ইত্তেফাক
সি-ফাইন্যান্স লুট করেছে ১০০ কোটি টাকা

সি-ফাইন্যান্স লুট করেছে ১০০ কোটি টাকা

*থেমে নেই ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণা। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে একেকটি নাম দিয়ে চলছে এ প্রতারণা। সর্বশেষ এমটিএফইর (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) ১০ হাজার কোটি টাকার প্রতারণার পর ই-কমার্স জগতে নতুন প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে সি-ফিন্যান্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান। হাল আমলের সবচেয়ে সুরক্ষিত অ্যাপস ‘টেলিগ্রাম’-এর মাধ্যমে এই সি-ফিন্যান্স নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সারা দেশে প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে প্রতারিত গ্রাহকরা থানায় জিডি করেও কূলকিনারা পাচ্ছেন না। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের অভিযোগ, ‘পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি’র ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্তের ব্যাপারে একেবারে হাত গুটিয়ে নিয়েছে।’* এসব বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বলেন, ই-কমার্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং আইনের মামলার কয়েকটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন। মামলাগুলোর শিগিগর চার্জশিট দেওয়া হবে। সি-ফাইন্যান্স নামের নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ই-কমার্স-ভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে ঐ প্রতিষ্ঠান কী ধরনের প্রতারণা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। সি-ফাইন্যান্স নামের ই-কমার্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রতারিত এক ব্যক্তি গত ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় একটি জিডি করেন। জিডির বাদী জুবায়ের আলম সিদ্দিক। মহাখালীর দক্ষিণ পাড়ার ক-৮৬ নম্বর বাড়িতে তিনি থাকেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ নভেম্বর টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে (https//dalas.top)(c-finance) বিভিন্ন কাজের অফার অনুযায়ী বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ ৭ হাজার টাকা জমা দেন। এরপর থেকে ঐ সার্ভার আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচালিত সি-ফাইন্যান্স নামের প্রতিষ্ঠানটির হদিস মিলছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বনানী থানায় দায়ের করা জিডির সূত্র ধরে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে পুলিশ দেখতে পায় যে সি-ফাইন্যান্সের নামে জমা করা টাকাগুলো বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার পর ব্যাংকের শাখা ম্যানেজারের অনুরোধে টাকা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সিলেটের সিটি ব্যাংক আম্বরখানা শাখায় নাসিমা বুটিকস গ্যালারি নামে একটি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন হয়েছে। আবার সি-ফাইন্যান্সের নামে জমা হওয়া ডাচ-বাংলা ব্যাংক চট্টগ্রাম ইপিজেড শাখায় শ্রী উৎপল দাসের নামের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া কয়েক লাখ টাকা বিভিন্ন দফায় উত্তোলন করা হয়েছে। এরকম সারা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় কয়েকশ অ্যাকাউন্ট থেকে গত দুই মাসে প্রায় একশ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে, গত বছরের আগস্ট মাসে সারা দেশে ই-কমার্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এমটিএফইর ১০ হাজার কোটি টাকার প্রতারণার একটি অভিযোগেরও সমাধান হয়নি। বাংলাদেশে ভার্চুয়ালি এমএলএম কোম্পানি এমটিএফই চালু করেন কুমিল্লার বাসিন্দা মাসুদ আল ইসলাম। এসব প্রতারণার ঘটনায় সারা দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় শতাধিক মামলা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের আগেই এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) প্রতারণার হোতা মাসুদ আল ইসলাম দুবাই পালিয়ে যান। প্রতারণার এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের একটি তালিকা করে সিআইডি। এরপরও এমটিএফইর ১০ হাজার কোটি টাকার প্রতারণার কোনো কূলকিনারা হয়নি। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট সূত্র জানায়, সারা দেশে ২৪টি ই-কমার্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতারণার ঘটনায় সারা দেশে দায়ের হওয়া মামলার ১০৫টি মামলা সিআইডি তদন্ত করছে। মামলায় প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী ১০ হাজার কোটি টাকা প্রতারকরা আত্মসাৎ করেছে। তবে এদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে ১১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রাজধানীর গুলশান থানায় ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সবচেয়ে বড় অঙ্কের ২৩২ কোটি ৪৩ লাখ ৩ হাজার ৭৮৬ টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি। এই মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র দুইটি মামলার চার্জশিট দিতে পেরেছে। বাকি ৯টি মামলার চার্জশিট প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে।
Published on: 2024-01-21 03:11:45.049663 +0100 CET