বাংলা ট্রিবিউন
বেড়েছে রাবার উৎপাদন, আয় এক কোটি ১৭ লাখ টাকা

বেড়েছে রাবার উৎপাদন, আয় এক কোটি ১৭ লাখ টাকা

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হলদিয়া রাবার বাগানে বেড়েছে উৎপাদন। সেইসঙ্গে বেড়েছে লাভের পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বাগান থেকে লাভ এসেছে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে লাভ এসেছিল ৭৪ লাখ টাকা। সামনের দিনে লাভের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে লাভজনক হলেও বাগানের দিকে চোখ পড়েছে ভূমিদস্যুদের। বাগানের ভেতরে মাটি খনন করে গড়ে তোলা হয়েছে মাছ চাষের প্রজেক্টসহ নানা স্থাপনা। অবৈধ দখলদারের কারণে হুমকির মুখে এই বাগান। *বাগানের অবস্থান* রাউজান উপজেলার ১ নম্বর হলদিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় এর অবস্থান। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানের আয়তন দুই হাজার ৮৫৭ একর। হলদিয়া, শিরনী বটতল, ইয়াসিন নগর, বৃক্ষবানুপুর, বৃন্দাবনপুর, জানিপাথর, গলাচিপা, দক্ষিণ কিরাম, কিরাম ও গর্জনিয়া এলাকার অংশ নিয়ে গড়া এটি। *রাবার গাছ* বাগানে বর্তমানে তিন লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭টি গাছ আছে। এর মধ্যে উৎপাদনে আছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২টি। চারাগাছ আছে এক লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯টি। জীবনচক্র হারানো গাছের পরিমাণ ২৯ হাজার ৩৯২টি। বাগানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাবার গাছ সাত বছর থেকে অর্থাৎ গাছটি ১৮ ইঞ্চি হলে কষ আহরণের উপযোগী হয়। একটি গাছ টানা ২৫ বছর কষ দেয়। ৩৩ বছর পর গাছ জীবনচক্র হারিয়ে ফেলে। যেসব গাছ জীবনচক্র হারিয়েছে, বা কষ পাওয়া যাচ্ছে না—সেগুলো কেটে ফেলা হয়। বড় গাছগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত সরকারি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায়। সেখানে অন্যান্য গাছের সঙ্গে রাবার গাছের সাহায্যে তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন নানা আসবাবপত্র। *বেড়েছে উৎপাদন* ১৯৯০-৯১ অর্থবছর থেকে এই বাগানে উৎপাদন শুরু হয়। ওই বছর উৎপাদন হয় ২০ হাজার ২৩৭ কেজি, ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছরে আট হাজার ৪৭ কেজি, ১৯৯২-১৯৯৩ অর্থবছরে ১৮ হাজার ১১৫ কেজি, ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থবছরে ৩৪ হাজার ৯৮৫ কেজি, ১৯৯৪-১৯৯৫ অর্থবছরে ৮৭ হাজার ৩৩৬ কেজি, ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে এক লাখ ৬৯ হাজার ৭৪৮ কেজি, ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছরে দুই লাখ ১০ হাজার ৩৫০ কেজি, ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছরে ৬৭ হাজার ৫৪৭ কেজি, ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছরে ৯৮ হাজার ৫২১ কেজি,  ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৬৫ হাজার ১৪০ কেজি, ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ৯৪ হাজার ১৩৯ কেজি, ২০০১-২০০২ অর্থবছরে ৫২ হাজার ৭৩ কেজি, ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে এক লাখ ৩০ হাজার ২২৫ কেজি, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে এক লাখ ৬৩ হাজার ২৮০ কেজি, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৫১ কেজি, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে এক লাখ ৯০ হাজার ৪২৭ কেজি, ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে দুই লাখ চার হাজার ৬৫০ কেজি, ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে দুই লাখ ৫১ হাজার ১৪৫ কেজি, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দুই লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ কেজি ও ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৯৭৩ কেজি। এছাড়া ২০১০-২০১১ অর্থবছরে দুই লাখ ২৯ হাজার ১০৪ কেজি, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে দুই লাখ ৩৭ হাজার ৯১৪ কেজি, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬০৩ কেজি, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮৭৮ কেজি, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে তিন লাখ দুই হাজার ৪২৩ কেজি, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে তিন লাখ চার হাজার ২২১ কেজি, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে তিন লাখ ৩১ হাজার ১৪৭ কেজি, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৪৪ কেজি, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তিন লাখ ৫৬ হাজার ১৬৩ কেজি, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তিন লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৫ কেজি, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দুই লাখ ৯৯ হাজার ২১২ কেজি, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে তিন লাখ ২৫ হাজার ৩৫৬ কেজি এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে চার লাখ ২৩ হাজার ১২৭ কেজি রাবার উৎপাদন হয়েছে। *বাগানের জায়গা বেদখল* বাগানের আয়তন দুই হাজার ৮৫৭ একর হলেও অন্তত ৬০০ একর জমি রয়েছে বেদখলে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যুরা এসব জমি দখল করে স্থাপনা গড়েছে। এ প্রসঙ্গে হলদিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক সুজিত রায় ভৌমিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৮১ সালে যখন বাগান তৈরি হয়, তখনও ৫৭৫ একর জমি বেদখলে ছিল। বাগান তৈরির পর আরও ১৫ দশমিক ২৫ একর জমি বেদখল হয়ে যায়। যা এখনও আমরা উদ্ধার করতে পারিনি।’ স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, এলাকার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জমি দখল করে বাগানের মাঝখানে গড়ে তুলেছে কৃত্রিম লেক। করেছে মাছ চাষ। কেউ কেউ করেছে খামারসহ নানা বাগান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগানের এক শ্রমিক বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের কারণে আমরা যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, তেমনি নানা হুমকি পাচ্ছি। কিছুতেই দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না।’ তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানালেন বাগানের ব্যবস্থাপক সুজিত রায় ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বাগানে উৎপাদন যেমন বাড়ছে তেমনি লাভও বাড়ছে। রাবার বিক্রি করে চলতি অর্থবছরে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং গেলো অর্থবছরে ৭৪ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে রাবারের দাম প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা। দেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়।’
Published on: 2024-05-01 04:27:20.347656 +0200 CEST

------------ Previous News ------------