ইত্তেফাক
অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং থেকে অফশোর ইউনিটে তহবিল স্থানান্তর বন্ধ

অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং থেকে অফশোর ইউনিটে তহবিল স্থানান্তর বন্ধ

*দেশের ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং থেকে অফশোর ইউনিটে তহবিল স্থানান্তরের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।* মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এখন থেকে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের ডমেস্টিক ব্যাংকিং থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে কোনো ডলার বা তহবিল স্থানান্তর করতে পারবে না। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে এর আগে স্থানান্তর করা তহবিল পর্যায়ক্রমে মূল ব্যাংকে ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অফশোর ইউনিট হলো কোনো ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশ থেকে আমানত সংগ্রহ করে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বিতরণের জন্য গঠিত পৃথক ইউনিট। দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব ব্যাংকেরই অফশোর ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৯ সালে ডমেস্টিক ব্যাংকিং থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ে তহবিল স্থানান্তরের সীমা ব্যাংকের মোট রেগুলেটরি মূলধনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০২০ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে এটি বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু ব্যাংকের ডমেস্টিক ব্যাংকিং থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ে স্থানান্তরিত তহবিল নির্ধারিত সীমার বেশি ছিল। এ কারণে ২০২১ সালের মধ্যে এ তহবিল ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় অধিকতর গতিশীলতা আনয়ন এবং ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং অপারেশনকে ডমেস্টিক ব্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে ডমেস্টিক ব্যাংকিং থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ে তহবিল স্থানান্তর রহিত করা হলো। এর আগে ডমেস্টিক ব্যাংকিং থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ে স্থানান্তরিত তহবিল পর্যায়ক্রমে হ্রাসপূর্বক আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে সমন্বয়ের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো।’ দেশের ব্যাংক খাতে ডলার-সংকট তীব্র হয়ে ওঠায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ডলার-সংকট কেটে গেলে ভবিষ্যতে এ শর্ত আবারও শিথিল করা হতে পারে।
Published on: 2024-01-17 22:07:29.16197 +0100 CET