যায়যায়দিন
বাজারে আটা ৬৫ টাকা, ময়দা ৭০ টাকা

বাজারে আটা ৬৫ টাকা, ময়দা ৭০ টাকা

দেশের আটা-ময়দার বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে এবার দাম বাড়ল আটা ও ময়দার। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আটার কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং ময়দার কেজিতে সর্বোচ্চ ৬ টাকা বেড়েছে। আমদানি হলেও তেমন কমেনি আলুর দাম। তবে মাসখানেক আগে চড়া দামে বিক্রি হওয়া সবজির বাজার কিছুটা ঠান্ডা হয়েছে শীতের সবজি আসায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত বছর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাজারে আটা ও ময়দার অস্বাভাবিক দর বেড়ে যাওয়ার পর কয়েক মাস আগে কিছুটা কমে আসে। প্রায় তিন মাস এক রকম স্থির ছিল দর। তবে সম্প্রতি চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বেড়েছে আটার ক্রেতা। সেজন্য আটা-ময়দার দামও এখন বাড়তি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী, তেজকুনিপাড়াসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে ৫০ কেজি ওজনের আটার বস্তায় ২শ’ টাকা আর ময়দায় বেড়েছে ৩শ’ টাকা। সে হিসেবে আটার কেজিতে ৪ এবং ময়দার কেজিতে ৬ টাকা করে বেড়েছে। এদিকে পাইকারিতে দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়েও। বাজারে খোলা আটার কেজি ৪৮ থেকে ৫০ এবং প্যাকেট আটার কেজি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে খোলা আটা ৪২ থেকে ৪৫ এবং প্যাকেট আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে খোলা ময়দার কেজি ৫৫ থেকে ৬০ এবং প্যাকেট ময়দার কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দাম বেড়ে এখন খোলা ময়দা ৬০ থেকে ৬৬ এবং প্যাকেট ময়দার কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা আটার কেজিতে সাড়ে তিন এবং প্যাকেট আটার ১৪ শতাংশ দর বেড়েছে। একই সময় ময়দার কেজিতে বেড়েছে ৮ থেকে ৯ শতাংশ। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায় আলমগীর বলেন, ‘কয়েকদিনে সব ধরনের চালের দর কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা বেড়েছে। হয়তো এজন্য আটা-ময়দার দামও বেড়েছে।’ আমদানিকারকদের তথ্যমতে, দেশে বছরে গমের চাহিদা রয়েছে ৮৫ থেকে ৮৬ লাখ টন। তবে উৎপাদন হয় খুবই সীমিত। ফলে প্রতিবছর গম আমদানি করতে হয় ৭৪ থেকে ৭৫ লাখ টন যার সিংহভাগই আমদানি হয় ইউক্রেন থেকে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর গম আমদানি ব্যাহত হয়। তখন দেশের আটা-ময়দার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। খোলা আটার কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় ওঠে। একইভাবে ৪০ থেকে ৪৫ টাকার ময়দার কেজি বেড়ে হয় ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। অন্যদিকে, ডিলাররা পাইকারিতে চিনির দর আরও বাড়িয়েছেন। ৫০ কেজি ওজনের চিনির বস্তা গত সপ্তাহে ৭ হাজার থেকে কিছুটা কমে বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করছেন ৭ হাজার ১শ’ থেকে ৭ হাজার ২শ’ টাকা দরে। তাতে খুচরা পর্যায়ে খোলা চিনি কিনতে ক্রেতাকে গুণতে হচ্ছে দেড়শ’ টাকার মতো। এক সপ্তাহ ধরে বাজারে প্যাকেট চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। কারওয়ান বাজারের হাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী কামাল গাজী বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে চিনির বাজার বাড়তি। ডিলাররা এখন খোলা চিনির বস্তা বিক্রি করেন ৭ হাজার ২শ’ টাকায়। সেজন্য চার-পাঁচ দিন ধরে চিনি বিক্রি বন্ধ রেখেছি।’ ভারত রপ্তানি মূল্য বেঁধে দেওয়ার পর দেশের বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম হু হু করে বেড়ে ১১০ থেকে ১২০ টাকা উঠেছিল। তবে ২০ টাকার মতো দাম কমে এখন ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকার আশপাশে। মাসখানেক আগে আগুন লেগেছিল সবজি বাজারে। শীতের সবজি আসায় এখন সেই চিত্র নেই। বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-11-17 04:43:33.803041 +0100 CET