ইত্তেফাক
১৬ মাস পর দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন ছাড়াল শেয়ার বাজারে

১৬ মাস পর দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন ছাড়াল শেয়ার বাজারে

*চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি 'ফ্লোর প্রাইস' প্রত্যাহারের পর দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ছাড়াল দেড় হাজার কোটি টাকা। গত প্রায় সাড়ে ১৬ মাস পর এটি সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে ডিএসইতে ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৮১১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। গতকাল এই বাজারে লেনদেনের পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। লেনদেনকৃত কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮১ শতাংশের।* বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আতঙ্ক কাটিয়ে শেয়ার বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারমুখী হচ্ছেন। তবে, উদ্বেগের বিষয় হলো: অনেক বন্ধ ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর লাফিয়ে বাড়ছে। এটা বাজারের জন্য নেতিবাচক। কারণ, সামগ্রিক বাজারের ওপর তা বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ ব্যাপারে দ্রুত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের পর বাজারে লেনদেন বাড়ছে-এটা একটি ভালো দিক। তবে অনেক বন্ধ ও জাঙ্ক শেয়ারের (দুর্বল কোম্পানি) দাম বাড়ছে, এটা ভয়ের কারণ। আমি বিনিয়োগকারীদের বলব এসব কোম্পানির শেয়ার এড়িয়ে যেতে। বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইডিএলসি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, বাজারে এখনো অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর অবমূল্যায়িত আছে। বিনিয়োগকারীদের এসব কোম্পানির শেয়ারে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলে বাজার সাসটেইন (টিকবে) করবে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬৬.৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৮০.৭৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৭১ পয়েন্টে ও বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৭.৯২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৪.৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। প্রধান মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি গতকাল ডিএসইতে ১ হাজার ৫৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১২২ কোটি ৯ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৪৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ডিএসইর তথ্য বলছে, গতকাল এই বাজারে লেনদেনকৃত কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২১টির, কমেছে ৪৪টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দর। দেশের প্রধান এই শেয়ার বাজারে গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো: ফু-ওয়াং ফুড, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ফরচুন সুজ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ, মালেক স্পিনিং, এনভয় টেক্সটাইল, আইএফআইসি ব্যাংক, একমি পেস্টিসাইড এবং এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স। অন্য বাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১৮ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। গতকাল সিএসইতে লেনদেনকৃত মোট ২৯৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২২৬টির, কমেছে ৪৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির দর। উল্লেখ্য, শেয়ার বাজারের পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ২০২২ সালের ২৮ জুলাই ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর গত ২১ জানুয়ারি প্রথম দফায় ৩৫টি বাদে বাকি সব কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়। পরে ২৩ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ২৩টি কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে শেয়ার বাজারে মাত্র ১২টি কোম্পানির ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপিত আছে।
Published on: 2024-02-05 03:19:59.457515 +0100 CET