ইত্তেফাক
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ইশতেহার আনছে আওয়ামী লীগ

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ইশতেহার আনছে আওয়ামী লীগ

*আওয়ামী লীগ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণা করবেন। আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলে জনগণকে কী কী উপহার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ২০০৮ সালে ‘দিনবদলের সনদ’ শিরোনামে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টানা দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসে দলটি। ২০১৮ সালে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ এবং ‘২১০০ সালের মধ্যে নিরাপদ বদ্বীপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা দেওয়া হয়।* জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ স্লোগানে থাকবে সুশাসন নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান, সহজলভ্য প্রযুক্তি ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা। এদিকে আগামীকাল বুধবার সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করে তিনি জনসভায় যোগ দেবেন। এটাই তার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রথম নির্বাচনি জনসভা। দলীয় সূত্র জানায়, ইশতেহারে বিগত নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের হিসাব-নিকাশ যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে নতুন নতুন চমক। ইতিমধ্যে দলীয় ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির কাজ শেষে তা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু সংযোজন-বিয়োজন এবং তথ্য হালনাগাদের কাজ চলছে। আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের রূপরেখাও থাকবে। দেশকে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ করতে নানা পরিকল্পনাসহ পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বত্র প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও শিল্পোন্নয়নের রোডম্যাপ। এছাড়া ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সোসাইটি’, ‘স্মার্ট ইকোনমি’ ও ‘স্মার্ট সরকার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও আওয়ামী লীগের ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার উপকমিটি গঠন করা হয়। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাককে আহ্বায়ক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদকে সদস্যসচিব করা হয়। ইশতেহার কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ড. মসিউর রহমান, ড. অনুপম সেন, ড. সাত্তার মন্ডল, ড. বজলুল হক খন্দকার, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. শামসুল আলম, ডা. দীপু মনি এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এমপি, শেখর দত্ত, ড. মাকসুদ কামাল, ড. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সাজ্জাদুল হাসান এমপি, অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত এমপি, অ্যাডভোকেট সায়েম খান, সাদিকুর রহমান চৌধুরী ও সাব্বির আহমেদ এফসিএ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার কমিটি গঠন করার পর একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পেশাজীবীরা তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। ইশতেহার প্রণয়নে এবারই প্রথম গণমানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কমিটিতে যারা রয়েছেন, তাদের মাধ্যমে কৃষক-শ্রমিকসহ নানা পেশাজীবী মানুষ, স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ীসহ সবার মতামত নিয়ে ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। সারা বিশ্বে যে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এই সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা, সেটা অতিক্রম করা এবং যুগান্তকারী উন্নয়নের সুফল যাতে মানুষ পায়, সেটা নির্বাচনি ইশতেহারে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান, শহর ও গ্রামের মানুষের জন্য সত্যিকারের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটির সদস্যসচিব এবং দলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ, এটা আমাদের ইশতেহারের মূল থিম। এটার সঙ্গে একটা স্লোগান থাকবে। স্লোগান এখনো ঠিক করা হয়নি। স্মার্ট বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে স্লোগানটি তৈরি করা হবে।’ জানা গেছে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী জনবল গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই লক্ষ্যে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে ‘উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য’ নির্ধারণ করে কর্মসূচি নিচ্ছে দলটি। এর বাইরে কৃষি, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুতের উত্পাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে থাকছে সুস্পষ্ট কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে আরও থাকছে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গঠন, বিদেশনির্ভরতা কমানো এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র রোধে নানা কর্মসূচি। এছাড়া স্মার্ট অর্থনীতি গড়তে ক্যাশলেস, সার্কুলার, উদ্যোক্তামুখী, জ্ঞানভিত্তিক, গবেষণা ও উদ্ভাবননির্ভর বিষয়গুলো ইশতেহারে দেখা যেতে পারে। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যথাসময়ে শেষ করার পরিকল্পনা থাকবে ইশতেহারে। এছাড়া অবকাঠামো খাতে থাকছে সুষম উন্নয়নের রূপরেখা।
Published on: 2023-12-19 01:13:51.350461 +0100 CET