বাংলা ট্রিবিউন
মেট্রোরেল চলাচলে আসতে পারে নতুন সূচি

মেট্রোরেল চলাচলে আসতে পারে নতুন সূচি

চালু হবার পর থেকেই স্বস্তির যান হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মেট্রোরেল। চলাচলের সময় কয়েক ধাপে বাড়ার সঙ্গে মেট্রোরেলে বেড়েছে যাত্রীর সংখ্যাও। বর্তমানে রাজধানীর উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সবগুলো স্টেশনে রাত পর্যন্ত যাত্রী উঠানামা করছে। রোজার আগে মেট্রোরেল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ১৬ রোজা থেকে (২৭ মার্চ) মেট্রোরেলের চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বাড়বে। এতে মতিঝিল থেকে সর্বশেষ ট্রেনটি ৮টা ৪০ মিনিটের পরিবর্তে ৯টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে। এবং উত্তরা উত্তর থেকে সর্বশেষ ট্রেনটি ৮টার পরিবর্তে ৯টায় ছাড়বে। এবং তা শুধু রমজান মাসের জন্য এমনটাই জানিয়েছিল ডিএমটিসিএল। গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, রোজার শেষ ১৫ দিন ঈদের কেনাকাটার জন্য রাত পর্যন্ত মানুষ বাইরে থাকবে, এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে আসবেন, তারা মেট্রোরেলে চলাচলের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে, তাই সব কিছু বিবেচনা করে মেট্রোরেল চলাচলের সময় ১ ঘণ্টা বাড়বে। এবং তা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ঈদের পরে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই সূচি বহাল থাকতে পারে। বর্তমানে ঈদের পরেও মেট্রোরেল বাড়তি সময় পর্যন্ত চলাচল করছে। মেট্রোরেল সূত্র বলছে, বাড়তি এক ঘণ্টায় কেমন যাত্রী পাওয়া যায় তার ওপর নির্ভর করে নতুন সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে চলাচলের সময় বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, আগামী সপ্তাহে নতুন সময় সূচি নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসবো। তখন সাংবাদিকদের জানানো হবে। এখন এই এক ঘণ্টা বেশি সময় ধরে চলাচল করবে। বাড়তি এক ঘণ্টায় কেমন যাত্রী পাচ্ছে মেট্রোরেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের আগে লোক বেড়েছিল। এখনও ঈদের ছুটির আমেজ পুরোপুরি যায়নি। আমরা আরও এক সপ্তাহ দেখবো– কেমন লোক হয় শেষের এক ঘণ্টায়, তারপর নতুন সময় সূচি নির্ধারণ করবো। তবে আগের মতো বাড়তি এক ঘণ্টায় চড়তে হলে যাত্রীদের নিজস্ব পাস থাকতে হবে। এই পাস দিয়ে তারা চলাচল করবেন। তখন একক যাত্রার টিকিট বিক্রি হয় না। ডিএমটিসিএল সূত্র জানা যায়, রমজান মাসের আগের ১৫ দিনের (১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ) হিসাব মতে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ মতো যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করেছেন। রোজা শুরুর ১৫ দিন এ সংখ্যা কিছুটা কমে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ যাত্রী চলাচল করেছেন। ১৬ রমজান থেকে মেট্রোরেলের চলাচল এক ঘণ্টা বাড়ানোর পর যাত্রীর সংখ্যা আবারও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমান সময় সূচি অনুযায়ী দৈনিক ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী মেট্রোরেলে করে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে আপাতত ৫ লাখ যাত্রী বহনের লক্ষ্য ডিএমটিসিএলের। উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে ৬ লাখের ওপরে যাত্রী বহন করা যাবে বলে জানা যায়। গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৯টার পর মেট্রোরেল চড়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত এ সময়ে যাত্রীর ভিড় না থাকলেও প্রত্যেক কোচেই পূর্ণ যাত্রী ছিল। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বেশি বহাল থাকলে বাড়ি ফেরা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। অনেক কর্মজীবী মানুষের রাত ১০টা পর্যন্ত বাইরে কাজ থাকে। তাদের বিষয়টিও বিবেচনা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন যাত্রীরা।
Published on: 2024-04-17 20:17:06.24461 +0200 CEST

------------ Previous News ------------