বাংলা ট্রিবিউন
আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যে লাভবান হবে সবাই

আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যে লাভবান হবে সবাই

আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্ট দ্রুত শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ভারত থেকে ১৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা এবং পাইপলাইন দিয়ে ডিজেল সরবরাহ চালু রয়েছে। নেপাল থেকে ভারতের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি রয়েছে চূড়ান্ত অবস্থায়। অন্যদিকে ভারতের মধ্য দিয়ে ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়েও আলোচনা চলমান রেখেছে সরকার। এর মাধ্যমে ২০১৪ সালে নেপালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে শিল্পে এবং সমাজে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আমদানি নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এ সহযোগিতা বিদ্যমান। এখন আমরা নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও একই ধরনের অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে চাই।’ *সবার জন্য লাভজনক* এ অঞ্চলে বড় দুটি অর্থনীতি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হচ্ছে পানি। অন্যদিকে ভারতের জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এমন একটি বিষয়, যেটি সবার জন্য লাভজনক। এ বিষয়ে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘চাহিদা ও জোগানের সাধারণ অর্থনীতি বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে এর মাধ্যমে গোটা অঞ্চল উপকৃত হবে।’ নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারত এর বড় বাজার এবং বিনিয়োগকারী। ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটানে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনার বিষয়ে সব দেশ একমত এবং এর মাধ্যমে সব দেশ উপকৃত হবে, বলেন তিনি। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জ্বালানি সহযোগিতা অ্যারেঞ্জমেন্টের একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি হয়ে গেলে ওই অ্যারেঞ্জমেন্ট অন্যান্য বিষয়ে কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’ *নেপালের সঙ্গে সহযোগিতা* নেপালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সমীক্ষা করা হবে এবং ওই প্রকল্পে বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বিনিয়োগে আগ্রহী। এছাড়া ভারতের জিএমআর কোম্পানি কারনেলি প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে এবং ভারতের মধ্য দিয়ে ওই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে।’ ত্রিদেশীয় সহযোগিতার বিষয়ে ভারত সম্মত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত জ্বালানি অ্যারেঞ্জমেন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক জ্বালানি ব্যবসা করার আইনি ভিত্তিও তৈরি হবে।’ এই অ্যারেঞ্জমেন্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে নেপালে এবং বাংলাদেশ ও ভারত হবে বিনিয়োগকারী এবং বাজার। একইসঙ্গে ভারত একটি গ্রিড কানেকশন ও সঞ্চালন ব্যবস্থা তৈরি করবে বলে তিনি জানান।
Published on: 2024-04-09 20:13:49.50108 +0200 CEST

------------ Previous News ------------