ইত্তেফাক
নানা দিক থেকে চক্রান্ত চলছে : প্রধানমন্ত্রী

নানা দিক থেকে চক্রান্ত চলছে : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা দিক থেকে চক্রান্ত চলছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে দেশকে পঙ্গু করতে চায়। অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যা করে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য। দেশবাসীকে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষ যখন শান্তিতে রয়েছে, তখন তারা হরতাল ও অবরোধের নামে আগুন সন্ত্রাস ও লুটপাট করছে। শুধু তাই নয়, পরিকল্পিতভাবে পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে। পোশাক শ্রমিকদের রাস্তায় নামানো হয়েছে। অবরোধের নামে সহিংসতা প্রতিরোধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি দফায় দফায় বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এবার ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। শতকরা ৫৬ ভাগ বাড়ানো হয়েছে। আন্দোলনের নামে ১৯টি কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। যারা তাদের (শ্রমিক) উস্কানি দিচ্ছে, তারাই তাদের ধ্বংস করবে। এটা শ্রমিকদের বুঝতে হবে। বর্তমান নতুন মজুরি নিয়েই পোশাক শ্রমিকদের কাজ করতে হবে। যারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারখানায় যদি আগুন দেয় তাহলে তো কারখানা থাকবে না। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে তাদেরকে তো গ্রামে ফিরে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, ভোট দেওয়া জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। জনগণের এই অধিকার সুরক্ষা দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করি, সাংবিধানিক অধিকারে বিশ্বাস করি। জনগণের ভোটের মধ্যে দিয়েই কিন্তু আওয়ামী লীগ বার বার ক্ষমতায় এসেছে। পচাত্তরের পর অস্ত্রের জোরে যেসব সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা সন্ত্রাস ও লুটপাট ছাড়া জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট মানুষ পুড়িয়ে আন্দোলন করে। মানুষকে অত্যাচার করে, মানুষ পুড়িয়ে তারা উল্লাস করে। এদের প্রতি শুধুই ঘৃণা।’ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ  ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকারকে উত্খাত করতে হবে! পদত্যাগ করতে হবে! কি কারণে?’ আমরা তো বিএনপির ওপর কোনো গ্রেনেড হামলাও করিনি বা কোন অত্যাচারও করিনি।’ কারো নাম উল্লেখ না করে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ হত্যা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, হাসপাতালে হামলা এসব যারা করে তাদের আটক করা হবে না তো কী করা হবে? যারা এসব সন্ত্রাস করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এভাবে মানুষ মারবে, অগ্নিসন্ত্রাস করবে, মানুষকে নির্যাতন করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা এটা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সরকারে আছি এটা আমাদের কর্তব্য।’ বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘আমরাও আন্দোলন করেছি, আমরা তো কখনো মানুষ পুড়িয়ে উল্লাস করে আন্দোলন করিনি। আমাদের আন্দোলনের একটা গণতান্ত্রিক ধারা ছিল।’ আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পর পর তিনবার ক্ষমতায়, সাধারণত ক্ষমতায় থাকলে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যায় অথবা জনপ্রিয়তা কমে। আওয়ামী লীগের কিন্তু জনপ্রিয়তা কমেনি। ৭০ শতাংশ মানুষ আমাদের ওপর নির্ভরতা (আস্থা) রাখে। তারা মনে করে আওয়ামী লীগ থাকলে আমাদের কল্যাণ হবে, মঙ্গল হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার, বিদ্যুত্সহ অনেক খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। বিনামূল্যে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশ এ সুবিধা দিয়েছে? শেখ হাসিনা বলেন, একটি বিষয় দেখলাম যারা বামপন্থী। এই বামপন্থীর সঙ্গে ডানপন্থী, জামায়াতে ইসলামী সব এক হয়ে একই কথা বলে। এটা হলো কীভাবে? তারা এক হয়েছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ কী অপরাধ করেছে জানতে চাই। দেশবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন আওয়ামী লীগের অপরাধ কী? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন বিএনপির রেখে যাওয়া খাদ্য ছিল মানুষ মাত্র ৭৯ মেট্রিক টন। সেখান থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ১ কোটি ৮৯ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উত্পাদন করে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। বিএনপি ক্ষমতায় এসে এক ছটাক খাদ্যও উৎপাদন করতে পারেনি। বিশেষ করে সাক্ষরতার হার আমরা ৪৫ ভাগ থেকে ৭৬ ভাগে উন্নীত করেছি। হতদরিদ্রের হার ছিল ২৫ পার্সেন্ট সেখান থেকে ৫ ভাগে আমরা নামিয়ে এনেছি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠক শুরু হয় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। ৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী সংসদের এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্ব নেতৃবৃন্দের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে যারা থাকবেন এবং যারা জনপ্রিয় তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। কে কি করছে সব খবর আমার কাছে রয়েছে। জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে কয়েক দফা। প্রতি ছয় মাস পরপর জরিপ আপডেট করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। যাকে প্রার্থী করবো, তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।  প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে যত উন্নয়ন হয়েছে, সেসব তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির জ্বালাও- পোড়াও কর্মকান্ডের চিত্রও জনগণের কাছে তুলে ধরার নির্দেশনা দেন। সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় তিন মাস পর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হলো।
Published on: 2023-11-09 23:19:51.277364 +0100 CET