ইত্তেফাক
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষোভ

এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষোভ

*দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে  নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গতকাল বুধবারও ছিল বাদ পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভিড়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধানকে ‘কৌশল’ আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল দ্বিতীয় দিনে ইসিতে ১৪১টি আপিল আবেদন জমা হয়, আগের দিন জমা হয় ৪২টি। এ নিয়ে গত দুই দিনে মোট আপিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৩টি।* গতকাল তিনটি আপিল হয়েছে মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে। বাকিগুলো বাতিলের বিরুদ্ধে। আপিলকারীদের বেশির ভাগই বাদ পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং এদের  অনেকেরই এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জটিলতার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এ নিয়ে আপিল করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৯ স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে ৬৭টি সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল ঢাকা অঞ্চল থেকে ২৩টি, কুমিল্লা অঞ্চল থেকে ১৬টি, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে  ৯টি, ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ছয়টি, সিলেট অঞ্চল থেকে চারটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ১৯টি, বরিশাল অঞ্চল থেকে ছয়টি, খুলনা অঞ্চল থেকে ১৮টি, রাজশাহী অঞ্চল থেকে ২৬টি এবং রংপুর অঞ্চল থেকে ১৪টি আপিল আবেদন জমা হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংক্ষুব্ধরা আপিল করতে পারবেন। আর ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করবে ইসি। বাদ পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষোভ: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকা জমা দেওয়ার পরও তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসন নিয়ে গিয়ে যাচাই করার কারণে ভয়ে অনেকে স্বাক্ষর দেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। যাচাই না করে ইচ্ছাকৃতভাবে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে। রিটার্নিং অফিসারের যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ইসিতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিধানটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। নেত্রকোনা-৫ আসনের প্রার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন গতকাল নির্বাচন ভবনে আপিল করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট থেকে দূরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখানোর আইন করা হয়েছে। এই আইন পরিবর্তন হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে এমন পদ্ধতি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এটা একটা কৌশল। আইনটা পরিবর্তন হওয়া উচিত। ঢাকা-১৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ খান বলেন, ভোটার স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন, এজন্য ভয়ে হয়তো অনেক স্বাক্ষরকারী স্বীকার করেননি। সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল চান জাহিদ ফারুক: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুসারে রিটার্নিং অফিসার কোনো প্রার্থীর মনোননয়পত্র বৈধ ঘোষণা করলেও তার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবেন। গতকাল বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে ঐ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুকের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে। জাহিদ ফারুকের পক্ষে তার মনোনয়নপত্রের সমর্থনকারী কে বি এস আহমেদ ইসিতে এ আপিল আবেদন জমা দেন। কে বি এস আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার পরও রিটার্নিং অফিসার স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। আমরা বিষয়টি তখন নজর এনেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেননি রিটার্নিং অফিসার। এজন্য ইসিতে আপিল করা হলো। আশা করি, নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানি করে সঠিক রায় দেবেন। এছাড়া যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের বৈধ প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ঐ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিত কুমার রায়। ময়মনসিংহ-৫ আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন জনৈক ফকরুল আলম। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশা হিরো আলমের: বগুড়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম) তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আপিল করেন। আপিল দাখিলের পর তিনি বলেন, ছোটখাটো ভুলের কারণে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থিতা ফিরে পাব। আপিল করলেন ডলি সায়ন্তনী: মনোনয়ন বাতিল হওয়া পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার একাংশ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী গতকাল ইসিতে আপিল করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে এবার ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল ৭৪৭টি স্বতন্ত্রসহ ২ হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাছাইয়ে বাতিল করেছেন ৭৩১টি। আর বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৯৮৫টি মনোনয়নপত্র। বাতিল হওয়া ৭৩১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪২৩টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। আর দলীয় প্রার্থীদের ৩০৮টি। ইসির নিবন্ধন পেল আরও ২৯টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা :নিবন্ধন পাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডরপ), প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, সোসাইটি ফর রুরাল বেসিক নীড় (স্রাবন), সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম, রুরাল ভিশন (আরভি), তরফসরতাজ শান্তি সংঘ (টিএসএস) বগুড়া, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোস্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা), পাথওয়ে, এমপাওয়ারমেন্ট থুল অব দ্য কমন পিপল (এলকপ), জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, নাইস ফাউন্ডেশন, নারী উন্নয়ন সংস্থা, সুফিয়া হানিফ ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিউনিটি অর্গানাইজেশন (সাকো), সবার তরে আমরা ফাউন্ডেশন (এসটিএএফ) ও বিয়ান মনি সোসাইটি। অগ্রগতি সেবা সংস্থা (আসেস), আল-কোরআন প্রচার সংস্থা (আকপস) বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল আসফ লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন, এআরডি (অ্যাসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট), বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ), রাজারহাট স্বাবলম্বী সংস্থা, সংগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থা, উদ্ভাবনী মহিলা সংস্থা, ভলান্টারি অর্গানাইজেশন ফর দ্য নীডি (ভন), দিনাজপুর পল্লী উন্নয়ন প্রচেষ্টা (ডিপিইউপি), সেলফ ডেভলপমেন্ট ইনিসিয়েটিভ (এসডিআই) ও বেডো আর্থসামাজিক কেন্দ্র।
Published on: 2023-12-07 03:25:36.346459 +0100 CET