ইত্তেফাক
নির্বাচনের পর ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজারে সূচক ও লেনদেন দুই-ই বেড়েছে

নির্বাচনের পর ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজারে সূচক ও লেনদেন দুই-ই বেড়েছে

*জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের শেয়ার বাজার কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের পর গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই সূচক বেড়েছে। বেড়েছে লেনদেনও। এই সময়ে ফ্লোরপ্রাইসে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারদর ফ্লোর ছেড়ে উঠে আসছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ফ্লোরপ্রাইস (শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য স্তর) তুলে দিলে বাজার এখন স্থিতিশীল হবে। নতুন বিনিয়োগ আসবে।* সাপ্তাহিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ি সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসইর) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এছাড়া, বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকটি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা এক দশমিক ১৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি শূন্য দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বাড়ে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে ১৩ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে এক দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। গত সপ্তাহে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৫০ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। তথ্য বলছে, ডিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ২ হাজার ১৯৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। সে হিসাবে ডিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনকৃত মোট কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ৩৩টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০০টির দর । খাতভিত্তিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ি সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়েছে সাধারণ বিমা খাত। মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ খাত। এছাড়া লেনদেনে এগিয়ে থাকা অন্যান্য খাতের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, খাদ্য, ভ্রমণ, প্রযুক্তি ও কাগজ খাত। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল পাট খাত। এ খাতে রিটার্ন কমেছে দশমিক ৯ শতাংশ। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ১৮ হাজার ৬৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮ হাজার ৫০৯ পয়েন্টে। বিদায়ি সপ্তাহে সিএসইতে মোট ৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সপ্তাহ জুড়ে এই বাজারে লেনদেনকৃত মোট ২৬২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৬টির, কমেছে ২৬টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩০টির দর।
Published on: 2024-01-13 22:48:32.165775 +0100 CET