ইত্তেফাক
রূপগঞ্জে নিরপরাধীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

রূপগঞ্জে নিরপরাধীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

*নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় নিরপরাধী মো. মাসুম মিয়া বাবুকে (২৬) মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার দিকে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের পুলিশ। তার কাছে ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে মারধর ও স্বীকারোক্তিও আদায় করা হয়। মো. মাসুম মিয়া বাবুর মা ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাসুদা বেগম সম্প্রতি ইত্তেফাক অফিসে আসেন। ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং নিজের সন্তানকে নির্যাতনের বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।* কিছুক্ষণ পরে জ্ঞান ফিরে এলে তিনি বলেন, তার ছেলে কখনো মাদক খায়নি, মাদক ব্যবসাও করে না। পিবিআই কিংবা র‍্যাব দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে—এটা তিনি নিশ্চিত। সুষ্ঠু তদন্তে ছেলে অপরাধী হলে তাকে যে কোনো শাস্তি দেওয়া হলে কোনো আপত্তি থাকবে না। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পুলিশের সোর্স মাদক দিয়ে তার সন্তানকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন মাসুদা বেগম। তিনি বলেন, জেলখানায় তিনি তার ছেলের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় বাবু তার মাকে বলেন, পিটিয়ে, নির্যাতন করে এবং ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে দুই পুলিশ সোর্স মহসিন ও মানিক বাড়িতে এসে তাদের হুমকি দিয়ে বলেন, এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার ছেলের কপালে খারাপ আছে। এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগেও উল্লেখ আছে। বরপা এলাকাটির একটি অংশ পড়েছে রূপগঞ্জ থানার মধ্যে। আরেকটি অংশ পড়েছে সোনারগাঁও থানার মধ্যে। মাসুম মিয়া বাবুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে রূপগঞ্জ থানায়। তবে তার এলাকা পড়েছে সোনারগাঁওয়ে। তাকে যখন উঠিয়ে নেওয়া হয়, তখন সেটি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি দেখেছিলেন। বৃদ্ধা মাসুদা বেগম সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় আয়েস আলী নামের এক প্রভাবশালীর প্রতারণামূলক জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় বিরোধ চলছিল। এছাড়া ঐ আয়েস আলীর আত্মীয় হন পুলিশ সোর্স বাচ্চু। বাবুর বোন শিরিন খানকে এক ব্যক্তি জানায়, লাখ টাকার বিনিময়ে বাবুকে ধরা হয়েছে। ৬ লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে টাকা না দেওয়ায় পরে তাকে মিথ্যা সাজানো মামলায় জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে বাবু নারায়ণগঞ্জ জেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। যেসব পুলিশ সদস্য টাকার লোভে মানুষকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। কারণ আর অন্য কোনো মায়ের নির্দোষ সন্তানকে যেন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলায় ফাঁসাতে না পারে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বাবু নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তিনি নিজেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করেছে। বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করে দেখবেন বলে তিনি জানান।
Published on: 2024-01-03 20:34:08.738434 +0100 CET