ইত্তেফাক
দেশ জুড়ে শীতের কামড়

দেশ জুড়ে শীতের কামড়

*হাড় কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় ঠাণ্ডার সঙ্গে কুয়াশার ভারী আবরণে ‘মাঘের শীত বাঘের গায়’-এর বৈরী পরিস্থিতির আবর্ত দেশ জুড়ে। কনকনে শীতের প্রকোপে কাবু হয়ে পড়েছে মানুষ। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব জেলায় কামড় বসিয়েছে শীতের তীব্রতা। দেশের ১৪ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।* গতকাল সকালে ঢাকায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশের প্রায় সর্বত্রই গতকাল ভারী কুয়াশায় ছেয়ে ছিল। সূর্যের দেখা মেলেনি। কোথাও কোথাও ক্ষণিকের জন্য উত্তাপহীন ধূসর সূর্যমুখ দেখা গেলেও তাতে হাড় কাঁপানো শীত পীড়িতদের ন্যূনতম উষ্ণতা দিতে পারেনি। রাত নামতেই অসহনীয় মাত্রায় বেড়ে যায় শীতের দাপট। গতকাল দিবানিশি বহু স্থানে ভারী কুয়াশা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরেছে। বিপর্যস্ত জনজীবন। মানুষের দুর্বিষহ অবস্থা। উত্তরের অবস্থা বড় সঙ্গীন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কায়িক শ্রমিক-নিম্ন আয়ের মানুষ। ক্ষতি হচ্ছে রবিশস্যের। কষ্ট বেড়েছে শ্রমজীবী শিশু-বৃদ্ধদের। ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভিড় করছেন হাসপাতালে। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। টাঙ্গাইলে তীব্র শীতে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়কযোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটেছে। একদিকে কনকনে ঠাণ্ডা, অন্যদিকে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কারণে রংপুর, রাজশাহী বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের বহু জেলার সব মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়া সাপেক্ষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও কোনো কোনো জেলায় তা কার্যকর হয়নি। এ নিয়ে অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে আজ থেকে সারা দেশে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে সকাল ১০টায় ক্লাস শুরুর নির্দেশনা প্রদান করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নির্দেশনা বহাল থাকবে। এ বছরের শীত মৌসুম শুরুর পর উত্তরের জনপদগুলো শীত-কুয়াশায় কাহিল হলেও এবার তার আঁচ পাচ্ছে রাজধানীবাসী। গতকাল দিনভর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ঢাকার জনপদসমূহ। চলতি মাসের শুরু থেকে হাড় কাঁপানো শীতের পর দুই দিন রোদ ওঠায় দিনের বেলায় শীতের তীব্রতা কিছুটা লাঘব হয়েছিল। কুয়াশার দাপটও তেমন একটা দেখা যায়নি। কিন্তু গত রবিবার দিনগত রাত থেকে উত্তুরে হিমেল বাতাসে ফের জেঁকে বসেছে শীত। আবহাওয়া বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মাস জুড়েই থাকবে শীত। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। কোথাও কোথাও দিনেও হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। ভূপৃষ্ঠ রোদের টানা উত্তাপ না পাওয়া অবধি শীতের তীব্রতা কমবে না। লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল বুধবার দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। ঘন কুয়াশাও কাটতে পারে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছী ও দিনাজপুরে—৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যান্য মৃদু শৈত্যপ্রবাহকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে যশোর ও কুষ্টিয়ায় ৯.৮ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গায় ৯.৫, টাঙ্গাইল ৮.৯, মাদারীপুর ৯.৯, কিশোরগঞ্জে ১০, মাদারীপুরে ৯.৯, রাজশাহীতে ১০, ঈশ্বরদীতে ৯.২, বগুড়ায় ৯.১, সৈয়দপুরে ৮.৮, ডিমলায় ৮.৮, রাজারহাটে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন জানান, আগামীকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪০ জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, মাস জুড়েই অব্যাহত থাকবে শীতের প্রকোপ। শীতের তীব্রতা আজ মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকবে। বুধবার থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। পরদিন থেকে আবার আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। আমাদের বগুড়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর স্টাফ রিপোর্টার, সৈয়দপুর সংবাদদাতা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী সংবাদদাতা, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সংবাদদাতা, দিনাজপুরের ফুরবাড়িয়া সংবাদদাতা, পাবনা প্রতিনিধি, নাটোরের গুরুদাসপুর সংবাদদাতা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি, নাটোর সংবাদদাতা, চূয়াডাঙ্গার জীবননগর সংবাদদাতা, নওগাঁর রাণীনগর সংবাদদাতা, পাবনার চাটমোহর সংবাদদাতা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিগণ তাদের পাঠানো প্রতিবেদন ও রিপোর্টে ভয়াবহ শীতে মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের কারণে স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধের খবর জানিয়েছেন। কোনো কোনো স্থানে শৈত্যপ্রবাহ হলেও স্কুল বন্ধ করা হয়নি।
Published on: 2024-01-23 01:26:35.543558 +0100 CET