বাংলা ট্রিবিউন
ট্রেন হয়ে উঠেছে ঈদে বাড়ি ফেরার নিরাপদ বাহন

ট্রেন হয়ে উঠেছে ঈদে বাড়ি ফেরার নিরাপদ বাহন

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে এসেছে পবিত্র রমজান মাস। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদের আগমনী বার্তা। ঈদুল ফিতরে এবার বেশ লম্বা ছুটি পেয়েছেন কর্মজীবীরা। তাই পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাড়ি করতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন তারা। ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। আর এবার তাদের অনেকেরই বাড়ি ফেরার অন্যতম বাহন ট্রেন। সোমবার (৮ এপ্রিল) সকালে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রায় কমলাপুর স্টেশনে আজ ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। সকাল থেকেই একের পর এক ট্রেন ছুটে যাচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। দুই দফা টিকিট পরীক্ষা করার পর যাত্রীদের মূল প্ল্যাটফর্মে যেতে দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টার আগেই কমলাপু্র স্টেশন থেকে ডজন খানেক ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এবার অনলাইনে শতভাগ টিকিট বিক্রি হওয়ায় যাত্রীরা টিকিট নিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করছেন। তাই বিনা টিকিটে যাত্রী-প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের কেউ অনলাইন থেকে কাগজে টিকিট প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছেন, কেউবা মোবাইলেই টিকিটের ছবি দেখাচ্ছেন রেল কর্মীদের। টিকিটে থাকা নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েই যাত্রীদের ভেতরে যেতে দিচ্ছেন তারা। কারও কাছে টিকিট না থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা স্টেশনে দাঁড়িয়ে বিষয়টি তদারকি করছেন। আজ অধিকাংশ যাত্রী নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এসে অপেক্ষা করছিলেন। প্ল্যাটফর্মে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কোনও ভিড় না থাকায় নিজের আসন নিয়ে কোনও চিন্তা নেই বলে জানান যাত্রীরা। সবাই নির্বিঘ্নে ট্রেনে প্রবেশ করে নিজেদের সিটে বসে পড়ছিলেন। জানতে চাইলে রেলের এই ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি প্রকাশ করে যাত্রীরা বলেন, রেল যদি সব সময় এমন সেবা দেয় তাহলে টিকিটবিহীন যাত্রী কমে যাবে। এতে যাত্রাপথ হবে ঝামেলামুক্ত। তবে ট্রেন ছাড়তে একটু বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা। দেরিতে ট্রেন ছাড়ার বিষয়ে রাজধানী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তপু বলেন, আমি সব সময় ট্রেনে যাতায়াত করি। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার ট্রেন যাত্রায় অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। ট্রেন বিলম্ব করে ছাড়ছে, তবে আগের চেয়ে অনেক কমেছে। আশা করছি টিকিটের সমস্যার মতো এই সমস্যাও দূর হবে। টিকেট সমস্যার সমাধান ট্রেনের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেও জানান এই শিক্ষার্থী। ট্রেনে করে বগুড়া যাওয়ার উদ্দেশে কমলাপুর স্টেশনে আসেন নবী উল্লাহ নামের এক যাত্রী। সঙ্গে ছিল অনেকগুলো ব্যাগ ছিল। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, বেতন বোনাস পেয়ে সবার জন্য ঈদের নতুন পোশাক কিনেছি। এজন্য সাথে এতো গুলো ব্যাগ। বাবা মা ছেলে মেয়ে স্ত্রী সবার সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। এবার পর্যাপ্ত ছুটি পেয়েছি। সবার সঙ্গে ভালো সময় কাটবে। কমলাপুর স্টেশনে কোলে করে তিন বছর বয়সী শিশুকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তার মা রিতু। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ঈদে শ্বশুর বাড়িতে ঈদ করবো। এজন্য বাড়ি যাচ্ছি। বাড়ি ফেরা আনন্দ কেমন আছেন চাইলে এই যাত্রী বলেন, সবাই অপেক্ষায় উদগ্রীব হয়ে আছে কখন বাড়ি ফিরবো। সবার এমন অপেক্ষা বাড়ি ফেরার আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়। ট্রেনে করে বাড়ি ফেরার বিষয়ে এই যাত্রী বলেন, বাড়ি ফেরার সবচেয়ে নিরাপদ বাহন হচ্ছে ট্রেন। এখানে তেমন কোনও ঝামেলা বা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। আগে অবশ্য ট্রেনে উঠার আগে ঝামেলা পোহাতে হতো। এখন সেই ঝামেলা নেই। ট্রেনে উঠলেই প্রকৃতির যে নির্মল বাতাস আর ট্রেনের যে  শব্দ এটা অন্যরকম আনন্দ দেয়। এবারের ট্রেন যাত্রায় টিকিট নিয়ে কোনও ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হননি বলেও জানান তিনি। এদিকে ট্রেনগুলোয় যাত্রীর চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আজ কমলাপুর স্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটে ৬৯টি ট্রেন ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। তিনি বলেন, স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়াকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে অথবা বাম্পারে চড়ে ভ্রমণ না করার অনুরোধ করেন তিনি।
Published on: 2024-04-08 20:12:29.686003 +0200 CEST

------------ Previous News ------------