ইত্তেফাক
দূষিত পানিতে ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়বে দেশ

দূষিত পানিতে ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়বে দেশ

*জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নলকূপের পানি দূষিত হয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের কয়েক কোটি মানুষ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্রমশ তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অপ্রত্যাশিত বন্যা ও তীব্র বৈরী আবহাওয়ায় দেশের সুপেয় পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। এতে বেড়ে যাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি।* বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বিজ্ঞানবিষয়ক পিএলওএস ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিবন্ধটি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে দ্য গার্ডিয়ান। গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের অনেকেই ইতোমধ্যে বিষাক্ত আর্সেনিকের কারণে ত্বক, মূত্রাশয় ও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষণা নিবন্ধের প্রধান গবেষক নরউইচ ইউনিভার্সিটির ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. সেথ ফ্রিসবি। তিনি বলেন, সুপেয় পানিতে আর্সেনিক বিষের মাত্রা বাড়াই হচ্ছে—মূল সমস্যা। এটা কোনো তাত্ত্বিক অনুশীলন নয়। তিনি আরও বলেন, আর্সেনিক প্রাকৃতিকভাবেই উৎপন্ন হচ্ছে। আর হিমালয় থেকেই সেটি ধেয়ে আসছে। সুতরাং গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, ইরাবতী এবং মেকং নদীর অববাহিকা প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হচ্ছে আর্সেনিক। ফ্রিসবি আরও বলেন, ‘আমার বর্তমান হিসাবে বাংলাদেশের প্রায় ৭৮ মিলিয়ন বা ৭.৮ কোটি মানুষ আর্সেনিকের সংস্পর্শে এসেছে। আর কমিয়ে হিসাব করলেও বাংলাদেশের প্রায় ৯ লাখ মানুষ ফুসফুস ও মূত্রাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ নিবন্ধে আরও বলা হয়, ক্রমাগত আর্সেনিক গ্রহণের ফলে শরীরের ভেতরে তা জমা হতে থাকে। হাতের তালু এবং পায়ের পাতায় ফুসকুঁড়ির মতো ত্বকের সমস্যা দেখা দেওয়ার মাধ্যমে—মানুষ এর উপস্থিতি টের পায়। একই প্রক্রিয়া শরীরের ভেতরেও ঘটতে থাকে। ফুসফুসসহ শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আর্সেনিকের বিষ জমা হয়। এর ফলে ক্যান্সারের সূত্রপাত হয়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে পানিতে আর্সেনিক দূষণের সূত্রপাত হয় ১৯৭০-এর দশকে। ওই সময় দূষিত ভূগর্ভস্থ পানির জন্য শিশুমৃত্যুর হারে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। গৃহস্থালি কাজ, ফসলের সেচ এবং মাছ চাষে গভীর নলকূপের পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে তখন জাতিসংঘের বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা এবং এনজিওর অর্থায়নে ব্যাপক কর্মসূচি চালানো হয়।
Published on: 2024-01-18 17:01:04.768036 +0100 CET