ইত্তেফাক
ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না শেয়ার বাজার

ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না শেয়ার বাজার

*টানা দরপতনে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দেশের শেয়ার বাজার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের পর বাজার কিছুটা গতিশীল হলেও এখন টানা সূচকের পতনে লেনদেন হচ্ছে। গত চার সপ্তাহ ধরে প্রায় একই অবস্থা।* বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিদায়ি সপ্তাহে গ্রামীণফোন ও ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারে বাজারে সূচকের বড় পতন হয়েছে। এছাড়া, দুর্বল কোম্পানিগুলোকে 'জেড' ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এরও প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে বাজারের সব চেয়ে বড় ক্ষতি করছে গুজব রটনাকারীরা। শীর্ষ ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ঢাকা স্টক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছায়েদুর রহমান এ প্রসঙ্গে গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, মূলত নানা গুজবের কারণে বাজারে এ দরপতন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের শেয়ার বিক্রি করছেন। অথচ তাদের শেয়ার গুজব রটনাকারীরা কিনে নিচ্ছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদে ফান্ডামেন্টালি ভালো শেয়ারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে দেশের ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন কমেছে ২২ হাজার ৫৬ কোটি টাকার বেশি। এরমধ্যে ডিএসইতে বাজার মূলধন কমেছে ১১ হাজার ৮৯৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২৭ টাকা। আর সিএসইতে বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ১৬০ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ডিএসই তথ্য বলছে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৭ কোটি ৭৩ লাখ ৪১ হাজার ৭৭ টাকা। আর তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭২৩ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৪ টাকা। অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ৮৪০ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ টাকা। আর তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৫৩ হাজার ১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে দেশের প্রধান বাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২.২৭ পয়েন্ট বা ১৪১.৭৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬১১২ পয়েন্টে। বিদায়ি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫৪৪ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার। অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৮১ কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তার আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬৭ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। লেনদেন বাড়লেও গত সপ্তাহেও সিএসইতেও সূচক কমেছে। এই বাজারের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৭৭ পয়েন্ট বা ২.১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এ প্রসঙ্গে গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, দূর্বল কোম্পানিগুলোকে 'জেড' ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে আগের আইন অনুয়ায়ী। এ ব্যাপারে নতুন কোনো আইন করা হয়নি। অথচ, এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা গুজব ছাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্ধ যেসব কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে দেয়া হয়েছে এর মধ্যে পাঁচ-সাতটি খুব শিগগির উৎপাদনে যাবে। এছাড়া, অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দিলে ক্যাটাগরি পরিবর্তন হবে। পিপলস লিজিং লেনদেনে ফিরছে জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে গুজব ছড়িয়ে জুয়ারিরা কম দামে শেয়ার কিনে নিচ্ছে। তাই বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন করে আর কোনো কোম্পানিকে 'জেড' ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করার বিষয়ে বিএসইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি বা স্টক এক্সচেঞ্জকে দেয়নি। এ ছাড়া নতুন কোনো কোম্পানির শেয়ার ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়নি।
Published on: 2024-03-10 00:27:53.696648 +0100 CET