স্টেশনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এ নিয়ম অনেকের জানা নেই। তাই বেড়াতে আসা শিশুদের প্রিয় বেলুন কিনে দেন অভিভাবকরা। তবে সেই বেলুনে গ্যাস থাকায় তা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন না স্টেশন গেটে দ্বায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা। এতে মন খারাপ করেছে শিশুরা। রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সন্ধ্যায় টিএসসি ও শাহবাগ স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকালে যেমন মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে মেট্রোরেলে করে আসেন অনেকে, সন্ধ্যায় যাওয়ার সময় ছিল আরও ভিড়। এছাড়া সারাদিনই ছিল উৎসব প্রেমীদের যাতায়াত। সকালে শোভাযাত্রায় অংশ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন নিয়ামুল করিম। তিনি মিরপুর কাজীপাড়ার বাসিন্দা। নিয়ামুল বলেন, মেট্রোরেল চালু থাকায় এবারের শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিন্ত ছিলাম। বাসার কাছ থেকে মেট্রোরেলে উঠেছি, আবার ঠিক শাহাবাগ এসে নেমেছি। আবার যাচ্ছিও কোনও ঝামেলা ছাড়াই। সন্ধ্যায় মেট্রোরেল টিকিট লাইনে দাঁড়িয়ে রুপা বলেন, মেট্রোরেলে টিকিট নিতেই যত কষ্ট। এরপর আর কোনও চিন্তা নাই। আগে আসলেও একটা টেনশন হতো কীভাবে ফিরবো। বাসগুলোতে জায়গা থাকতো না। কখনও জায়গা পেলেও চাপাচাপি ছিল। জ্যামে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতো। বাসচালকরাও গাড়ি থামিয়ে রাখতো। এক কথায় একটা অস্বস্তিকর জার্নি ছিল মেয়েদের জন্য। বাসায় ফিরতে ফিরতে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ মাটি হয়ে যেত। বেলুন রেখে দেওয়ায় মেট্রোরেলেই না চড়ার সিদ্ধান্ত জানায় শিশু আমির। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে করতে আমিরের বাবা সাইফুর রহমান বলেন, আমরা জানতাম না মেট্রোরেলে এসব নেওয়া যায় না। আমরা তো বুঝি। কিন্তু বাচ্চারা তো এসব বুঝতে চায় না। তাই বেলুন জমা দিয়ে যাচ্ছি।
Published on: 2024-04-14 17:21:07.343673 +0200 CEST

------------ Previous News ------------