বাংলা ট্রিবিউন
বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকরাও বদলির সুযোগ পাচ্ছেন

বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকরাও বদলির সুযোগ পাচ্ছেন

দেশের বেসরকারি মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও বদলির সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির জন্য নীতিমালা তৈরি করছে সরকার। এরইমধ্যে বদলি নীতিমলার খসড়া দ্রুত তৈরি করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। এর আগে স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী বদলির জন্য খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এবার মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। প্রাথমিক স্তরের ইফতেদায়ি মাদ্রাসাসহ এমপিভুক্ত আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির জন্য এই নীতিমালা হচ্ছে। জানতে চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. জাকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দ্রুত খসড়া তৈরি করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা হলে শিক্ষকরা সুবিধজনক প্রতিষ্ঠানে বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন— এ লক্ষ্যে নীতিমালা করা হচ্ছে।’ জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য একটি নীতিমালা করতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচলককে নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য নীতিমালার একটি খসড়া প্রণয়ন করে পরবর্তী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। ওই নির্দেশনার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর গত ২৫ মার্চ খসড়া নীতিমালা তৈরি করতে একটি কমিটি গঠন করে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু নঈমকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— উপপরিলক (অর্থ), সহকারী পরিচালক (অর্থ), চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক, ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক, অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও উপরিচালক (প্রশাসন)। এই কমিটিকে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে বদলি নীতিমালার খসড়া তৈরি করে অধিদফতরে দাখিল করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক শিক্ষক নিজ এলাকার বাইরে চাকরি করছেন কিন্তু ফিরতে চান নিজ এলাকায়। অনেক শিক্ষক স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে রেখে বাইরে বাসা ভাড়া করে চাকরি করছেন। ইচ্ছা থাকলেও নিজ এলাকায় ফিরতে পারছেন না। নিজ এলাকায় বদলির সুযোগ থাকলে তাদের অর্থ সাশ্রয় হবে। অপরদিকে মনোযোগের সঙ্গে শিক্ষকতা করতে পারবেন। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে বেসরকারি মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির সুবিধা দিতে নীতিমালা করা হচ্ছে। সূত্রে জানায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তি দূর করা, মাদ্রাসায় দুর্নীতি রোধ, পাঠদান উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নীতিমালা হলে মাদ্রাসাগুলোয় যেমন দুর্নীতি কমবে, তেমনই শিক্ষকরাও পেশাগত উন্নয়ন করতে পারবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘বদলির ব্যবস্থা না থাকায় কোনও কোনও শিক্ষক প্রভাব খাটান। অধ্যক্ষ শিক্ষকদের নিজের পক্ষে রেখে দুর্নীতি করার সুযোগ নেন। বদলির ব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লেও তার বিরুদ্ধে শিক্ষকরা কিছু বলতে পারেন না। আর প্রতিবাদ করতে গেলে শিক্ষকদের চারকরি করা মুশকিল হয়ে পড়ে। এছাড়া গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি দুর্নীতিতে জড়ালেও শিক্ষকরা প্রতিবাদ করতে পারেন না। বদলির সুযোগ থাকলে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কমবে।
Published on: 2024-04-02 17:44:45.762775 +0200 CEST

------------ Previous News ------------